সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩

নজর রাখুন ফোড়েরা যেন চাষীদের ঠকাতে না পারে, নবান্নের বৈঠকে মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরোছত্তীসগড়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ধানের সহায়ক মূল্য কুইন্টাল প্রতি ৮০০ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছেন ভূপেশ বাঘেল। ১৭৫০ টাকা থেকে এক লাফে তা বেড়ে হয়েছে ২৫৫০ টাকা। মধ্যপ্রদেশের কমলনাথের পথে হেঁটেপ্রতিশ্রুতি মতো মুকুব করে দিয়েছেন কৃষি ঋণও। দেখাদেখি অসমের বিজেপি সরকারও কৃষি ঋণ মুকুব করে দিয়েছে। মঙ্গলবার আবার কৃষকদের ঋণ মাফ করেছে রাজস্থানে অশোক গেহলট সরকার। সে সব দেখে ভোটের আগে যাতে বাংলায় কৃষক অসন্তোষ তৈরি না হয় সে জন্য আগাম ব্যবস্থা নিয়ে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এমনিতেই বাম জমানার ঋণের বোঝা নিয়ে সরকার চালাতে হচ্ছে মমতাকে। এ কথা বারবার বলেনও দিদি। এও বলেনসীমিত আর্থিক সামর্থের মধ্যেও সবটা করার চেষ্টা করছি। তাই ধানের সহায়ক মূল্য হয়তো বাড়ল না বাংলায়কিন্তু নির্ধারিত সহায়ক মূল্য যাতে বাংলার চাষীরা পুরোটা পানফোড়েরা যাতে তাঁদের ঠকাতে না পারেসে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মঙ্গলবার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

সরকারি ব্যবস্থায় ধান কেনার অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে বুধবার নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ওই বৈঠকেছিলেন মুখ্যসচিব মলয় দেখাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক থেকে শুরু করে সরকারি আধিকারিকরা। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে,ফোড়েদের উৎপাত ঠেকাতে সরকার ব্যবস্থা নেবে। ধানের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য  কুইন্টাল প্রতি ১৭৫০টাকা। এই টাকা যাতে চাষিরা সঙ্গে সঙ্গে হাতে পান তার ব্যবস্থা করছে সরকার।

মুখ্যমন্ত্রী এ দিন নবান্ন ছেড়ে যাওয়ার আগে জানানএ বার ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা ৫৮ লক্ষ মেট্রিকটন। ২ হাজার কেন্দ্র বাড়ানো হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

সরকারি সূত্রে বলা হচ্ছে, সমস্ত চাষী তাদের উৎপাদিত ধান সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যেতে পারে না। কারণ, সেক্ষেত্রেও গাড়ি ভাড়া লাগে। ফোড়েরা সেই সুযোগটাই নেন। চাষীদের হাতে সমর্থন মূল্যের কিছু কম টাকা দিয়ে ধান কিনে নেন। অর্থাৎ আখেরে সমর্থন মূল্যের পুরোটা হাতে পান না অনেকেই। এক্ষুণি সহায়ক মূল্য দুম করে বাড়িয়ে দেওয়ার আর্থিক সংস্থান নেই মমতা সরকারের। তাই সরকার চাইছে যাতে চাষিরা যাতে সহায়ক দামের পুরোটাই হাতে পায় তা নিশ্চিত করতে।

নবান্ন সূত্র জানাচ্ছে, মিডলম্যানদের রুখতে তদারকির জন্য চুক্তিভিত্তিক লোক নিয়োগ হবে বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এবং এই গোটা প্রক্রিয়াটির নেতৃত্বে থাকবেন সংশ্লিষ্ট জেলা শাসকরা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানেনহিন্দি বলয়ের তিন রাজ্যের ভোটে কৃষক অসন্তোষ মোদীকে ডুবিয়েছে। তাই লোকসভার আগে বাংলার কৃষকদের মধ্যে কোনও অসন্তোষ যেন না তৈরি হয় সে ব্যাপারে সাবধানী মুখ্যমন্ত্রী।

Comments are closed.