শুক্রবার, জানুয়ারি ১৮

কৃষকদের জন্য দরাজ মমতা সরকার, আগামী অর্থবর্ষে ঋণ দেবে ৮ হাজার কোটি টাকা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৃষকদের স্বার্থে আরও একটা সিদ্ধান্ত নিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। এ বার ৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল নবান্ন।  আগামী অর্থবর্ষে সমবায় ব‍্যাঙ্কের মাধ‍্যমে এই ঋণ দেওয়া হবে কৃষকদের।

এই ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার হবে ৪ শতাংশ। তবে এর জন‍্য সমবায় ব‍্যাঙ্কগুলোকে আর্থিক সাহায্য করবে রাজ‍্যের অর্থ দফতর। রাজ‍্যের মোট ১৭টি জেলার ১৭টি সমবায় ব‍্যাঙ্ক এবং সমবায় সমিতির ৩৫০ শাখার মাধ‍্যমে এই ঋণ দেওয়া হবে কৃষকদের। রাজ্যের দাবি, এতে উপকৃত হবেন রাজ‍্যের ১ লক্ষ কৃষক পরিবার।

সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায় বলেন, “বাম আমলে কৃষকদের দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাতে হতো। মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে সেই ঋণ শোধ না করতে পেরে ডুবে যেতে হতো দেনার দায়ে। বেছে নিতে হতো আত্মহত্যার পথ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারে আসার পর এখন বাংলার কৃষকদের সেই দুর্দশা নেই। তাঁদের চাষের কাজের সুবিধের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।” সাত শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়া হবে কৃষকদের। সময় মতো ঋণ শোধ করতে পারলে তিন শতাংশ সুদ মুকুব করবে সমবায় ব্যাঙ্ক। তাই সব মিলিয়ে চার শতাংশ হারে ঋণ পাবেন কৃষকরা।

প্রশাসনের একটি সূত্র অবশ্য জানাচ্ছে, আট হাজার কোটি টাকা কৃষি ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের কোনও কৃতিত্ব নেই। ওই টাকা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্ত সংস্থা নাবার্ড। সেটাকেই রাজ্যের টাকা বলে দেখাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। এমনিতে কেন্দ্রের অনুদানের টাকা রাজ্য বাজেটে দেখানোর অভ্যাস রয়েছে অর্থ দফতরের।

এ দিকে যাঁরা কৃষি ঋণ সময়মতো শোধ করছেন না, তাঁরা যাতে সময়মতো কৃষি ঋণ শোধ করেন, তার জন্য প্রচার কর্মসূচিও নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে সমবায় দফতর সূত্রে। ২০১৮-র শেষ দিনেই কৃষকদের জন্য ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী কোনও কৃষকের যদি মৃত্যু হয়, তা হলে ওই পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা দেবে সরকার। এ বার আগামী অর্থবর্ষে ৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করল নবান্ন।

Shares

Comments are closed.