শিক্ষকদের নিয়োগ নিজের জেলাতেই, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরস্বতী পুজোর আগের দিন রাজ্যের শিক্ষকদের সুখবর শোনালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানিয়ে দিলেন, রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সব শিক্ষকদের তাঁদের নিজের জেলাতেই নিয়োগ করা হবে।

    মঙ্গলবার টুইট করে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরপর তিনটি টুইট করেন তিনি। প্রথম টুইটে মমতা বলেন, “আমরা আমাদের শিক্ষক ও ছাত্রদের জন্য গর্বিত। শিক্ষকরাই প্রধান অভিভাবক। সমাজ ও দেশ গড়তে তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের ছাত্র-ছাত্রীদের সঠিক পথ দেখিয়েই কালকের সুযোগ্য নেতাতে পরিণত করেন তাঁরা।”

    দ্বিতীয় টুইটে মমতা বলেন, “সরস্বতী পুজোর আগের দিনই সবথেকে ভাল সময় শিক্ষকদের প্রতি সম্মান জানানোর। আমাদের সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সব শিক্ষকদের তাঁদের নিজের জেলায় নিয়োগ করা হবে।”

    তিন নম্বর টুইটে মমতা জানান কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাঁর সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষরা যেমন তাঁদের পরিবারের দেখভাল করতে পারবেন, সম্পূর্ণ চাপমুক্ত হয়ে কাজ করতে পারবেন, তেমনই দেশগঠনের কাজে আরও সক্রিয় হয়ে উঠতে পারবেন। আমি সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই।”

    তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কখনও মেধাতালিকায় অনিয়ম, তো কখনও টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্কুল সার্ভিস কমিশনের বিরুদ্ধেও অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন প্রার্থীরা। বারবার বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে। কখনও প্রাইমারি স্কুল, কখনও হাই-স্কুল বা কখনও মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীরা ধর্নায় বসেছেন। শিক্ষমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধায়ের সঙ্গে অনেকবার বৈঠক হয়েছে তাঁদের। কিন্তু তারপরেও এই দ্বন্দ্ব মেটেনি।

    মমতার এই ঘোষণার পরে পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ক্ষমতায় থাকাকালীন এই শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেই সবথেকে বেশি সমালোচনা শুনতে হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকে। তিনি বারবার এই বিক্ষোভ থামানোর চেষ্টা করেছেন। কখনও নিজে হাজির হয়েছেন ধর্নামঞ্চে। বেতন বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। কখনও বা শিক্ষমন্ত্রীকে বৈঠকে বসে সমাধানসূত্র বের করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু তারপরেও এই বিক্ষোভ সম্পূর্ণভাবে কমেনি। আর তাই শিক্ষকদের নিজের জেলায় নিয়োগের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করলেন তিনি। কারণ, মমতা জানেন, নিজের জেলায় চাকরি পাওয়ার দাবিও শিক্ষকরা অনেক দিন ধরে করছেন। সেই দাবি মিটিয়ে অন্য দাবিদাওয়াগুলো কিছুটা দমানোর চেষ্টা মুখ্যমন্ত্রী করলেন বলেই তাঁদের মত।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More