শুক্রবার, জুন ২১

অর্পিতাকে নিয়ে ক্ষোভে মলম মমতার , বালুরঘাটে ‘অ্যাকসিডেন্ট’ প্রসঙ্গ টানলেন মুখ্যমন্ত্রী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: তখনও ভোট ঘোষণা হয়নি। কিন্তু প্রার্থী নিয়ে কৌতূহল বাড়তে শুরু করেছিল বালুরঘাটে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার তৃণমূল কর্মীরা দাবি তুলতে শুরু করে দিয়েছিলেন যে, বালুরঘাটে প্রার্থী বদল চাই-ই চাই। কারণ, দলের একটা বড় অংশের অভিযোগ ছিল, বিদায়ী সাংসদ অর্পিতা ঘোষকে লোকসভা এলাকায় প্রায় দেখাই যায়নি গত পাঁচ বছরে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ বারও সেখানে টিকিট দিয়েছেন নাট্যকর্মী অর্পিতাকেই। মঙ্গলবার শেষ বেলার প্রচারে ইটাহারের জনসভা থেকে মমতা ব্যাখ্যা দিলেন, কেন সাংসদ নিজের কেন্দ্রে বেশি আসতে পারেননি।

বৈশাখের উত্তপ্ত দুপুরে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে মমতা বলেন, “আপনারা বলতে পারেন, অর্পিতাকে জিতিয়েছিলাম। কী করেছে? আমাদের সাংসদরা দিল্লিতে দাপিয়ে বেড়িয়েছে।” এরপরই তৃণমূলনেত্রী বলেন, “ষোলর বিধানসভা ভোটের সময় নিজের লোকসভা কেন্দ্রে বড় অ্যাকসিডেন্ট হয়েছিল অর্পিতার। বাঁচার কথা ছিল না। তারপর আস্তে আস্তে ক্রাচ নিয়ে হেঁটে হেঁটে এখন দাঁড়াতে পেরেছে।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, দিদি জানেন বালুরঘাটের মানুষের মধ্যে অর্পিতাকে নিয়ে একটা অসন্তোষ রয়েছে। ভোটের মুখে তাতেই মলম দেওয়ার চেষ্টা করলেন তিনি। সেই সঙ্গে দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে সহানুভূতির কৌশলও বাদ রাখেননি তিনি। নিজের কেন্দ্রে না আসতে পারলেও বালুরঘাটের কাজ নিয়ে যে অর্পিতা সক্রিয় ছিলেন, তাও জানান মমতা। বলেন, “আমাকে তো অর্পিতা সারাক্ষণ বলে তপনের জন্য এটা করে দাও, গঙ্গারামপুরের জন্য ওটা করে দাও, ইটাহারের হন্য এটা চাই। সব সময়ে আমার সঙ্গে তর্কাতর্কি করে। আমি চাই কাজ নিয়ে আমার সঙ্গে তর্ক হোক। কিন্তু মানুষের কাজ যেন হয়।”

ভোট ঘোষণার আগেই বালুরঘাটের তৃণমূলকর্মীরা দাবি তুলে দিয়েছিলেন অর্পিতার বদলে প্রার্থী করতে হবে জেলা সভাপতি বিপ্লব মৈত্রকে। কিন্তু নেত্রী সে কথা শোনেননি। সেই সঙ্গে এ-ও বার্তা দিয়েছেন, ঐক্যবদ্ধ হয়েই দলকে লড়তে হবে। কোনও পছন্দ, অপছন্দ রাখা যাবে না।

যদিও পাঁচ বছরে বালুরঘাটে অর্পিতার কম হাজিরা নিয়ে মমতার এই সাফাইকে ‘প্রলাপ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে জেলা বিজেপি। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার এক বিজেপি নেতার কথায়, “দিদিমণি বুঝতে পেরে গিয়েছেন ওঁর প্রার্থী হারছেন। তাই এখন অ্যাকসিডেন্টের কথা বলে সহানুভূতি কুড়োচ্ছেন। কিন্তু বালুরঘাটের মানুষ দেখেছেন, কলকাতায় নাচা-গানা সব করেছেন কিন্তু এলাকায় আসেননি।”

Comments are closed.