শনিবার, মার্চ ২৩

পুলওয়ামা কাণ্ড: ভোটের আগে কেন ঘটল, আমার তো সন্দেহ হচ্ছে! বিস্ফোরক মন্তব্য মমতার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলওয়ামা কাণ্ডের চব্বিশ ঘণ্টা পর গত শুক্রবারই তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, বিশদে তদন্ত না করেই কেন দোষারোপ শুরু করে দেওয়া হল? অত্যন্ত স্পর্শকাতরতার সঙ্গে পুলওয়ামা কাণ্ডের তদন্তের দাবি করেছিলেন তিনি।

সোমবার অভিযোগের সুর আরও কয়েক দাগ বাড়িয়ে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। পুলওয়ামা কাণ্ড ও তার পরবর্তী তদন্ত, রাজনৈতিক স্তরে বৈঠক, উত্তেজনার পরিবেশ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে এ দিন নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, পাঁচ বছর হয়ে গিয়েছে (কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারের), কই কিছু তো হয়নি! বরং কখনও কখনও আমার মনে হয়েছে, পাকিস্তান আমাদের এতো বন্ধু হয়ে গেল!” এর পরেই তিনি বলেন, আমার মনে সন্দেহ রয়েছে। ভোটের আগে তারা এ রকম করার সাহস পেল কোথা থেকেআমি জানি না কেনতবে পার্লামেন্টের পর (পড়ুন মোদী জমানায় লোকসভার শেষ অধিবেশনের পরযদি এরকম ঘটনা ঘটে, নাগরিক হিসাবে আমার মনে সন্দেহ হয়। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা এতদিন কেন নেওয়া হয়নি?”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তাঁদের মতে, পুলওয়ামার ঘটনার পর দিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী যখন পাকিস্তানের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন, সে দিনও কৌশলে তদন্তের প্রশ্নটি উত্থাপন করেছিলেন মমতা। সম্ভবত সে দিনও দিদি বোঝাতে চেয়েছিলেন, পুলওয়ামায় সিআরপিএফের কনভয়ে যে ভাবে জঙ্গি হামলা হল, তা কোনও ষড়যন্ত্র নয় তো! আর সেই কারণেই তিনি বার্তা দিতে চেয়েছিলেন, তদন্ত না করেই কেন দোষারোপ শুরু করে দেওয়া হয়েছে।

সেই সন্দেহের কথাটাই সোমবার আরও পষ্টাপষ্টি জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবং এ ব্যাপারে একাংশ মানুষের মনে যে সন্দেহ বা প্রশ্ন উঠছে তা আরও খুঁচিয়ে তুলতে চাইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রসঙ্গত, পাঁচ বছর পিছনে হাঁটলে দেখা যাবে, রাইসিনা হিলে রাষ্ট্রপতি ভবনের উঠোনে নরেন্দ্র মোদী যখন প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিচ্ছেন, তখন সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। সেখানেই থেমে থাকেননি মোদী। নওয়াজের বাড়িতে এক বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দুম করে পৌঁছে গিয়েছিলেন রাওয়ালপিণ্ডি। অথচ এখন, পুলওয়ামা কাণ্ডের পর, সেই প্রধানমন্ত্রীই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে উঠতে বসতে কড়া কথা শোনাচ্ছেন। উত্তপ্ত বক্তৃতায় জাতীয়তাবাদের হাওয়া বিজেপি-র পালে টানার মরিয়া চেষ্টাও নজর এড়াচ্ছে না। পর্যবেক্ষকদের মতে, সম্ভবত তাঁদের সেই খেলা ভেস্তে দিতেই সোমবার তীর্যক মন্তব্য করেন মমতা। ইসলামাবাদের সঙ্গে মোদীর সেই গদগদ সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে খোঁচা দিয়ে বলেন, কখনও কখনও মনে হয়েছে পাকিস্তান আমাদের এতো বন্ধু হয়ে গেল?

এরই পাশাপাশি পুলওয়ামা কাণ্ডের নেপথ্যে গোয়েন্দা ব্যর্থতা নিয়েও এদিন সরব হন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সেনা বা আধা সামরিক বাহিনীর উপর যে এ ধরনের আঘাত হানা হতে পারে, সেই আগাম আশঙ্কা তো ছিলই। এ ব্যাপারে গোয়েন্দা তথ্যও ছিল। কিন্তু তাও কেন হামলা ঠেকানো গেল না, তার জবাব দিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এ ব্যাপারে কেন্দ্রের সরকারের কাছে যে গোয়েন্দা তথ্য আগাম ছিল সে বিষয়ে তাঁর কাছেও প্রমাণ রয়েছে। তা ছাড়া বড় প্রশ্ন হল, ওই তথ্য থাকার পরেও জম্মু-শ্রীনগর হাইওয়েতে কেন নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করা হয়নিকেন অতো বড় বাহিনীকে সড়ক পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিলকেন বিমান বা ট্রেন ব্যবহার করা হয়নি?

এখানেই থামেননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পুলওয়ামা কাণ্ডকে সামনে রেখে গোটা দেশে বিজেপি ও আরএসএস জাতীয়তাবাদের জিগির তুলতে চাইছে। এমন ভাব করছে, ওরাই একমাত্র দেশপ্রেমী, বাকিরা দেশদ্রোহী। আর তার মাধ্যমে ওরা দেশে দাঙ্গা বাঁধাতে চাইছে। কিন্তু এ কথা বলেই মুখ্যমন্ত্রী এ দিন হুঁশিয়ারি দেন, বাংলায় কেউ যদি অশান্তি বাঁধানোর চেষ্টা করে, তা হলে ছেড়ে কথা বলা হবে না। পুলিশ, প্রশাসনকে অনুমতি দেওয়া রয়েছে। কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে তাদের বিরুদ্ধে। 

Shares

Comments are closed.