অভিষেকের চোখ অপারেশন হয়েছে, মাথায়ও একটু প্রবলেম, বাড়িতে বসেই কাজ করছে: মমতা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভা হচ্ছে নেতাজি ইনডোরে। দলের যুবদেরও আমন্ত্রণ রয়েছে সেখানে।  নেতাজি ইনডোরের ভিড়ও ন্যাড়া ন্যাড়া!

    এদিন যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এলেও তাঁর চোখ অপারেশন হওয়ার কারণে আগামী কিছু দিন বাড়িতে বসেই কাজ করবেন বলে জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “দু’দিন আগে অভিষেকের চোখ অপারেশন হয়েছে। এই নিয়ে ছ’বার চোখ অপারেশন হল। ওর মাথায়ও একটু প্রবলেম। তাই আগামী কিছুদিন বাড়িতে বসেই কাজ করবে।”

    চার বছর আগে মুর্শিদাবাদে কর্মিসভা থেকে ফেরার পথে জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন ডায়মন্ডহারবারের সাংসদ অভিষেক। তাঁর বাম চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। চোখের নিচের হাড় ভেঙে যায়। এর পর প্রথমে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ও পরে হায়দরাবাদে তাঁর চোখে অস্ত্রোপচার হয়। চিকিৎসকরা চোখে ধুলে ও রোদ লাগাতে বারণ করেন।

    আরও পড়ুন: মমতা যেতেই ফাঁকা ইনডোর আরও ফাঁকা, রেগে সভা ছাড়লেন অভিষেক

    তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছিল, জানুয়ারি মাসের গোড়ায় ফের হায়দরাবাদে চোখ দেখাতে গিয়েছিলেন অভিষেক। সেখানে তাঁর চোখে ফের একটি অস্ত্রোপচার হয়। তবে সেখান থেকে ফিরে এসে প্রশান্ত কিশোরকে পাশে নিয়ে দলের একাধিক সাংগঠনিক বৈঠক অবশ্য করেছেন তিনি। তবে প্রকাশ্য কোনও সভা বা সমাবেশে তাঁকে গত প্রায় এক মাস ধরেই দেখা যাচ্ছিল না।

    মমতা এদিন বলেন, অভিষেক বাইরে বেরোবে না মানে এই নয় যে তিনি কাজ করবেন না। ভালমতোই কাজ করবেন। ছাত্র যুবদের উদ্দেশে এদিন মমতা বলেন, হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমেও আপনারা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় রেখে চলতে পারেন। আমি অভিষেককে বলব হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ তৈরি করে দিতে।

    আরও পড়ুন: মমতার নতুন কবিতার বই বেরোচ্ছে বইমেলায়, ‘৯৪৬ টি কবিতা নিয়ে কবিতাবিতান’

    তৃণমূলের শীর্ষ সূত্রে বলা হচ্ছে, শুধু এখন নয়, গত প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে তৃণমূলের সংগঠনের মূল দায়িত্ব প্রায় অভিষেকের উপরেই বর্তেছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সীরা নামে তৃণমূলের মহা সচিব বা সভাপতি, আসলে দলের যুব সভাপতির সঙ্গে সমন্বয় রেখেই তাঁরা চলেন। জেলা সভাপতিরা অভিষেকের কাছেও রিপোর্ট করেন। তা ছাড়া তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল সামলানোর জন্য প্রশান্ত কিশোর ও তাঁর আই-প্যাক-কে ভাড়া করার নেপথ্যে অভিষেকেরই মূল উদ্যোগ ছিল। এখনও সংগঠনের বৈঠকের সময় প্রশান্তকে পাশে নিয়েই বেশিরভাগ সময়ে বসেন অভিষেক।
    তবে এসবই তিনি চালাচ্ছিলেন মেঘনাদের মতোই। আড়ালে বসে। এদিন মমতা জানালেন, আড়ালে থাকার কারণ কী!

    তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, এ ভাবে মেঘনাদের মতো কী সংগঠন চালানো সম্ভব! এদিন নেতাজি ইনডোরের ছন্নছাড়া ছবি সেই প্রশ্নটা আরও জোরদার ভাবে তুলে দিয়েছে। নেতাজি ইনডোরে তৃণমূলের কোনও সভা মানেই তা কানায় কানায় পূর্ণ থাকে। ফ্লোর তো বটেই, গ্যালারিও থাকে ভর্তি। অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়া ১২ টা নাগাদ যখন স্টেডিয়ামে পৌঁছেছেন তখন ফ্লোরের দর্শকাসন বেশ খালি। গ্যালারিতে ছেলেপুলেই নেই। ছাত্র যুব বলে যাঁদের দিয়ে দর্শকাসন পরে ভরানোর চেষ্টা হয়েছে, তাঁদের কজন প্রকৃতপক্ষে ছাত্র তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

    তৃণমূলের এক নেতার কথায়, দলের ছাত্র সংগঠনে নেতৃত্বের অভাব রয়েছে। এর আগে ছাত্র সংগঠনের সভানেত্রী ছিলেন জয়া দত্ত। তিনি আগ্রাসী ছিলেন। এ ধরনের অনুষ্ঠানে ছাত্রদের টেনে আনতে তার ইতিবাচক ভূমিকা ছিল। কিন্তু জয়ার বিরুদ্ধে আবার দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। আর বর্তমান নেতৃত্বের মধ্যে রাজনৈতিক মেধা ও আবেগের ঘাটতি রয়েছে। ফলে যা হওয়ার এদিন তাই হয়েছে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর বক্তৃতার সময়েও ছাত্রদের মধ্যে খুব বেশি সাড়া নজরে পড়েনি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More