সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩

মৈথিলপুরের ছোটগল্প, দিদির হাতে আজ লজেন্সের কৌটো

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিদি আজ অন্য মুডে।

দিদি আজ দিঘায়। গ্রামের রাস্তায়। গেরস্থের উঠোনে। চার পাশে ভিড় করে ছেলেপুলেরা। দিদির হাতে আজ লজেন্স টফির কৌটো।

লোকসভা ভোটের পর এই প্রথম এত খোশ মেজাজে দেখা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

অতীতে তাঁকে এমন ভাবে বহুবার দেখা গিয়েছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর কাজের চাপ বেড়েছে। দল, সরকার সব সামলে আর সে সব হয়ে ওঠে না। সোমবার দেখা গেল অন্য ছবি। গেরস্থের উঠোনে বসে চেয়ারে হেলান দিয়ে জমিয়ে আড্ডা দিলেন দিদি।

হাওড়ার প্রশাসনিক বৈঠক ছেড়েই দিঘার উদ্দেশে উড়ে যান মমতা। হেলিপ্যাড থেকে বেরিয়েই চলে যান সমুদ্র পাড়ের ছোট্ট গ্রাম মৈথিলপুরে। লোকে বলে, ও গ্রামে ৮০ শতাংশ বাড়িই তৃণমূল। মানে ঘরের মাঠ। একের পর এক বাড়িতে ঢুকে তাঁদের সুখ দুঃখের খবর নেন। মৈথিলপুরে আজ অকাল উৎসব।

মৈথিলপুরের এই ছবিটা আপাত দর্শনে ক্ষুদ্র। কিন্তু পর্যবেক্ষকরা এই বিন্দুতেই সিন্ধু দেখছেন। তাঁরা বলছেন, এ ছবি ক্ষুদ্র নয়। হাতে হাতে ঘুরে অনেক বড় হয়ে গিয়েছে। গোটা বাংলাকে দিদি দেখাতে চেয়েছেন, তিনি তাঁদেরই ঘরের একজন- বড় দিদি। লোকসভা ভোটে ধাক্কার পর এই ছবিও তাই রাজনীতি-বিচ্ছিন্ন নয়। বরং মানুষের সঙ্গে তৃণমূলের বিচ্ছিন্নতা কাটানোর চেষ্টা হিসেবেই দেখা যেয়তে পারে।

সে যাক। মৈথিলপুরে সে কী খোশগল্প দিদির! এক পাশে কাঁথির সাংসদ শিশির অধিকারী, অন্য পাশে রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরি। আর মমতার ঠিক পিছনের চেয়ারে রাজ্যের পরিবহণ ও সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

গ্রামবাসীদের উদ্দেশে দিদির জিজ্ঞাসা, কী করে চলে তাঁদের। জবাবে তাঁরা জানান, মাছ ধরেই জীবিকা চালান তাঁরা। দিদির ছবি তুলতে তখন বাড়ির মহিলারাও মোবাইল হাতে চলে এসেছেন। আর দিদি ডেকে নিলেন সমস্ত কচিকাঁচাদের। নামধাম জিজ্ঞাসা করার পরই প্রশ্ন, স্কুলে পড়ে কি না তারা। পড়লে সেই স্কুলে মিড ডে মিল দেয় কি না। ইত্যাদি, প্রভৃতি।

সমুদ্রপাড়ের মৎস্যজীবী অধ্যুষিত গ্রামের মহিলাদের উদ্দেশে দিদির প্রশ্ন, কী রান্না করেছিলে দুপুরে? এক মহিলা উত্তর দেন, “দিদি, মাঝের ঝোল ভাত।” তখন হাসতে হাসতে দিদি বলেন, “তোমরা তো খুব লাকি! সমুদ্রের পাড়ের টাটকা মাছ খাও।” তবে দিদি এ দিন এ-ও জানান, দিঘায় এলেই তিনি ফেরার সময়ে প্যাকেটে করে সমুদ্রের মাছ নিয়ে যান। লোকজনকে দেন।

মঙ্গলবার দিঘায় সভা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। উদ্বোধন করবেন কনভেনশন সেন্টারের। কিন্তু সোমবার দিঘা দেখল অন্য মমতাকে। দিদিকে।

Comments are closed.