রবিবার, অক্টোবর ২০

বিজেপি-কে রুখতে বাম-কংগ্রেসকে পাশে চাইলেন মমতা, সপাটে প্রস্তাব খারিজ করলেন সুজন-মান্নান

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলায় তৃণমূল বিরোধী ভোটের স্পষ্ট মেরুকরণ হচ্ছে, তা হাতে নাতে দেখা গিয়েছে লোকসভা ভোটে। এক লাফে প্রায় তিরিশ শতাংশ ভোট বাড়িয়ে ফেলেছে বিজেপি। গেরুয়া ঝড়ে ভাঙন শুরু হয়ে গিয়েছে তৃণমূলে। এই সর্বগ্রাসী বিজেপি-কে ঠেকাতে এ বার খোলাখুলি বাম-কংগ্রেসকে পাশে চাইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিধানসভা অধিবেশনের শুরুতে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠী বক্তৃতা দিয়েছিলেন। তার ধন্যবাদ প্রস্তাবের উপর বুধবার জবাবি বক্তৃতা দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে গেরুয়া শিবিরের তীব্র সমালোচনা করে মমতা বলেন, “মান্নান ভাই, সুজন দা চলুন বিজেপি-কে রুখতে আমরা এক সঙ্গে লড়াই করি”।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, লোকসভা ভোটের পর সিপিএমের তুমুল সমালোচনা করে তৃণমূলনেত্রী বলেছিলেন, বামেদের ভোট সব বিজেপিতে চলে গিয়েছে। কিন্তু এ দিন ছবিটা ছিল উলটপুরানের। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বামেরা তাদের ভোট পুরোটা বিজেপি-কে ট্রান্সফার করে দিয়েছে—তা বলতে পারিনা। আমিও কি চাইলেই পারি তৃণমূলের সব ভোট কাউকে ট্রান্সফার করে দিতে। কিছু একটা গণ্ডগোল হয়েছে নিশ্চয়ই।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতার মাঝেই কংগ্রেস ও বাম বিধায়করা তাঁর আপত্তি করে বুঝিয়ে দেন, এই প্রস্তাবে তাঁদের সায় নেই। ব্যাখা দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি রাজনৈতিক জোট করার কথা বলিনি। যে ভাবে জাতীয় স্তরে ২৩টি রাজনৈতিক দল লড়াই করছি। সেই ভাবে লড়াইটা চালিয়ে যেতে হবে।” পরে বিধানসভার বাইরে বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান বলেন, “সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে বাম কংগ্রেস এমনিতেই লড়ছে। বিজেপি-কে তো বাংলায় নেমন্তন্ন করে এনেছেন মমতাই। গোধরা কাণ্ডের পরেও বিজেপি-র সঙ্গে থেকেছেন। সে জন্য আগে জনসমক্ষে ক্ষমা চান মমতা”।

সমালোচনার মাত্রা আরও এক দাগ চড়িয়ে বাম পরিষদীয় দলের নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, “অপ্রয়োজনে কথায় কথায় ইনশাল্লাহ বলে, মোয়াজ্জেম ভাতা-ইমাম ভাতা চালু করে মুখ্যমন্ত্রীই বাংলায় বিজেপি-কে জায়গা করে দিয়েছেন। ওনার সঙ্গে হাত মেলানোর কোনও প্রবৃত্তিই আমাদের নেই। তা সে যতই কম ভোট পাই না কেন!”

সাম্প্রদায়িক শক্তিকে রুখতে শুধু মমতার নিষ্ঠা নিয়েই প্রশ্ন তোলেননি বাম-কংগ্রেস বিধায়করা। এও বলেন, বাম, কংগ্রেস ভাঙিয়ে দুর্বল করার চেষ্টা করেছেন তো মমতাই।

এই অবস্থায়, মুখ্যমন্ত্রী কিছুটা কথা ঘুরিয়ে সিপিএমের উদ্দেশে বলেন, আপনারা কাদের সঙ্গে জোট করবেন, আমি তো বলে দিতে পারি না। আপনারা তো কংগ্রেসের সঙ্গে ২০১৬ সালে জোট করেছিলেন। তাতে কী লাভ হয়েছিল!

মুখ্যমন্ত্রী কেন বাম-কংগ্রেসকে নিয়ে বিজেপি-র বিরুদ্ধে লড়াই করার বার্তা দিলেন প্রথম ধাক্কায় অনেকের কাছেই স্পষ্ট নয়। কারণ, কারও কারও মতে এতে আরও স্পষ্ট হল বিজেপি-কে তৃণমূল ভয় পাচ্ছে। গেরুয়া শিবিরকে তিনি একা ঠেকাতে পারবেন না তা স্বীকার করে নিচ্ছেন। তবে মমতা ঘনিষ্ঠদের মতে, মান্নান-সুজনরা যে রাজি হবেন না তা মমতাও ভাল জানেন। দিদি আসলে এ কথা বলার মধ্যে দিয়ে গোটা বাংলার বিজেপি বিরোধী মানুষকে তাঁর পাশে পেতে চাইছেন। ঠিক যেমন ভাবে এক শ্রেণির বাম সমর্থক তৃণমূলকে ঠেকাতে এ বার লোকসভা ভোটে বিজেপি-কে ভোট দিয়েছেন। মমতা চাইছেন, বাম-কংগ্রেসের মধ্যে যাঁরা কট্টর বিজেপি বিরোধী তাঁরা তৃণমূলকে ভোট দিন। বাম-কংগ্রেসকে ভোট দেওয়া মানে সেই ভোট নষ্ট করা। তারা বিজেপি-কে ঠেকাতে পারবে না। পারলে তৃণমূলই পারবে।

Comments are closed.