বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

শুধু গ্রুপবাজি করেছিস, তোর জন্য হেরেছি কোচবিহারে, রবি ঘোষকে ভর্ৎসনা মমতার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোচবিহারে এ বার প্রেস্টিজ ফাইট ছিল শাসক দলের। সেই লড়াইয়ে হারতে হয়েছে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত নিশীথ প্রামাণিকের কাছে। উত্তরবঙ্গের এই জেলার সংগঠন নিয়ে যে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অসন্তুষ্ট, তা অনেকদিন ধরেই টের পাওয়া যাচ্ছিল। বিষ্যুদবার যেন তা সপ্তমে পৌঁছল।

দলের বিধায়কদের বৈঠকে কোচবিহারের নেতা তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে তীব্র ভর্ৎসনা করলেন দিদি। তৃণমূল ভবনের ভরা হল ঘরে বললেন, “শুধু গ্রুপবাজি করেছিস। কাজের কাজ কিচ্ছু করিসনি। তোর জন্যই হেরেছি কোচবিহারে।”

গতমাসেই কোচবিহারের জেলা সভাপতি বদল করে দিয়েছিলেন মমতা। রবি ঘোষের বদলে জেলা সভাপতি করা হয়েছিল মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মনকে। এ দিন কোচবিহারের পর্যবেক্ষকও বদল করেন দিদি। রাজ্য তৃণমূলের পক্ষ থেকে এ বার ওই জেলার সংগঠন দেখবেন রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী এবং মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েকদিন আগেই রাজীবকে নদিয়ার পর্যবেক্ষক করেছিল তৃণমূল। এ বার তাঁকে কোচবিহারের দায়িত্বও দেওয়া হল।

লোকসভার পর থেকেই কোচবিহারে কোণঠাসা তৃণমূল। বিজেপি-র দখলে গিয়েছে একাধিক কার্য্যালয়। সেই তালা খুলতে গিয়ে দু’দফায় বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় রাজ্যসভাপতি সুব্রত বক্সীকে। প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রতিমা মণ্ডল, মালা রায়দের পাঠিয়েও কোচবিহারের কোন্দল ঠেকাতে পারেনি তৃণমূল।

নিচু তলার কর্মী থেকে একাধিক বিধায়কের অভিযোগের তির এক জনের দিকেই। তিনি রবি ঘোষ। মিহির গোস্বামীর মতো বর্ষীয়ান বিধায়ক পর্যন্ত বলেছেন, “উনি নিজের মতো করে দল চালিয়েছেন। কারও কথা শোনেননি। কাউকে ডাকেননি।” গত পঞ্চায়েতের সময় থেকেই মাদার-যুব নিয়ে কোন্দল চরমে ওঠে কোচবিহার তৃণমূলে। পইপই করে বুঝিয়েও জেলা নেতাদের সোজা করতে পারেননি মমতা। কলকাতায় বসে দিদির কথায় ঘাড় নাড়লেও, জেলায় ফিরে রবি ঘোষ নিজের মূর্তি ধারণ করেছেন। সে খবর রয়েছে দিদির কাছে।

গত দেড়-দু’মাসে কোচবিহারে যা ঘটনাপ্রবাহ, তা দেখে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেরই বক্তব্য কোচবিহারে তৃণমূলটা প্রায় উঠে যেতে বসেছে। এখন দেখার রবিকে ধমকে, পর্যবেক্ষক বদলে, আদৌ কোনও সুফল মেলে কি না!

Comments are closed.