শুক্রবার, আগস্ট ২৩

হাইওয়ে ছাড়া লালবাতি নয়, মন্ত্রীদের সাফ নির্দেশ মমতার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মন্ত্রীদের গাড়িতে লালবাতি জ্বালিয়ে ঘোরায় গণ্ডি কেটে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নজরুলমঞ্চের বৈঠকে মন্ত্রীদের উদ্দেশে মমতার সাফ নির্দেশ, হাইওয়ে ছাড়া লালবাতি জ্বালানো যাবে না।

সূত্রের খবর, লালবাতি জ্বালানোর কারণেই মানুষের সঙ্গে মন্ত্রীদের দূরত্ব তৈরি হচ্ছে বলে বৈঠকে মন্তব্য করেছেন নেত্রী। স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, নিজের এলাকাতে কোনও ভাবেই লালবাতি জ্বালিয়ে ঘোরা যাবে না। দুর্ঘটনা এড়াতে এ ক্ষেত্রে হাইওয়েকে বাদ রাখা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশই রয়েছে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ছাড়া কেউই গাড়িতে লালবাতি জ্বালাতে পারবেন না। কিন্তু বাংলায় তা মানা হয় না। মন্ত্রী থেকে বিধায়ক, কর্পোরেশনের মেয়র পারিষদ থেকে পুরসভার চেয়ারম্যান, সকলের গাড়িতেই লালবাতি। অনেকের মতে, পারলে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানও গাড়িতে লালবাতি লাগিয়ে নেন! কিন্তু এ বার থেকে এ সব আর করা যাবে না। নির্দেশ দিদির।

অতীতে বাম জমানায় দেখা যেত বর্ধমান শহরে ঢুকলেই লালবাতি আর হুটার বন্ধ করে দিতেন প্রাক্তন শিল্পমন্ত্রী নিরুপম সেন। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নানও তাঁর নিজের বিধানসভা এলাকা চাঁপদানিতে লালবাতি জ্বালান না। এ বার দলের মন্ত্রীদের সেই বার্তাই দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পর্যবেক্ষকদের মতে, গাড়িতে লালবাতি জ্বলা মানেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে অজান্তেই একটা দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়। নেতা যদি হুশ করে লালবাতি জ্বালিয়ে চলে যান, পথচলতি জনতা চটজলদি ভেবে নেন, কেউকেটা যাচ্ছেন। লোকসভা ভোটের পর থেকে তৃণমূলের জনবিচ্ছিন্নতা প্রকটভাবে সামনে এসেছে। জনবিচ্ছিন্নতা কাটাতে মরিয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জনসংযোগ গড়ে তুলতে নেওয়া হচ্ছে একের পর এক কর্মসূচি। তাই লালবাতি যেন জনমানসে কোনও ভাবে বিরূপ প্রতিক্রিয়া না তৈরি করে, সে ব্যাপারেও সতর্ক তৃণমূল।

Comments are closed.