রেশন কার্ড নিয়ে মানুষের হয়রানি হচ্ছে, সহ্য করব না: মমতা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডিজিটাল রেশন কার্ড নিয়ে মানুষের হয়রানি হলে সরকার তা সহ্য করবে না বলে কড়া বার্তা দিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার হাওড়া শরৎ সদনে হাওড়া জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে সরকারি আধিকারিকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বহু মানুষ রেশন কার্ড হাতে পাননি। তাঁরা রেশন নিতে পারছেন না। দ্রুত তাঁদের কাছে কার্ড পৌঁছে দিতে হবে। এ নিয়ে কোনও ঢিলেঢালা ভাব বরদাস্ত করা হবে না।”

    এ দিন প্রশাসনিক বৈঠকের মাঝেই শিবপুরের তৃণমূল বিধায়ক বর্ষীয়ান জটু লাহিড়ি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রেশন কার্ড নিয়ে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, “খাদ্য দফতর আবেদন জমা নিয়েছিল, আর কার্ড বিতরণ করেছেন কাউন্সিলররা। এটাতেই সমস্যা হচ্ছে। এক হাতে কাজটা হলে এই সমস্যা হতো না।” এরপরই  খাদ্য দফতরের এক আধিকারিককে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এখন তো আর হাওড়ায় কাউন্সিলর নেই। এ বার তোমরা ব্যাপারটা টেক ওভার করে নাও।”

    খাদ্য দফতরের তরফে দু’জন আধিকারিক হাওড়া জেলার রেশন কার্ড বিলির দায়িত্বে। গ্রামীণের দায়িত্বে থাকা আধিকারিক মাইক হাতে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়ে দেন, “আমরা ১০০ শতাংশ কার্ড মানুষকে পৌঁছে দিয়েছি।” এরপর শহরাঞ্চলের দায়িত্বে থাকা আধিকারিককে দাঁড় করান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “আপনার এখানে এত সমস্যা কেন?” তাঁর কথা বলার আগেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিজ্ঞাপন দিয়ে কাজ হবে না। মাইক প্রচার করুন। মানুষকে বুঝিয়ে বলুন, কোথা থেকে কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। এখনও কার্ড না থাকলে কী করে তাঁরা তা পেতে পারেন। সবটা বুঝিয়ে বলুন।” মুখ্যমন্ত্রী প্রচারকে আরও কী ভাবে নিবিড় করতে হবে তারও পরামর্শ দেন এ দিন। বলেন, “শুনুন, মাইক প্রচার মানে কিন্তু বলে দিয়ে হুস করে চলে গেল, তা নয়। এক জায়গায় দাঁড়িয়ে বলতে হবে। দরকার হলে ক্যাসেট করুন। সেটা বাজান।”

    বিধায়ক এবং বিগত বোর্ডের কাউন্সিলরদের উদ্দেশে মমতা বলেন, “তোমরা একটু সাহায্য করে দিও।” সরকারি আধিকারিকদের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তোমরা ওদের (বিধায়ক-কাউন্সিলরদের) বলবে। ওরা দেখবে। কিন্তু মানুষ যেন বঞ্চিত না হয়।” জটু লাহিড়ির অভিযোগ, “যাঁর কাছে ২ টাকার রেশন কার্ড যাওয়ার কথা, তাঁর কাছে ১৩টাকার কার্ড গেছে, এ রকম ঘটনা প্রচুর রয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সব পুজোর আগে মেটাতে হবে। ১৫ দিন পর আমায় রিপোর্ট দেবেন কী কাজ হল। কতটা প্রচার হল।”

    পর্যবেক্ষকদের মতে, ডিজিটাল রেশন কার্ড নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সমস্যা রয়েছে। বহু মানুষ তা হাতে পাননি। কিন্তু হাওড়ায় এটা নিয়ে বিশেষ করে গুরুত্ব দেওয়ার পিছনে রাজনৈতিক কারণও আছে মুখ্যমন্ত্রীর। এই প্রচার এবং কার্ড বিতরণের কাজ সরকারি আধিকারিকদের পক্ষে করা সম্ভব নয়। আর শহর হাওড়ায় যা ঘিঞ্জি বসতি, তাতে একটা হোল্ডিং খুঁজতে সরকারি আধিকারিকদের এক মাস কাবার হয়ে যেতে পারে। পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, হাওড়া কর্পোরেশনের ভোট হয়তো সামনের বছর। তাই মুখ্যমন্ত্রী হয়তো রেশন কার্ডকে অস্ত্র করেই স্থানীয় নেতাদের (বিদায়ী কাউন্সিলর) মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার বার্তা দিয়ে দিলেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More