বৃহস্পতিবার, মে ২৩

সুপার সেনসিটিভ বলে বাংলার মানুষকে অপমান করছে বিজেপি: মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার সকালে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতারা। বিজেপি দাবি জানিয়েছে, বাংলায় আইন-শৃঙ্খলার যা অবস্থা, তাতে গোটা রাজ্যটাকেই ‘সুপার সেনসিটিভ’ বলে ঘোষণা করুক কমিশন। বিকেলে এ নিয়ে বিজেপি-র বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূলনেত্রী তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এ দিন কালীঘাটে ৪২জন প্রার্থীকে নিয়ে বৈঠক করেন দিদি। তারপর সাংবাদিক সম্মেলনে মমতা বলেন, “বিজেপি গিয়ে বলছে সব বুথকে সুপার সেনসিটিভ ঘোষণা করতে হবে। কেন? বাংলায় কী হয়েছে? গোটা দেশে সুপার ইমারজেন্সি চলছে। বাংলাকে সুপার সেনসিটিভ করতে বলে বিজেপি বাংলার মানুষকে অপমান করছে।” এঁর পরেই কাগজ দেখিয়ে মমতা বলেন, “ত্রিপুরায় পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৯৮ শতাংশ আসনে বিজেপি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতেছে। কই তা নিয়ে তো কোনও কথা বলছেন না!” বিজেপি নেতারা কমিশনে গিয়ে বাংলার পঞ্চায়েত নির্বাচনে হিংসার কথা তুলে ধরেছিলেন। এ দিন সকালে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, “বাংলায় পঞ্চায়েত ভোটে কী হয়েছে গোটা দেশ দেখেছে। ১০০ জন মানুষ খুন, ব্যালট পেপারে আগুন, গণতন্ত্রে এঁর থেকে খারাপ আর কিছু হতে পারে না।” পাল্টা মমতা এ দিন বিকেলে বলেন, “২০১৩ সালে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০১৪ সালে ১৩ জন। যাঁদের মৃত্যু হয়েছে তাঁদের মধ্যে ৯৯ শতাংশ তৃণমূলকর্মী। বিজেপি খুন তাঁদের মেরেছে।”

এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিজেপি যা শুরু করেছে তাতে কোন দিন কমিশনে গিয়ে বলবে, আপনারা গিয়ে ভোটটা দিয়ে দিন। কার বাড়িতে কী রান্না হচ্ছে তার জন্য পর্যবেক্ষক পাঠান।” বিজেপি নেতারা কমিশনের কাছে দাবি জানিয়েছেন, বাংলায় বিশেষ মিডিয়া অবজার্ভার নিয়োগ করুক। তাঁদের দাবি, বাংলার সংবাদমাধ্যমকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়েও বিজেপি-র বিরুদ্ধে তোপ দাগেন মমতা। বলেন, “মিডিয়া কন্ট্রোলের জন্য স্পেশাল অবজার্ভার চাইছে। এটা গণতন্ত্রের জন্য লজ্জা…লজ্জা…লজ্জা।” দিল্লি থেকে জাতীয় স্তরের সংবাদমাধ্যমকে কন্ট্রোল করছে বিজেপি, এই অভিযোগ মমতা বেশ কিছুদিন ধরেই করছেন। এ দিনও সে কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কত বড় বুকের পাটা! মিডিয়া কন্ট্রোল করবে! সংবাদমাধ্যকে কেউ কন্ট্রোল করতে পারবে না।”

সোমবারই নবান্ন থেকে বেরনোর সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, তাঁর কাছে খবর আছে, কিছু সিনিয়র সাংবাদিকের সূত্রে তিনি জেনেছেন, বাংলায় সাত দফায় ভোট করানো বিজেপি-র গেম প্ল্যান। এ দিন তৃণমূল নেত্রী কালীঘাটের বাড়িতে বসে বলেন, “এ ভাবে তৃণমূলকে আটকে রাখা যাবে না। এটা মাটির পার্টি। বাংলায় সাতে সাত, বিজেপি হবে কুপোকাত।” বিজেপি বাংলায় কতটা দুর্বল তা বোঝাতে দিদি বলেন, “ফুল নেই, ফল নেই, পাতা নাই, ছাতা নাই। শুধু বালিশ পেতে নালিশ করতে যাচ্ছে।”

বিজেপি নির্বাচনী প্রচারের জন্য ইতিমধ্যেই এসএমএস ক্যাম্পেইন শুরু করেছে। অনেকের ফোনেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করে ভারতকে শক্ত ভিতে দাঁড় করানোর আবেদন পৌঁছেছে। বাদ যাননি তৃণমূলনেত্রীও। এ দিন ক্ষুব্ধ মমতা বলেন, “আমার ফোনে মেসেজ আসছে, নরেন্দ্র মোদীকে সাথ দোস্তি করো। কেন করব?”

এ দিন সাংবাদিক বৈঠকে আরও একবার মমতা জানিয়ে দেন, বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ হচ্ছেই। ৪১ শতাংশ মহিলা প্রার্থীর ব্যাপারে তিনি বলেন, “লোক দেখানোর জন্য মহিলাদের প্রার্থী করিনি। সবাই জিতবেন।” যাঁরা টিকিট পাননি তাঁদের মধ্যে দু’একজনের লোভ আছে বলেও এ দিন মন্তব্য করেন মমতা। তাঁরা যদি অন্য দলে যান, তাহলেও যে তাঁর কিছু যায় আসে না তা এ দিন আরও একবার স্পষ্ট করেন তিনি। বলেন, “আমি আমার দলের কর্মেদের কর্মীদের ১০০ শতাংশ বিশ্বাস করি। কয়েজনকে তো বলি, তোরা চলে যা। গেলে বেঁচে যাই।”

Shares

Comments are closed.