বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২২

অভিষেকের বউয়ের ব্যাগে ছিল দুটো বালা, তাই নিয়েও মোদীর এত জ্বালা: মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিন কয়েক আগেই মেটিয়াবুরুজের প্রচারে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীর সোনা কাণ্ড তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছিলেন, ওরা অভিষেককেও ছাড়ে না, ওর ছোট্ট বউটাকেও ছাড়ে না। বিষ্যুদবার শেষ প্রচারে ডায়মন্ড হারবারের জনসভা থেকে মমতা বললেন, কী ছিল অভিষেকের স্ত্রী রুজিরার ব্যাগে।

এ দিন মমতা বলেন, “আমার মা মারা যাওয়ার পর থেকে অভিষেকের মা আমার দেখাশোনা করে। আমি তো জানতাম না কী হয়েছে। ওরা তো কিছু বলে না আমায়! তারপর আমি জিজ্ঞেস করলাম কী হয়েছে রে? তখন আমায় বলল, কিছু না দিদি। ওর ব্যাগে দুটো সোনার জলে চোবানো বালা ছিল। চিন্তা করুন একবার, তাই নিয়েও মোদীর এত জ্বালা।”

অভিষেকের স্ত্রীর ঘটনা নিয়ে তাঁর পাঁচ বছরের মেয়ের মনেও যে প্রতিক্রিয়া হয়েছে, তাও বলেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অভিষেকের বউ তো বাংলা জানে না। তবে ওর মেয়ে পুচকিটা খুব ভাল বাংলা বলে। সাত আটটা ভাষা বলে। একদিন ওই পুচকিটা আমায় এসে কী বলছে জানেন? আমায় এসে বলল, “দিদি ডু ইউ নো, নরেন্দ্র মোদী ইজ এ ব্যাড ম্যান? আমি বললাম কেন বাবু? তখন ওই পাঁচ বছরের মেয়ে আমায় বলছে, হি ওয়ান্ট টু সেন্ড মাই মাদার ইন জেল। আমি বললাম তোকে এগুলো কে বলছে? বলে কি না আমি সব শুনেছি। আমি সব জানি। আমি জয় তৃণমূল। ওইটুকু মেয়ে বলছে আমায়। চিন্তা করুন!” এরপর মোদীর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে দিদি বলেন, “নোংরামির একটা লিমিট আছে। টানবি তো অভিষেককে টান। ওর বউকে টানার কী আছে!”

মার্চ মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই রাজ্য রাজনীতির অন্যতম ইস্যু হয়ে ওঠে বিমানবন্দর কাণ্ড। ১৫-১৬ মার্চের মাঝের রাতে ব্যাঙ্কক থেকে ফিরছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা নারুলা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন আরও একজন মহিলা। মার্চের ২৩ তারিখ ওই রাতের একটি ঘটনা সামনে আসে। কী ঘটনা? কেন্দ্রীয় সংস্থা কাস্টমস দাবি করে, অভিষেকের স্ত্রীর ব্যাগ চেক করতে গেলে তাঁরা বাধা দেন। কাস্টমসের এক্তিয়ারভুক্ত এলাকায় ঢুকে পড়ে বিধাননগর পুলিশ। কার্যত কাস্টমস কর্তাদের ঘেরাটোপ থেকে জোর করে রুজিরাদের বার করে নিয়ে যায় বিধাননগর পুলিশ।

তোলপাড় শুরু হয় রাজ্য রাজনীতিতে। বিজেপি-সহ একাধিক বিরোধী দল অভিযোগ তোলে অভিষেকের স্ত্রীর কাছে সোনা ছিল। আড়াল করতেই পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কাস্টমস কর্তারা অভিযোগ করেন, প্রথমে পুলিশ তাদের অভিযোগ নেয়নি। পরে নেয়। ২৩ মার্চ ব্যক্তিগত সাংবাদিক সম্মেলন করেন অভিষেক। চ্যালেঞ্জ ছোড়েন বিজেপি-র বিরুদ্ধে। দাবি করেন ওই রাতের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের।

কিন্তু এই ঘটনা নিয়ে শুরুর দিকে মুখ খোলেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্ন থেকে একবার বেরনোর সময় তৃণমূলনেত্রী বলেছিলেন, “প্লিজ ডোন্ট আস্ক মি। আই অ্যাম নট কনসার্নড।” যদিও এরপর একটি সর্বভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে মমতা বলেছিলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। কারণ, মেয়েটি ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছে। ও এখন প্রেগনেন্ট, ভাল নেই।” সেই সঙ্গে বিজেপি-র বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে বলেছিলেন, “অরুণ জেটলি এর পিছনে রয়েছেন। কিন্তু আমি চ্যালেঞ্জ করতে পারি। কিছুই পাবে না। তবে এ ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না, কারণ এটা বিচারাধীন বিষয়। পরে প্রমাণ হবে যে গোটাটাই নরেন্দ্র মোদী আর অরুণ জেটলি-র গেমপ্ল্যান ছিল।”

মমতার এ দিনের বক্তৃতার প্রতিক্রিয়ায় এক বিজেপি নেতা বলেন, “কী হাল হয়েছে মমতার! এখন শেষ পর্বে এসে সহানুভূতি কুড়োতে পাঁচ বছরের শিশুর কথা বলতে হচ্ছে! এর থেকে লজ্জার আর কিছু হতে পারে না।”

Comments are closed.