মনে রাখবেন বুদ্ধবাবুরও ডান হাত ছিলেন রাজীব, কমিশনের নির্দেশের পর মমতা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরাসরি নির্বাচনের দায়িত্বে ছিলেন না রাজ্যের এডিজি সিআইডি তথা কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার। কিন্তু শেষ দফার ভোটের আগে নির্বাচন কমিশন যখন তাঁকে বাংলা থেকেই সরিয়ে দিল, তখন বরাবরের মতোই তাঁর পক্ষ নিয়ে সওয়াল করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

    তৃণমূলনেত্রীর বক্তব্য, রাজীব দক্ষ অফিসার। ভোটের সময় বিজেপি কোথা থেকে টাকা আনছে, ভোটে যে টাকা উড়ছে তা ধরে ফেলছিল। সেই কারণেই তাঁকে সরানো হল। এ ব্যাপারে মুকুল রায় ও অসমের বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার দিকেও আঙুল তোলেন তিনি।

    পর পর দুটি নির্বাচনে কোনও পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে কমিশনের ব্যবস্থা নেওয়ার নজির বিশেষ নেই। কিন্তু দুঁদে আইপিএস অফিসার রাজীব কুমারের ক্ষেত্রে তা হল বইকি। ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটের সময় কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। এ বার তাঁকে এডিজি সিআইডি পদ থেকে সরিয়ে দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে পাঠিয়ে দেওয়া হল।

    এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে এ দিন রাতে কালীঘাটে সাংবাদিক বৈঠকে মমতা বলেন, এ ব্যাপারে কিছু বলব না। ও নিজের ব্যাপারটা নিজেই দেখে নেবে। কিন্তু এ কথার বলার পরেও মমতা বলেন, রাজীব দক্ষ অফিসার। আইআইটি থেকে পাশ করেছে। রিসার্চ করছে। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখন রাজীব তাঁর রাইট হ্যান্ড ছিলেন।

    যদিও বিরোধীদের বক্তব্য, তখন তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে তাঁর ফোন ট্যাপ করার অভিযোগ করতেন। ক্ষমতা বদলের সঙ্গে সঙ্গে সেই অফিসারই তাঁর আস্থাভাজন হয়ে গেল।

    তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, কেন রাজীবকে শেষ দফার ভোটের আগে সরানো হল? এ ব্যাপারে কমিশন কোনও স্পষ্ট জবাব দেয়নি। তবে বিজেপি-র আশঙ্কা ছিল, সিআইডি-তে নিযুক্ত থাকলেও কলকাতা পুলিশের কাজে প্রভাব খাটাচ্ছিলেন রাজীব।

    তাৎপর্যপূর্ণ হল, ভোটের আগে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে রাজীব কুমারকে মমতা সরানোর পর তাঁকে সিআইডি-র এডিজি করার পাশাপাশি ইকোনমিক অফেন্স উইংয়ের প্রধান করেছিলেন। কিন্তু কমিশনের কাছে চিঠি দিয়ে তাতে আপত্তি জানিয়েছিলেন মুকুল রায়রা। তাঁদের বক্তব্য ছিল, ওই পদটিও কলকাতা পুলিশের অধীনেই রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আর্থিক অপরাধ শাখার দায়িত্ব থেকে রাজীবকে সরাতে বাধ্য হয় নবান্ন।

    অন্যদিকে আবার রাজীবের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলার রায়ও ঝুলে রয়েছে। চিটফাণ্ড কাণ্ডে তথ্য ও প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ এনে রাজীব কুমারকে হেফাজতে নিতে চায় সিবিআিই। রাজীবের আইনজীবীরা অবশ্য সর্বোচ্চ আদালতকে জানিয়েছিল যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁকে ফাঁসানো হচ্ছে। ওই মামলার শুনানি শেষ করে রায়দান স্থগিত রেখেছে আদালত।

    সব মিলিয়ে রাজীব কুমারের জন্য পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠল বলেই অনেকে মনে করছেন। এর আগে কমিশন যখন রাজীব কুমারকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার পদ থেকে সরিয়েছিল, তখন ভোট শেষ হতেই রাজীবকে তাঁর পদে ফিরিয়েছিলেন মমতা। কিন্তু আমলাদের একাংশের মতে, কমিশন রাজীবকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে সরানোর পর এ বার সেটা সহজ হবে না নবান্নের পক্ষে। কারণ, রাজীবকে ফের বাংলায় ফেরানো হবে কিনা সেটা ভোটের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ঠিক করবে।

    ফলে কোথাকার জল কোথায় গড়ায় এখন সেটাই দেখার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More