মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৩

#Breaking: গণতন্ত্র ও সংবিধান বাঁচাতে মেট্রো চ্যানেলে ধর্ণায় বসেছেন মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় মধ্য কলকাতার রাজপথে অভূতপূর্ব ও নাটকীয় ভাবে যা হল, তাকে সাংবিধানিক সংকট বলে মন্তব্য করছিলেন অনেকে। আবার দেশকে সাংবিধানিক সংকট থেকে রক্ষা করার জন্য এ দিন রাত থেকেই কলকাতায় ধর্ণায় বসে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলা ভাল, আপাতত, এই মুহূর্ত থেকে তাঁর প্রশাসনিক ভূমিকার তুলনায় বড় হয়ে উঠল রাজনৈতিক ভূমিকা। সর্বভারতীয় রাজনীতিতে বিরোধী নেত্রী মমতা। এবং সাংবাদিক বৈঠক করে সেই বিরোধী নেত্রী জানালেন, আমি সংবিধান বাঁচাতে ধর্ণায় বসতে চলেছি। দেশে জরুরি অবস্থার থেকেও ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গব্বরি কায়দায় সব কব্জা করতে চাইছে। তাই এই ধর্ণায়। এই ধর্ণা মানে সত্যাগ্রহ।

এ দিন সন্ধ্যায় কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছিল সিবিআইয়ের টিম। প্রথমে তাঁদের ঢুকতে বাধা দেয় কলকাতা পুলিশ। পরে সিবিআইয়ের অফিসারদেরই টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় শেক্সপিয়ার সরণি থানায়। যা সংবাদমাধ্যমের টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। এবং যে ছবি দেখার পর সর্বভারতীয় রাজনীতিতে অনেকেই বলতে শুরু করেন, বাংলায় সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে।

ওই ঘটনার পর পরই লাউডন স্ট্রিটে পুলিশ কমিশনারের সরকারি বাসভবনে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে পৌঁছন রাজ্যের নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুরজিৎ করপুরকায়স্থ এবং ডিজি বীরেন্দ্র। তার পর রাজীব কুমারের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে।

কী ভাবে সেই সংকট তৈরি হয়েছে, সে ব্যাপারে মমতার ব্যাখ্যা অন্য। তিনি বলেন, বাংলার উপর নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ,-এই দুই পাণ্ডা মিলে অত্যাচার চালাচ্ছে। কোনও রকম সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়া সিবিআই কলকাতার পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে সিক্রেট অপারেশনে এসেছিল। যিনি কয়েক কোটি মানুষের নিরাপত্তা দেন, তাঁর নিরাপত্তা নিয়েই সংকট তৈরি করে দিতে চাইছে ওঁরা!মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, কী সাহস! কলকাতার পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে সিক্রেট অপারেশন চালাবে! আমার ফোর্সকে প্রোটেকশন দেওয়া আমার সরকারি দায়িত্ব।

রাতে শেকসপিয়ার সরণী থানা থেকে বেরোনোর পরে সিবিআইয়ের এক আধিকারিক অবশ্য দাবি করেন, তাঁদের কাছে সব কাগজ ছিল। কিন্তু পুলিশ তা দেখতে রাজি হয়নি।

শনিবার সন্ধ্যায় সিবিআই সূত্রকে উদ্ধৃত করে পিটিআই জানিয়েছিল, চিটফান্ড মামলায় রাজীব কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সিবিআই। তা চাউর হতেই মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, বিজেপি সর্বোচ্চ স্তরের নেতারা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে নেমে পড়েছেন। কিন্তু রবিবার সন্ধ্যায় আর মুখে আগল রাখেননি তৃণমূলনেত্রী। তিনি বলেন, সিবিআইকে দিয়ে বাংলাকে কব্জা করতে চাইছে বিজেপি। রাজনৈতিক ভাবে পেরে উঠছে না, তাই সিবিআইকে হাতিয়ার করেছে। এবং শনিবার প্রধানমন্ত্রী বাংলায় সভা করে দিল্লি ফেরার পর থেকেই তা শুরু হয়েছে।

গোটা ব্যাপারটাই যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র তা বোঝাতে মমতা বলেন, নরেন্দ্র মোদীকে এ ব্যাপারে সব বুদ্ধি দিচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। সিবিআই তাঁর কথাতেই চলছে। আসলে তৃণমূল সারা দেশের বিরোধী নেতাদের নিয়ে ব্রিগেডে সভা করার পরই ভয় পেয়ে গিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহরা। এবং সেদিনই বাংলা থেকে সব সিবিআই অফিসারকে দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়ে বলা হয়েছে, কুছ তো করো, কুছ তো করো। সব মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র মোতাবেক সবটা হচ্ছে। 

তবে প্রশ্ন হল, কলকাতা পুলিশ কি সিবিআইয়ের অফিসারদের ওভাবে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তুলে থানায় আটক করতে পারে? বা যে ভাবে সিবিআইয়ের জয়েন্ট ডিরেক্টরের বাড়ির সামনে কলকাতা পুলিশ পৌঁছে গেল এবং সল্টলেকে সিজিও কমপ্লেক্সে সিবিআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় দফতর পুলিশ ঘিরে ফেলল, তা কতটা যুক্তিষুক্ত? সে প্রসঙ্গে অবশ্য মুখ্যমন্ত্রী কিছু বলেননি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, কাল সোমবার রাজ্য বিধানসভায় বাজেট পেশ হবে। কিন্তু তিনি তখন ধর্ণা মঞ্চেই থাকবেন। ধর্ণা মঞ্চের পাশে একটা অস্থায়ী ঘর করে সেখানেই মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাজেট প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হবে। তা ছাড়া সোমবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে পশ্চিমবঙ্গ কিষাণ ও ক্ষেতমজুর তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্মেলন রয়েছে। ধর্ণা মঞ্চে বসে ফোনেই ওই সম্মেলনের জন্য বক্তৃতা দেবেন তিনি।

ধর্ণায় মমতার বাঁদিকে রয়েছেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস ও ইন্দ্রনীল সেনরা। আর ডান দিকে রয়েছেন ডিজি বীরেন্দ্র, এডিজি আইনশৃঙ্খলা অনুজ শর্মা আর কলকাতার সিপি রাজীব কুমার স্বয়ং।

Shares

Comments are closed.