মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৫

পিতৃপক্ষেই পুজো উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী, প্রদীপের উপর ফুল রেখে বললেন, ‘এটা নতুন কায়দা’

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গতবছর দার্জিলিং থেকে ফেরার পথে বিমানবন্দরে নেমেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোজা চলে গিয়েছিলেন শ্রীভূমি স্পোর্টিং-এর পুজো উদ্বোধন করতে। অনেক পুজো উদ্বোধন করতে হয় তাঁকে। তাই পিতৃপক্ষ থাকতেই শুরু করে দিয়েছিলেন কাজটা। এ বারও তার অন্যথা হল না। শুক্রবার অর্থাৎ মহালয়ার আগের দিন তিন তিনটে পুজোর উদ্বোধন সারলেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমে হাতিবাগান। তারপর চালতাবাগান এবং হিন্দুস্থান পার্ক। আর বললেন, তাঁর জীবনে ছুটি বলে কিছু নেই। মানুষ যখন এই উৎসবে রাস্তায় থাকে, তখন তিনি প্রতি ঘণ্টায় পরিস্থিতির খোঁজ নেন।

এ দিন হাতিবাগানের পুজো উদ্বোধন সেরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নবান্ন থেকেই সোজা এখানে চলে এসেছি। আমার জীবনে ছুটি বলে কিছু নেই। একঘণ্টাও ছুটি নিইনি। যে দিন ছুটি আসবে, সে দিন হয়তো আমি থাকব না।” তাঁর কথায়, “এই পুজোর সময়ে আপনারা যখন রাস্তায় থাকেন, তখন আমি ঘণ্টায় ঘণ্টায় খোঁজ নিই। সব ঠিক আছে তো? সব ঠিক আছে তো? সব ঠিক আছে তো?”

হাতিবাগানের পুজো উদ্বোধনে এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী সাধন পাণ্ডে, উত্তর কলকাতার সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা পুরসভার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ। মমতা বলেন, “কাল মহালয়া। কাল সকালে পিতৃ তর্পণ করে বিকেল থেকে মাতৃতর্পণ শুরু।” পিতৃপক্ষ থাকতে থাকতেই গত বছর শ্রীভূমির পুজোর প্রদীপ জ্বালিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তা নিয়ে বিরোধী দল বিশেষ করে বিজেপি নেতারা নানান কটাক্ষ করেছিলেন। বলেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী নিয়ম-রীতিই জানেন না। তাই এ বার যেন সে ব্যাপারেও সাবধানী মুখ্যমন্ত্রী। প্রদীপ জ্বালাননি। প্রদীপের উপর ফুল রেখে এসেছেন। বলেন, “এটা নতুন কায়দায়, নতুন আঙ্গিকে মাকে বরণ করলাম।”

আগামী কয়েকদিন ঠাসা কর্মসূচি তাঁর। কলকাতার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ছুটে বেড়াবেন তিনি। উদ্দেশ্য একটাই, পুজো উদ্বোধনের মাধ্যমে বার্তা দেওয়া- উৎসব সবার। ভেদাভেদ নয়। গড়ে উঠুক মানুষের ঐক্য। এ দিনও তাঁর গলায় শোনা যায় সম্প্রীতির সুর।

Comments are closed.