সোমবার, এপ্রিল ২২

ওটায় ভোট দেবেন না, ওটা বাজে মেশিন: মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভার দিন পরিবর্তন হয়ে গেলেও উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় সূচি অনুযায়ী নিজের নির্বাচনী প্রচার সভা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি বিরোধিতার পাশাপাশি এ দিনের সভা থেকে তৃণমূল সমর্থকদের উদ্দেশে নির্দিষ্ট ভোটিং মেশিনে নির্দিষ্ট চিহ্ন দেখে তবেই ভোট দেওয়ার আর্জি জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। আর তারপরেই উপস্থিত জনসাধারণকে খানিকটা নির্দেশের সুরে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘পাশে আরেকটা মেশিন থাকবে। ওটায় ভোট দেবেন না। ওটা বাজে মেশিন।’

দার্জিলিংয়ের তৃণমূল প্রার্থী অমর সিং রাইয়ের সমর্থনে এই নির্বাচনী সভা থেকে শুরু থেকেই কেন্দ্রের উদ্দেশে তোপ দাগছিলেন মমতা। ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’ স্লোগান তুলে বিজেপি, কংগ্রেস, সিপিএমকে ভোট না দিয়ে তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার আর্জি জানান মুখ্যমন্ত্রী। তারপরেই তিনি তুলে আনেন ভোটিং মেশিন প্রসঙ্গ। হুঁশিয়ারির সুরে মমতা বলেন, “এই কথাটা আপনারা ভালো করে শুনে নিন। এটা খুব ইম্পর্ট্যান্ট কথা।” মমতা বলেন, “আপনারা যখন ভোট দিতে যাবেন, তখন দেখবেন দুটো মেশিন। এক নম্বর মেশিনের মধ্যে জোড়াফুল চিহ্ন দেখে তবেই ভোট দেবেন। পাশে আরও একটা মেশিন থাকবে। ওটায় ভোট দেবেন না। ওটা বাজে মেশিন। ওটাই ভোট দিলে আপনার ভোট জলে যাবে।” মমতার মুখে এ কথা শোনার পর শোরগোল ওঠে উপস্থিত জনতার মধ্যে। এ কী বলছেন মুখ্যমন্ত্রী? দুটি মেশিন থাকবে, এ কথার মানেই বা কী?

তারপরেই অবশ্য সবার সব কৌতূহল দূর করে দেন মমতা। বলেন, “এ বার দার্জিলিংয়ে ভোটে লড়ছেন ১৭ জন প্রার্থী। কিন্তু একটা ভোটিং মেশিনে ১৬ জন প্রার্থীর নাম লেখা যায়। তাই দু’নম্বর মেশিনে শুধুমাত্র নোটা ( নান অফ দ্য অ্যাবাভ ) থাকবে। তাই ওই মেশিনে ভোট দিলে আপনাদের ভোট জলে যাবে।” মমতার মুখে এ কথা শোনার পরেই প্রকৃত ব্যাপারটা বুঝতে পারেন উপস্থিত জনতা। পরে অবশ্য সবাই চিৎকার করে মুখ্যমন্ত্রীর এই আর্জিতে সম্মতি জানান।

সেই পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে থেকে ভোটিং মেশিন নিয়ে অভিযোগ মমতার। কখনও বলেছেন, ইচ্ছে করে ইভিএমে কারচুপি করে ভোটে জেতার চেষ্টা করছে বিজেপি। কখনও আবার অভিযোগ করেছেন, যে চিহ্নেই ভোট দেওয়া হোক না কেন, তা সরাসরি গিয়ে বিজেপিতেই পড়ছে। এমনকী, কর্মীসভায় দলীয় কর্মীদের পইপই করে বলে দিয়েছিলেন, ভোটিং মেশিন ভালো করে পরীক্ষা করে নিতে। যাতে কোনও রকমের কারচুপি না হয়। তাই এ দিনের সভা থেকে ভোটিং মেশিনের প্রসঙ্গ তোলায় উপস্থিত জনতা হয়তো ভেবেছিলেন ফের মেশিনে কারচুপির কথা তুলছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু তাঁর বিশ্লেষণের পরেই পরিষ্কার হলো পুরো ছবিটা।

আরও পড়ুন

এমনি কাজ নেই, ও দিকে পরেশের মেয়ে নিয়ম ভেঙে চাকরি পায়: মুকুল

Shares

Comments are closed.