শনিবার, মার্চ ২৩

গলার হার বেচে বই কিনে কলেজে পড়েছি : মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাবার সে রকম রোজগার ছিল না। তায় সংসারে এতোগুলো ভাই বোন। প্রথম জীবনে দারিদ্রের সঙ্গে তাঁর লড়াইয়ের টুকরো কাহিনী বিক্ষিপ্ত ভাবে আগেও বলেছেন তিনি। শুক্রবার তারকেশ্বরে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির প্রসঙ্গে সে কথায় ফের ফিরে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আসলে তারকেশ্বর ও সংলগ্ন এলাকার উন্নয়নের ব্যাপারে বলছিলেন দিদি। সেই প্রসঙ্গেই বলেন, আপনাদের কাজ মন দিয়ে করি। আন্তরিকতার সঙ্গে করি। অনেক সময় আর্থিক সাধ্য না থাকলেও বলি কাজটা করে দিতে। কিন্তু সবটা তো একসঙ্গে হয় না। একটু একটু করে তো হচ্ছে।

এই সূত্রেই মমতা বলেন, তিনিও যে জীবনে সব একসঙ্গে পেয়েছেন তা তো নয়। তাঁর জীবনেও অপ্রাপ্তি রয়েছে অনেক। মমতার কথায়, “ছোট বেলায় যখন স্কুলে যেতাম, আমার খুব সাইকেল চড়তে ইচ্ছা করত। কিন্তু আমার বাবা মা আমাকে সাইকেল কিনে দিতে পারেনি। আমার আফসোস আছে।” এখানেও থামেননি মমতা। বলেন, “আমার বাবা যখন বই কিনে দিতে পারেনি, তখন আমি আমার গলার হার বিক্রি করে দিয়ে কলেজের বই কিনে পড়াশুনা করেছি।”

দক্ষিণ কলকাতার যোগমায়া দেবী কলেজে পড়তেন মমতা। সেখানেই ছাত্র আন্দোলনে হাতে খড়ি। তারপর ৮৪ সালে প্রথম বার লোকসভা ভোটে দাঁড়িয়ে, সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে পরাস্ত করে ধূমকেতুর মতোই উত্থান তাঁর। পরবর্তী কালে কেন্দ্রে মন্ত্রী হয়েও ব্যক্তিগত জীবনযাপনে বরাবরই সংযম রেখেছেন তৃণমূলনেত্রী। বলতে গেলে রাজনীতিতে সেটাও তাঁর ইউএসপি। বিশেষ করে বর্তমান রাজনীতিতে যখন অনেকেই ণত্বষত্ব হারাচ্ছেন তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুলনায় ব্যতিক্রম বলেই পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করেন। কেন না মমতার সঙ্গে রাজনীতি করে উঠে আসা তৃণমূলের অনেক নেতারই প্রথম জীবনের অপ্রাপ্তির তালিকা কম দীর্ঘ ছিল না। কিন্তু তাঁদের অনেকর বর্তমান জীবনযাপন, সংযমের অভাব ইত্যাদি নিয়ে খোদ তৃণমূলের মধ্যেই আলোচনা হয়। এমনকী কখনও কখনও প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা বলেও ফেলেন। সাম্প্রতিক কালে দলের কোর কমিটির বৈঠকে তিনি একাধিকবার বলেছেন, এতো টাকা কীসের জন্য দরকার? সোনা চিবিয়ে খাবে, নাকি হীরে? যদিও তৃণমূলের শীর্ষ নেতারাই বলেন, তা অনেকটা অরণ্যে রোদনের মতোই হয়ে গেছে এখন। দিদি বলেন, ওঁরা শোনেন, তার পর মিটিং থেকে বেরিয়ে ভুলে যান।

আরও পড়ুন

আপনারা বেশি বেশি করে আলু খান, তারকেশ্বরে কেন বললেন মমতা?

Shares

Comments are closed.