লোকে কাশ্মীর যেতে পারছে না, দিঘা কিন্তু শর্ট ডিস্টেন্সে বিউটিফুল: মমতা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রথমবার সরকারে এসেই নিজের তিনটি স্বপ্নের কথা বলেছিলেন দিদি। জানিয়েছিলেন, কলকাতা হবে লন্ডন, দার্জিলিং হবে সুইৎজারল্যান্ড আর দিঘা হবে গোয়ার মতো। নিন্দুকেরাও স্বীকার করে নেন, গত আট বছরে দিঘার ছবিটাই আমূল বদলে দিয়েছেন দিদি। সৈকতনগরীর সৌন্দর্যায়নে কয়েক কোটি টাকা ঢেলেছে রাজ্য। মঙ্গলবার সেই দিঘাতেই অত্যাধুনিক কনভেনশন সেন্টার উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, “আগে লোকে সপ্তাহ শেষে দিঘায় আসত। এখন এভরি ডে ইজ বিজি ডে। লোকে কাশ্মীর যেতে পারছে না। অন্য কোথাও যেতে পারছে না। সবাই দিঘায় আসছে। শর্ট ডিস্টেন্সে বিউটিফুল ডেস্টিনেশন।”

ওই কনভেনশন সেন্টারে শিল্পগোষ্ঠীগুলিকে আসার আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী। জানান এখানে রয়েছে ৬৩টি রুম। সেমনার বা সম্মেলনের জন্য এলেই ‘কমপ্লিট’ প্যাকেজ মিলবে। তাঁর কথায়, “এটা বুক করলে সমুদ্র ফ্রি। সমুদ্র ফ্রি মানে নিঃশ্বাস ফ্রি। নিঃশ্বাস ফ্রি মানে পরিবেশ ফ্রি। আর পরিবেশ ফ্রি মানেই স্বাস্থ্যশ্রী।” মুখ্যমন্ত্রী এই কনভেনশন সেন্টারের নাম দিয়েছেন ‘দিঘাশ্রী।’

দিঘার সৌন্দর্যায়ন আরও কী ভাবে বাড়ানো যায়, সে ব্যাপারেও নিজের পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। মমতা এ দিন বলেন, “আগামী দিনে আমার ইচ্ছে আছে যাতে দিঘার সমুদ্রে সি প্লেন নামানো যায়। এখানে অনেক গাড়ি আসে। সেগুলিকে রাখার জন্য আন্তর্জাতিক মানের দুটি পার্কিং প্লাজাও তৈরি হবে।”

পুরীতে যেমন সমুদ্রের সঙ্গে পর্যটকদের বাড়তি টান জগন্নাথমন্দির। তেমনই দিঘাতেও জগন্নাথ মন্দির নির্মাণের কথা বলেন মমতা। তাঁর কথায়, “প্রতিটা ট্যুরিস্ট স্পটের সঙ্গেই একটা ধর্মীয় স্থান থাকে। এখানে একটা জগন্নাথ ঘাট আছে। আমরা ওখানে একটা জগন্নাথ মন্দির তৈরি করব।”

তবে সমুদ্রের পাড় যাতে কোনও ভাবেই নোংরা না হয় সে বিষয়ে জনপ্রতিনিধি এবং পুলিশকে সমঝে দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “সমুদ্রের গায়ে যেন স্টল না হয়। কেউ এসে দাবি করল, আর আপনারা করে দিলেন, তা কিন্তু হবে না। ব্ল্যাকমেলিং-এর কাছে মাথা নত করবেন না। পরিবেশ নষ্ট না করে যেন কিছু না হয়। চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিন।”

দিঘার মানুষের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “কোনও ট্যুরিস্ট যেন বিরক্ত না হন। লক্ষ্মীকে হাতছাড়া করবেন না। মনে রাখবেন ট্যুরিস্ট এলেই আপনাদের রোজগার হবে। ঘটিভাজা বিক্রি করুন দেখবেন কত ইনকাম। একটা ভেজিটেবলএর দোকান করুন, মোমোর দোকান করুন, দেখবেন কত রোজগার হচ্ছে।”

তাজপুর বন্দরের কাজের জন্য যে আর কেন্দ্রীর মুখাপেক্ষি হয়ে থাকবে না রাজ্য তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘোষণা করেন, সাত কিলোমিটার মেরিনা বিচের কাজ শুরু হবে শিগগির। স্থানীয় প্রশাসনের উদ্দেশে পরিবেশ রক্ষা করতে পরামর্শ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নারকেল গাছের নার্সারি করে যদি কয়েক লক্ষ গাছ লাগানো যায়, তাহলে পরিবেশ বাঁচবে। দেখুন এটা যদি করতে পারেন। আমরা বীজ দিয়ে দেব। চাষিরা চাষ করবে।”

তবে এই অনুষ্ঠান থেকেও কেন্দ্রকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “প্রতিযোগিতা হোক কাজ-শান্তি-ভিশন-মিশনের মধ্যে দিয়ে। দাঙ্গা-ধ্বংস-হানাহানি নয়। ভোট আসবে, ভোট যাবে । কিন্তু পাঁচ বছর কাজটা তো করতে হবে।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More