মঙ্গলবার, জুন ২৫

জঙ্গিপুরে প্রণববাবুর ছেলেকে মদত করছে আরএসএস: মমতা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে প্রায় সত্তর শতাংশ সংখ্যালঘু ভোট। সেখানে লোকসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে এ মাসের ২৩ তারিখ। জঙ্গিপুরের বিদায়ী সাংসদ তথা কংগ্রেসের এ বারেরও প্রার্থী তথা প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ছেলে অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় জিতবেন কিনা তা জানা যাবে আরও একমাস পর। তার আগে বুধবার তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চোপড়ার সভা থেকে সটান বলে দিলেন, “জঙ্গিপুরে প্রণব মুখার্জির ছেলে লড়ছে আরএসএসের মদতে।”

প্রণববাবুর সঙ্গে মমতা-র সম্পর্ক বরাবরই রৌদ্রছায়ার মতো। প্রণববাবু যখন কেন্দ্রে ইউপিএ সরকারের মন্ত্রী, তখন দিল্লি গেলে তাঁর জন্য এক মুঠো এক্লেয়ার্স নিয়ে যেতেন মমতা। বাংলায় পিছিয়ে পড়া এলাকার উন্নয়নের জন্য বিআরজিএফে-র প্রায় ৯০০০ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে তৎকালীন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনে বা সামনাসামনি কতবার ঝগড়া করেছেন তারও ইয়ত্তা নেই। কিন্তু সেই প্রণববাবুই যখন রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হলেন, তখন বেঁকে বসেছিলেন মমতা। শেষমেশ বাঁ হাতে ফুল দেওয়ার মতো সমর্থন দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। পারস্পরিক সম্পর্কের চড়াই উতরাইয়ের এরকম একশটা গল্প বলা যায়।

তবে বুধবার প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠল রাজনীতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ বার স্লোগান তুলেছেন রাজ্যের ৪২ টি আসনের ৪২ টিই তাঁর চাই। সুতরাং জঙ্গিপুরও চাই। অর্থাৎ প্রণববাবুর সঙ্গে ব্যক্তি সম্পর্ক এখানে আর প্রাসঙ্গিক নয়। বস্তুত তা বুঝিয়ে দিয়ে বুধবার প্রণববাবুর প্রসঙ্গে টেনে এনে দিদি অস্বস্তিতে ফেলে দিলেন অভিজিৎকে।

এ দিন চোপড়ার সভায় মমতা বলেন, “বহরমপুরে কংগ্রেসের নেতা আরএসএসের মদতে লড়ছে। জঙ্গিপুরে প্রণব মুখার্জির ছেলেও লড়ছে আরএসএসের মদতে।” তাঁর কথায়, “কংগ্রেস ভোট পেলে বিজেপি শক্তিশালী হবে, সিপিএম ভোট পেলে বিজেপি শক্তিশালী হবে।”

মমতার কথা থেকেই পরিষ্কার যে উনি চাইছেন, সংখ্যালঘু ভোটের মেরুকরণ যেন হয় তৃণমূলের অনুকূলে। তারা যেন কেউ সিপিএম বা কংগ্রেসকে ভোট না দেয়।

প্রসঙ্গত, গত বছর নাগপুরে আরএসএসের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। তিনি অবশ্য আরএসএসের দর্শনের প্রতি তাঁর আস্থা জানাননি। বরং ভারতের বহুত্ববাদের কথাই বলেছিলেন। কিন্তু তাতে কী! রাজনীতিতে ধারনাটাই শেষ কথা। এবং তা এই যে, প্রণববাবু আরএসএসের ঘনিষ্ঠ।

বলতে গেলে তখন থেকেই প্রণববাবুর ছেলে অভিজিৎ ও মেয়ে শর্মিষ্ঠা বাবার এই সিদ্ধান্ত থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন। কারণ, তাঁরা আঁচ করছিলেন, এর ফলে রাজনৈতিক ভাবে হত পুড়তে পারে তাঁদের। এখন ভোটের সময় সেই ভূতই মাথা তুলল। এবং প্রসঙ্গটি খুঁচিয়ে দিলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাঁকে নিয়ে ব্যক্তিগত স্তরে খুবই আবেগপ্রবণ অভিজিৎ।

জঙ্গিপুরে এ বার তৃণমূল এবং বিজেপি দু’জনেই সংখ্যালঘু প্রার্থী দিয়েছে। একমাত্র হিন্দু প্রার্থী হলেন অভিজিৎ। রাজনৈতিক মহলে অনেকে মনে করছিলেন, এ ক্ষেত্রেও বোধহয় মমতা ও মোদীর সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে প্রণববাবুর। তবে বিজেপি ও তৃণমূল দুই শিবিরই অভিযোগ খারিজ করছে। বিশেষ করে তৃণমূল নেতৃত্ব জানাচ্ছেন, জঙ্গিপুর লোকসভার সাতটি বিধানসভায় সাতটি জনসভা করবেন দলের অন্যতম শীর্ষ সারির নেতা তথা জেলার পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী। তা ছাড়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও জঙ্গিপুর লোকসভায় দুটি সভা করবেন। অর্থাৎ জঙ্গিপুরে প্রণবপুত্রকে ওয়াকওভার দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই।

Comments are closed.