রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫

বাড়িহারা পরিবারগুলিকে এক্ষুণি ৫ লাখ করে দিন, মেট্রোকে চাপ মমতার

দ্য ওয়াল ব্যুরোবউবাজার বিপর্যয়ের পরে বাড়িহারা পরিবারগুলিকে আপৎকালীন সাহায্য দেওয়ার জন্য মেট্রো কর্তৃপক্ষের উপর নিয়ে চাপ তৈরি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর সুড়ঙ্গ খুঁড়তে গিয়ে রবিবার ভোর রাতে বিপর্যয় হয়েছে বউ বাজার এলাকায়। কিন্তু তারপর মেট্রোর বিরুদ্ধে কোনও দোষারোপ করেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার নবান্নে মেট্রো-রাজ্য বৈঠকের পরেও সে পথে হাঁটলেন না মুখ্যমন্ত্রী। বরং একাধিক দাবির সঙ্গে মেট্রো কর্তৃপক্ষকে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, যাঁরা হঠাৎ করে বাড়ি-ঘর হারিয়েছেন, তাঁরা এখন নিঃস্ব। জামা-কাপড়, বাসন-কোসন কিচ্ছু নেই। তাই তাঁদের জীবন যাপনের জন্য পরিবার পিছু আপাতত পাঁচ লক্ষ টাকা দিক মেট্রো কর্তৃপক্ষ। এ দিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মেট্রো রেলের জিএম পিসি শর্মাও। তিনি বলেন, অন্য সব দাবিই মেনে নেওয়া হয়েছে। আগেই আমরা বলেছি। কিন্তু এই আপৎকালীন সাহায্যের বিষয়টি আমার একার সিদ্ধান্ত নয়। এটা বোর্ড অফ ডিরেক্টরসে আলোচনা করতে হবে। এরপর সাংবাদিক বৈঠকে মাইক হাতে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ফের বলেন, “এটা আপনাদের দেখতেই হবে। এখন ওই মানুষগুলির কাছে কিচ্ছু নেই । বর্ধিষ্ণু পরিবারগুলি হঠাৎ করে সব হারিয়েছেন। মানবিক কারণেই এটা আপনাদের করতে হবে।”

রাজ্যের তরফে যে যে দাবি জানানো হল এ দিন-

১. বাড়ির বদলে বাড়ি। দোকানের বদলে দোকান। অর্থাৎ যে ৫২টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, সেগুলি মেট্রো কর্তৃপক্ষকে তৈরি করে দিতে হবে। যাঁদের দোকান গিয়েছে, তাঁদের দোকান করে দিতে হবে।

২. যতদিন বাড়ি তৈরি না হচ্ছে, ততদিন মেট্রোকেই দায়িত্ব নিতে হবে এই পরিবারগুলিকে অন্যত্র রাখার। রাজ্যের তরফে প্রস্তাব, জেম সিনেমার কাছে মেট্রো রেলের যে আবাসন রয়েছে, সেখানে পরিবারগুলিকে নিয়ে যাওয়া হোক। আর কেউ যদি বলেন, অন্যত্র ভাড়া থাকবেন, সেই টাকা মেট্রোকে দিতে হবে।

৩. দোকানের ক্ষেত্রেও একই দাবি জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, যে সমস্ত সোনার ও স্যাকরার দোকান এবং ছাপাখানা ক্ষতিগ্রস্ত, তাদের অন্যত্র জায়গা করে দিতে হবে।

৪. এই সময়ে ব্যবসায়ীদের যে ক্ষতি হচ্ছে, সেটা হিসেব করে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা মেট্রোকে দিতে হবে।

৫. শীল পরিবারের একটি মেয়ের বিয়ে রয়েছে সামনে। তার জন্য রাজ্য এবং মেট্রো পাঁচ লক্ষ টাকা করে মোট দশ লক্ষ টাকা দেবে।

মুখ্যমন্ত্রী এ দিন জানিয়েছেন, ওই এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে যাতে চুরি না হয়। একটি কোর গ্রুপ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে মুখ্যসচিব মলয় দে-কে মাথায় রেখে। তাঁরাই নির্দিষ্ট সময় অন্তর বৈঠক করে কী কাজ এগোল তা পর্যালোচনা করবে। যাঁদের রেশন কার্ড-সহ সরকারি নথি বাড়িতেই পড়ে রয়েছে, তাঁদের জন্য সরকার বিশেষ ব্যবস্থা করছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

এ দিন মেট্রোর জিএম বলেন, “এটা একটা বিপর্যয়। আমরা ইতিমধ্যেই একাধিক দাবি মেনে নিয়েছি। বাকিগুলো নিয়ে মানবিকতার সঙ্গেই চিন্তা-ভাবনা করা হবে।” তিনি জানিয়েছেন, যে মেশিন দিয়ে সুড়ঙ্গ কাটা হচ্ছে, তা পিছিয়ে আনা যায় না। হংকং থেকে বিশেষজ্ঞ দল এসেছে কলকাতায়। তাঁদের সঙ্গে কথা বলেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। তাঁর কথায়, এসপ্ল্যানেডে মেট্রোর নীচ দিয়ে সুড়ঙ্গ কাটা হয়েছে। ওটা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল। কিন্তু এখানে যে এমন হবে, ধারনার মধ্যেই ছিল না। 

Comments are closed.