রবিবার, অক্টোবর ২০

সেনা জওয়ান, গোর্খা-সহ কয়েক লক্ষ প্রকৃত ভারতীয়র নাম বাদ এনআরসি থেকে, ফের সরব মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসমে জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ বা এনআরসি তালিকা প্রকাশের পর থেকেই প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগের দিন অসমে বাঙালিদের নাম অসৎ উদ্দেশ্যে এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন মমতা। এ দিন তিনি বললেন, প্রকৃত ভারতীয়দের নামও বাদ পড়েছে এই তালিকা থেকে।

রবিবার সকালে পরপর তিনটি টুইট করেন মমতা। প্রথম টুইটে তিনি লেখেন, “এর আগে আমি এনআরসি-র সব কিছু নিয়ে ওয়াকিবহাল ছিলাম না। আমরা খবর পেয়েছি, এই তালিকা থেকে এক লাখের উপর গোর্খার নাম বাদ পড়েছে। এই ঘটনায় আমি অবাক ও মর্মাহত হয়েছি।”

পরের টুইটে মমতা লেখেন, “আসলে হাজার হাজার প্রকৃত ভারতীয়দের নাম এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তার মধ্যে অনেক সিআরপিএফ ও সেনাবাহিনীর অন্যান্য জওয়ানরা রয়েছেন। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দিন আলি আহমেদের পরিবারের সদস্যদের নামও বাদ পড়েছে এই তালিকা থেকে।”

শেষ টুইটে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “সরকারের উচিত যে সমস্ত প্রকৃত ভারতীয়রা এই তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, তাঁদের দিকে লক্ষ্য রাখা। প্রকৃত ভারতীয় ভাই-বোনদের উপর যাতে সুবিচার হয়, সে দিকে লক্ষ্য রাখা উচিত সরকারের।”

এর আগে শনিবার সন্ধে বেলা জোড়া টুইট করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, অসৎ উদ্দেশ্যে এনআরসি করে সমাজের এবং দেশের বৃহত্তর স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়েছে। যে সমস্ত বাঙালিদের নাম বাদ গিয়েছে এনআরসি তালিকা থেকে বিশেষ করে তাঁদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর মন কাঁদছে বলে টুইটে লিখেছেন তিনি।

২০১৭-র ডিসেম্বরে জাতীয় নাগরিকপঞ্জিকরণের খসড়া তালিকা প্রকাশের পরই সংসদীয় দলকে অসমে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন মমতা। কিন্তু কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুখেন্দুশেখর রায়, মমতাবালা ঠাকুর, মহুয়া মৈত্রদের বিমানবন্দরের বাইরেই বেরোতে দেয়নি অসম প্রশাসন। বিমানবন্দরের লাউঞ্জে রাত কাটিয়েই পরের দিন সকালের বিমান ধরে কলকাতায় ফিরে আসতে হয় তৃণমূলের দলকে। তারপর বিশপদের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দিল্লি গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে দেখা করেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং –এর সঙ্গে। ক্ষোভ উগরে দেন সেখানকার মানুষের অবস্থা এবং তাঁর দলের সাংসদদের সঙ্গে অসম প্রশাসনের ব্যবহার নিয়ে।

পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, দিলীপ ঘোষ সহ একাধিক বিজেপি নেতা বারবার দাবি করেছেন, অসমের পর এ বার বাংলায় এনআরসি হবে। বাংলাদেশ থেকে যারা অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করে আছে, তাদের ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে। বিজেপি নেতাদের এই দাবির বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই সরব হয়েছে তৃণমূল। সেই সুর আরও চড়ালেন মমতা। সেইসঙ্গে বাঙালি ও জাতীয়তাবাদের সেন্টিমেন্ট চাগিয়ে তুলতে চাইলেন তিনি, এমনটাই ধারণা পর্যবেক্ষকদের।

Comments are closed.