সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৩

বাড়িতে যখন বাসন মাজি, তখন কি ভাবি চাকর হয়ে গেছি: মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শাস্ত্রে বলে কর্মই ধর্ম। দিদিও বলেন তাই। মঙ্গলবার দিঘায় প্রশাসনিক বৈঠকে জনপ্রতিনিধি-আমালাদের সে কথাটাই আরও একবার দিদি-র মতো করেই বোঝাতে চাইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার দিঘায় আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। দিঘার সমুদ্রতটকে আরও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার কথা বললেন। এ প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আজ ভোর তিনটের সময়ে হাঁটতে বেরিয়েছিলাম। দেখলাম দু-তিনটে প্লাস্টিক পড়ে আছে। আমার খারাপ লাগল। হয়তো কোথাও থেকে উড়ে এসেছে। আমাদের এগুলো খেয়াল রাখতে হবে”। তাঁর কথায়, আমিই হাত দিয়ে প্লাস্টিক সরিয়ে দিতে পারতাম। মনে রাখবেন কাজ করাটাই ধর্ম। কোনও কাজ ছোট নয়। কোনও কাজে লজ্জা নেই।

এমনিতে দিঘায় সিঙ্গল ইউজ প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে স্থানীয় উন্নয়ন পর্ষদ। জরিমানাও আদায়ের নিয়মও চালু হয়েছে।

কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী সম্ভবত প্লাস্টিকের প্রসঙ্গ থেকেই বড় বিষয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, “যখন বাড়িতে বাসন মাজি, তখন কি ভাবি আমি বাসনওয়ালি? বাসন মাজি বলেই চাকর হয়ে গেছি? এটাতো ঘরের কাজ”। তাঁর কথায়, ঘর মোছা, বাসন মাজা, বাজার করা সবই বাড়ির কাজ, আনন্দের সঙ্গেই করা যায়।

তৃণমূলে দিদি ঘনিষ্ঠরা ইদানীং বলেন, দল ও সরকারে কাজের পরিবেশে যে অনেক নেতিবাচক বদল হয়েছে দিদি বুঝতে পারছেন। দলে অনেক সাংসদ-বিধায়ক এখন সংগঠনের অনেক কাজ নিজে না করে নিচু তলার নেতাদের দিকে ঠেলে দেন। হতে পারে তাঁদের মনে হয় যে এতে তাঁদের মর্যাদাহানি হবে। আর প্রশাসনের মধ্যে তো ঠেলাঠেলি লেগেই রয়েছে।

তবে পর্যবেক্ষকরা অনেকে মনে করছেন, কাজের সংস্কৃতি ফেরানোর জন্য হয়তো দিদি এ কথা বলছেন না। বরং দেখা যাচ্ছে, লোকসভা ভোটের পর থেকেই মমতা কৌশলে ঘরোয়া কথাবার্তা বেশি বলছেন। যেন আর পাঁচ জনের মতো তিনিও একজন। বাসন মাজেন, রান্না করেন , ঘর গোছান। হতে পারে দিদি মনে করছেন, মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। সাধারণ মানুষের জীবনযাপনের থেকে তৃণমূলের নেতার জীবন শৈলীর আসমান জমিন ফারাক। সেই বিচ্ছিন্নতাই দূর করতে চাইছেন তিনি। বলতে চাইছেন, দিদিকে দেখুন। দিদি আপনাদেরই মতো। ঘরে লোক।

Comments are closed.