মঙ্গলবার, মার্চ ১৯

Breaking: পুজো কমিটিকে ইনকাম ট্যাক্স: ক্লাবের গায়ে হাত লাগলে ছেড়ে দেবেন না মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৃষ্ণনগর থেকে সোজা পৌঁছে গিয়েছিলেন বারাসতে যাত্রা উৎসবের উদ্বোধনে। সেই মঞ্চ থেকেই বিজেপি এবং মোদী সরকারকে আক্রমণ শানানোর পাশাপাশি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, “পুজো কমিটির থেকে ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন চাওয়া হচ্ছে। একটা ক্লাবের গায়ে হাত লাগলেও ছেড়ে কথা বলব না। আমি সব ক্লাবকে বলে দেব, ডাকলে একদম যাবেন না।”

এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি শুনেছি ওরা (পড়ুন কেন্দ্রীয় সরকার) ক্লাবগুলোকে ডিস্টার্ব করতে চাইছে। কেন ইনকাম ট্যাক্স চাইবে? ক্লাবগুলো কি লাভের জন্য পুজো করে? এটা তো আমাদের উৎসব।”

গত সোমবার কলকাতার প্রথম সারির ২০টি পুজো কমিটির প্রতিনিধিদের ডেকে আয়কর কর্তারা বৈঠক করেছিলেন। আজ ফের আরও কুড়িটি পুজো কমিটিকে ডেকেছেন আয়কর কর্তারা। ওই বৈঠকে আয়কর কর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ২০১৯ সালের দুর্গাপুজো থেকে তিরিশ হাজার টাকার উর্ধ্বে সমস্ত রকম পাওনা মেটানোর ক্ষেত্রে উৎসমূলে কর (টিডিএস) আদায় করতে হবে এবং তা আয়কর দফতরে জমা দিতে হবে। যার অর্থ ঢাকি, পুরোহিত, দশকর্মা, ডেকরেটার্স ইত্যাদি সবাইকেই পাওনা মেটানোর সময় কর আদায় করে নিতে হবে।

পেশাদারদের ক্ষেত্রে (যেমন থিম শিল্পী) পাওনা মেটানোর সময় উৎসমূলে ১০ শতাংশ হারে কর আদায় করতে হবে। শ্রমিকদের থেকে কেটে নিতে হবে ১ শতাংশ এবং সংস্থার থেকে ২ শতাংশ হারে কর আদায় করতে হবে। এতেই আপত্তি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার আগেই এ ব্যাপারে মুখ খুলেছিলেন কলকাতার মেয়র তথা চেতলা অগ্রণী ক্লাবের কর্ণধার ফিরহাদ হাকিম। তাঁর বক্তব্য, নীরব মোদী, মেহুল চোস্কিরা হাজার হাজার কোটি টাকা জালিয়াতি করে পালিয়ে যাচ্ছে। আর কেন্দ্রের নজর কলকাতার পুজোর উপর। শারদোৎসবের আনন্দকে ভণ্ডুল করতে চাইছে মোদী সরকার।

পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, কলকাতা বা শহরতলিতে প্রায় ষোল আনা দুর্গাপুজো তথা ক্লাব নিয়ন্ত্রণ করেন তৃণমূলের নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ,বিধায়করা। ফলে ওই সব পুজো কমিটির স্বার্থ তৃণমূলনেত্রী দেখবেন, সেটাই স্বাভাবিক। বিশেষ করে লোকসভা ভোটের আগে ক্লাবগুলির পাশে থাকার বার্তা দেওয়া রাজনৈতিক ভাবেও জরুরি।

বস্তুত বাংলা তথা গোটা পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজো বর্তমানে কার্যত একটা শিল্পে পরিণত হয়েছে। কয়েক লক্ষ মানুষের সাময়িক কর্মসংস্থান হয় এই সময়ে। কোনও কোনও শিল্পক্ষেত্র বা ব্যবসার গোটা বছরের আয় হয় দুর্গাপুজো ও শারদ উৎসব থেকে। হিসাব মতো কয়েক হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়। কিন্তু আয়কর দফতরের বক্তব্য, এতো বিপুল পরিমাণ ব্যবসা হলেও এর থেকে আয়কর আদায় হয় যৎসামান্য। অথচ সমস্ত রকম লেনদেনকে আয়করের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে চলছে কেন্দ্রীয় সরকার। যে কোনও উন্নত বা উন্নতিশীল রাষ্ট্রের এটাই নিয়ম। সেই কারণেই কলকাতায় দুর্গাপুজোর সময় লেনদেনকেও করের আওতায় আনার কথা ভাবা হয়েছে। আয়কর দফতরের এক কর্তার কথায়, পুজো কমিটিগুলিকে কারা চাঁদা দেন, সেই আয়ের উৎস কী, তারও হিসাব নেওয়া জরুরি। ভুলে গেলে চলবে না, কয়েক বছর আগে পর্যন্ত কলকাতার পুজোগুলোতে বহু কোটি টাকা চাঁদা দিত চিটফাণ্ড সংস্থাগুলি। তাতে জনতার উপকার হয়েছে কি?

Shares

Comments are closed.