বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫

দিল্লিতে ধর্ণার আগে গণতন্ত্র রক্ষায় আবার গর্জে উঠলো দিদির কলম

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কদিন আগে বইমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানেই তিনি বলেছিলেন, ক্যাজুয়ালি অনেক কিছুই লিখে ফেলতে পারেন,-গল্প, প্রবন্ধ এবং কবিতাও। এখনও পর্যন্ত ৮৭ টি বই প্রকাশ হয়েছে তাঁর। এ বছরই আরও ১৩ টি লিখে ফেলে সেঞ্চুরি করবেন।

সেই তিনি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কলম ফের ঝলসে উঠল সোমবার। পরশু বুধবার নয়াদিল্লির যন্তরমন্তরে দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় ধর্ণায় বসবেন তিনি। তার আগে দিদি লিখে ফেললেন ঝাঁঝালো কবিতা,- ‘চাবি’। বলার অপেক্ষা রাখে না, তাঁদের উদ্দেশ করে। কারণ, দিদির বক্তব্য, গণতন্ত্রের উপর কুঠারাঘাত হানা হচ্ছে। কিন্তু ‘সুতীক্ষ্ণ তরবারি’ হাতে যতই ঘুরে বেড়াক তাঁদের পতন অনিবার্য! তাঁর কথায়, “ভাঙবে যখন ঔদ্ধত্যের আড়মোড়া/ অপেক্ষা করো/ উত্তাল ঢেউ অহংকে/ ডুবিয়ে দেবেই দেবে।”

রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, যন্তরমন্তরে ধর্ণায় বসার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হয়তো আবহ তৈরি করতে চাইছেন। রাজনীতিতে পোড় খাওয়া নেত্রী তিনি। ইতিমধ্যেই কলকাতায় ধর্ণায় বসে দেশের গণতন্ত্রের সংকট তৈরি করার জন্য মোদী-অমিত শাহদের তুমুল সমালোচনা করেছেন। দিল্লিতে গিয়েও তাই করবেন। বিরোধী দলগুলির মধ্যে যে আপাত ঐক্যের ছবি দেখা যাচ্ছে, সেই কোলাজে নিজেকে নিউক্লিয়াস হিসাবে তুলে ধরবেন মমতা। বলতে গেলে, কবিতার মধ্যে দিয়ে তারই সুর বাঁধা শুরু হল।

তবে বাংলায় দিদির পাল্টা অভিযানে নেমেছে বিজেপি-ও। ইতিমধ্যে সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি তাঁরা ধর্মতলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ অবস্থান বিক্ষোভে বসতে চান। ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে তিন দিন তাঁদের সেই অনুমতি দেওয়া হোক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কদিন আগে ঠিক যেখানে অবস্থান-ধর্ণায় বসেছিলেন, সেই খানেই বসতে চান বিজেপি নেতারা। এমনকী মুকুল রায়রা এও পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁরা মাইক পর্যন্ত ব্যবহার করবেন না।

বিজেপি নেতাদের কথায়, সরকার যদি এতে অনুমতি না দেয় তা হলেই বোঝা যাবে বাংলায় গণতন্ত্র রয়েছে কি নেই।
তবে তৃণমূলের বক্তব্য, মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে। তাই এখন মাইক বাজানো তো বটেই কোথাও কোনও সভা, সমাবেশ বা অবস্থানের অনুমতি পুলিশ দিতে পারবে না। এ ব্যাপারে হাইকোর্টের নির্দেশ রয়েছে।

আরও পড়ুন

নবান্নে বড়মার চিঠি, কিন্তু সই তারই কি না, তাই নিয়ে ধন্দ ও দ্বন্দ্ব

Shares

Comments are closed.