মঙ্গলবার, আগস্ট ২০

ওরা সবাই জুনিয়র ডাক্তার নয়, আউটসাইডারও আছে: মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতিবার আধবেলা—স্তব্ধ রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। গত দু’দিনে বিরোধীরা একাধিকবার দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করুক এই অচলাবস্থায়। বৃহস্পতিবার দুপুরে এসএসকেএম-এ যেতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে শুরু হয়ে গেল বিক্ষোভ। পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে মমতা বললেন, “জরুরি পরিষেবা বন্ধ করা যায় না। হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট রায় রয়েছে। ওরা (জুনিয়র ডাক্তাররা) যদি চারঘণ্টার মধ্যে কাজে না যোগ দেয় তাহলে অ্যাকশন হবে।”

মুখ্যমন্ত্রী এ দিন এনআরএস-এর ডাক্তার পেটানোর ঘটনাকে ‘স্পন্টেনিয়াস’বলে উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, “একটা ঘটনা ঘটে গিয়েছে। ওটা স্পন্টেনিয়াস। তার জন্য প্রশাসন অ্যাকশন নিয়েছে। কিন্তু ওরা ইনঅ্যাকশন করছে।”

এসএসকেএম-এ মুখ্যমন্ত্রী পা রাখতেই বিক্ষোভরত জুনিয়র ডাক্তার এবং ইন্টার্নরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘মুখ্যমন্ত্রী হায় হায়’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। মেজাজ হারান মমতা। পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “সে দিন রাতে কী হয়েছিল তার তদন্ত হবে। দু’পক্ষই মারামারি করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে। তদন্ত হবে। আর সেই তদন্তের রিপোর্ট আমি মানুষের সামনে নিয়ে আসব।”

এনআরএস-এর প্রতি সংহতি জানাতে গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ থেকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ-সর্বত্র বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় আউটডোর। বেশ কিছু হাসপাতালে জরুরি বিভাগ বন্ধেরও অভিযোগ ওঠে। সব মিলিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা যখন কার্যত স্তব্ধ, তখন আন্দোলনরত চিকিৎসকদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিলেন মমতা।

কেন এমন ঘটল সে দিন?

সে ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি সব হাসপাতালে পুলিশ পিকেট বসিয়েছিলাম। নির্বাচন কমিশনের অধীনে যখন প্রশাসন ছিল, তখন কলকাতার পুলিশ কমিশনার হয়ে রাজেশ কুমার সব পিকেট তুলে নিয়েছিলেন। আমি আবার বলেছি হাসপাতালে পুলিশ পিকেট বসাতে।”

যাঁরা আন্দোলন করছেন, তাঁরা সবাই জুনিয়র ডাক্তার নয় বলেও অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “ওরা সবাই জুনিয়র ডাক্তার নয়। বহিরাগত আছে।” এবং গোটা ঘটনায় বিজেপি ও সিপিএম যোগের অভিযোগও তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “এটা সবটা ডাক্তারদের ব্যাপার নয়। এখানে বিজেপি আছে। সিপিএমের একটা পার্টও ঢুকেছে। আর হিন্দু মুসলমান করছে।” তাঁর কথায় “দমকল, সেনাবাহিনী, ডাক্তার– এই কাজ কখনও বন্ধ রাখা যায় না। হাসপাতাল অবরুদ্ধ করা বেআইনি।”

মুখ্যমন্ত্রী এই সময়সীমা বেঁধে দ৩এওয়ার পর এখন এই আন্দোলন কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় এখন সেটাই দেখার। দেখার এটাও, রোগীরা দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পান কি না।

Comments are closed.