শনিবার, জুলাই ২০

ঘটনা ঘটলেই স্ট্রং অ্যাকশন, মমতার ঘোষণার পরেই হাততালিতে ফেটে পড়ল নবান্ন, স্বস্তি এনআরএস-এও

দ্য ওয়াল ব্যুরো: টান টান আট দিন। অবশেষে জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লাইভ স্ট্রিমিং হল সেই বৈঠকের। দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা বৈঠকের পরে মুখ্যমন্ত্রী জুনিয়র ডাক্তারদের স্পষ্ট বলে দিলেন, “ঘটনা ঘটলেই এ বার থেকে স্ট্রং অ্যাকশন নেওয়া হবে।” সঙ্গে সঙ্গে হাততালিতে ফেটে পড়ল নবান্নের ক্যাবিনেট রুম। সেই স্ট্রিমিং দেখতে দেখতে স্বস্তির হাসি এনআরএস হাসপাতালের উঠোনেও।

১২ দফা দাবি নিয়ে রাজ্যের সবকটি মেডিক্যাল কলেজ এবং ডেন্টাল কলেজের ৩১ জনের একটি প্রতিনিধি দল বিকেল তিনটে চল্লিশ নাগাদ নবান্নে ঢোকেন। সঙ্গে দু’জন সিনিয়র ডাক্তার সুকুমার মুখোপাধ্যায় এবং অভিজিৎ চৌধুরী। সেই বৈঠকেই একের পর এক দাবি জানাতে থাকেন ডাক্তারি পড়ুয়ারা। প্রায় সব দাবিই মেনে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। একেবারে শেষ লগ্নে জুনিয়র ডাক্তাররা বলেন, “ম্যাডাম, ডাক্তারদের উপর আক্রমণের ঘটনা নিয়ে আপনি একটা স্ট্রং ওয়ার্ড বলুন।” এরপরই মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের উদ্দেশে বলেন, “আমি তো অলরেডি স্ট্রং ওয়ার্ড বলেছি। তোমরা বলো, আমায় কী ওয়ার্ড বলতে হবে। কী স্ট্রং ওয়ার্ড বললে তোমরা খুশি হবে। আমি সেটাই বলব।”

বৈঠকের পর খুশি দু’পক্ষই। মমতাও জানিয়েছেন ইতিবাচক বৈঠক। সমস্ত পরামর্শই খুব ভাল। উল্টোদিকে আন্দোলনরত ডাক্তারবাবুরাও বললেন, তাঁরাও খুশি। এটাই তাঁরা চেয়েছিলেন।

স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য,মুখ্যসচিব মলয় দে, স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মা, ডিজি বীরেন্দ্র, এডিজি আইন-শৃঙ্খলা জ্ঞানবন্ত সিং-সহ একাধিক আমলাদের সঙ্গে নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। যা যা সমস্যর কথা জানিয়েছেন জুনিয়র ডাক্তাররা, আমলাদের উদ্দেশে তিনি বার্তা দিয়ে বলেছেন, দ্রুত এই বিষয়গুলি দেখতে হবে। স্থানীয় থানাগুলি যাতে হাসপাতাল এবং ডাক্তারদের নিরাপত্তার ব্যাপারে আরও কড়া হয়, সে ব্যাপারেও জোরের সঙ্গে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীর সামনেই জুনিয়র ডাক্তাররা অভিযোগ করেন, গ্রামাঞ্চলে প্রাথমিক বা ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা প্রতিটি ক্ষেত্রে নাক গলায়। প্রায়শই উত্তেজনায় মদত দেয়। ডাক্তারদের এই বক্তব্য মেনে নেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি জানি এটা হয়। কিন্তু আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে।”

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠকটাই যদি গত মঙ্গলবার বা  বড় জোর বুধবারই হতো, অর্থহীন জেদাজেদি না হতো তাহলে সারা রাজ্যের মানুষকে এক সপ্তাহ ধরে দুর্ভোগ পোয়াতে হতো না। চলত না এত চাপানউতোরও।

Comments are closed.