শুক্রবার, জুন ২১

তোমার বিরুদ্ধে কত কেস আছে খুলব? অধীরকে খোলা হুমকি মমতার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঝে এক দিনের বিশ্রাম। সোমবার পয়লা বৈশাখের দিন থেকেই ফের ভোটের প্রচার শুরু করে দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভর দুপুরে সূর্যের গনগনে তাপে বহরমপুর লোকসভার বেলডাঙার জনসভা কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে চাঁছাছোলা আক্রমণ শানালেন তিনি। বাংলার রাজনীতিতে মুর্শিদাবাদ জেলা এখনও ‘অধীরের গড়’ বলেই খ্যাত। সেখানে দাঁড়িয়ে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুললেন দিদি।

এ দিন মমতা মমতা বলেন, “বহরমপুরের সাংসদ অনেক বড় বড় কথা বলেন। কোথায় থাকেন সারা বছর? আগে নিজের দিকে তাকান। আমাকে প্যান্ডোরার বাক্স খুলতে বলবেন না। আমি সব জানি।” শুধু তো রাজনৈতিক আক্রমণ নয়, পর্যবেক্ষকদের মতে বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ করতে এ দিন বেলডাঙা থেকে অধীরকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করতেও ছাড়েননি মমতা। বলেন, “ওঁর স্ত্রী যিনি মারা গিয়েছেন। তাঁর ভাই অরিজিৎ আমায় বলছিল, শুভেন্দু বলছিল, যে অ্যাফিডেভিট দিয়েছে ইলেকশনে, আগে যে একটা বউ ছিল, তিনি মারা গিয়েছেন, সেটা পর্যন্ত উল্লেখ করেননি।” এরপরই মমতা বলেন, “আমাকে বেশি ঘাঁটাবেন না। আমি সব জানি।”

অধীররের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারির সুরে এ দিন বলেন, “তোমার বিরুদ্ধে কত কেস আছে? খুলব? আমরা ভদ্র বলে কিছু বলিনা। তুমি যে জঘন্য রাজনীতি করেছ, বহরমপুরের মানুষ কথা বলতে পারে না। কিন্তু তাঁরা একদিন কথা বলবেই।” এ দিন অধীরের বিরুদ্ধে পিছন থেকে আর এসএস-এর সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তৃণমূলনেত্রী। একই ভাবে জঙ্গিপুর কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ছেলে অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়ের কথাও ফের একবার উল্লেখ করেন এ দিন। মমতা বলেন, “এক দিকে বাম অন্য দিকে রাম। মাঝে জুটেছে শ্যাম। দুই দিকে দুই কলা গাছ, মধ্যেখানে অধীররাজ।”

এক সময়ের অধীর চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ অনুগামী অপূর্ব সরকার ওরফে ডেভিডকে বহরমপুরে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। কংরেসের সঙ্গে সিপিএমের বোঝাপড়া এবং এখন বিজেপি-র সঙ্গে সম্পর্ককে টেনে আনেন মমতা। তাঁর কথায়, “এই কারণে আমি কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এসে তৃণমূল করেছিলাম।” রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতেই, এ বার বহরমপুরে গুরু শিষ্যের লড়াই। চোদ্দর ভোটে মুর্হিদাবাদ জেলায় শুন্য পেয়েছিল তৃণমূল। জেলার তিনটি আসনের মধ্যে দুটি কংগ্রেস এবং একটিতে জিতেছিল সিপিএম। তাই অনেক আগে থেকেই এ বার মুর্শিদাবাদ দখলের পরিকল্পনা নিয়েছে তৃণমূল। দলের তরফে ওই জেলার পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী গত কয়েক মাসে দফায় দফায় ওই জেলায় গিয়েছেন। কংগ্রেসের টিকিটে জেতা বিধায়কদের  দলে টেনেছেন। এ দিন বেলডাঙার সভা শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন। “আপনারা ডেভিডকে জেতান। বহরমপুরে যা চাইবেন তাই দেব।”

যদিও অধীর শিবির মমতার এই হুঙ্কারকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিচ্ছে। জেলা কংগ্রেসের এক নেতার কথায়, “দিদিমণি আগেরবার গায়ক ইন্দ্রনীল সেনকে পাঠিয়েছিলেন। তাঁকে বহরমপুরের মানুষ চুনকালি মাখিয়ে কলকাতায় পাঠিয়ে দিয়েছিল। আর এ বার ডেভিডবাবুও বুঝে যাবেন, গুরু সবসময় গুরুই থাকে।”

Comments are closed.