বুধবার, জুলাই ১৭

মুখ্যমন্ত্রীর সামনেই প্রশাসন নিয়ে ক্ষোভ আদিবাসী বিধায়কদের, মমতার ধমক অফিসারকে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার আদিবাসী বিধায়কদের নিয়ে বিধানসভায় বৈঠক ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকে জঙ্গলমহলের একাধিক আদিবাসী বিধায়ক পষ্টাপষ্টি মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়ে দিলেন, দিদি, আপনি যা প্রকল্প নিয়েছেন, তার কিচ্ছু নিচু তলায় নামছে না। আর যা শুনে মুখ্যমন্ত্রী ধমক দিলেন আদিবাসী আধিকারিক সঞ্জয় থারেকে।

জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়ার একাধিক তৃণমূলের আদিবাসী বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রীকে এক-দুই-তিন করে অভিযোগ জানিয়েছেন। চিকিৎসক সমস্যার কথা জানিয়েছেন অনেক বিধায়ক। তাঁদের বক্তব্য, জঙ্গলমহলে গ্রামীণ এবং ব্লক হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসক সংকটের ফলে প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়ছেন হাজার হাজার মানুষ।

একই সঙ্গে কাস্ট সার্টিফিকেট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক আধিকারিকদের গাফিলতির বিষয়টিও উঠে আসে এ দিনের বৈঠকে। বিধায়করা মুখ্যমন্ত্রীকে বলেন, প্রশাসনিক দুর্বলতার জন্যই সরকারের নেওয়া প্রকল্পগুলি মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে না। এর পরই আদিবাসী আধিকারিক সঞ্জয় থারেকে মুখ্যমন্ত্রী ধমকের সুরে বলেন, “নিচুতলায় কাজ না হলে ব্যবস্থা নিন। দরকার হলে সাসপেন্ড করুন। কাজ না করলে আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গত পঞ্চায়েত নির্বাচনেই জঙ্গলমহলে তৃণমূলের পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছিল। দলের অভ্যন্তরীণ ময়না তদন্তে উঠে এসেছিল, নিচু তলার নেতাদের বল্গাহীন দূর্নীতি। এরপর মুখ্যমন্ত্রী একাধিকবার জেলা সফর করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। লোকসভায় তৃণমূল শূন্য। গোটা জঙ্গলমহলে গেরুয়া ঝড় বয়ে গিয়েছে। লোকসভার পর থেকেই জঙ্গলমহলকে অন্য গুরুত্ব দিতে শুরু করেছেন মমতা। একদিকে যদেমন দলের দায়িত্বে রদবদল করেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সীদের সরিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে দায়িত্ব দিয়েছেন তেমনই সমান্তরাল ভাবে প্রশাসনকেও পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজে আরও সক্রিয় করতে মরিয়া মমতা।

কয়েকদিন আগেই রাজ্যের তফশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন মমতা। এ দিন শুধু আদিবাসী বিধায়কদের নিয়ে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন দেখার জঙ্গলমহলে হারানো জমি ফেরাতে আর কী কী করে শাসক দল, কী-ই বা করে সরকার।

Comments are closed.