শনিবার, সেপ্টেম্বর ২১

বানতলার পর হাওড়া, আরও ১৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা মমতার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ১৮ জুলাই বানতলায় লেদার কমপ্লেক্সে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, ৮০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হবে। কর্মসংস্থান হবে পাঁচ লক্ষ। একমাস কাটল না সেই ঘোষণার। শুক্রবার নবান্ন সভাঘরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফের ঘোষণা, হাওড়ায় শ্রমনিবিড় শিল্পে ১৩হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে। কর্মসংস্থান হবে দু’লক্ষ। জেলার বিভিন্ন জায়গায় ১হাজার ৬৩৩ একর জমিতে তৈরি হবে ক্লাস্টার। অর্থাৎ একমাসের মধ্যে ৯৩ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, “হাওড়া একসময়ে ক্ষুদ্র শিল্পের পূণ্যভূমি ছিল। আমাদের সেই দিন ফিরিয়ে আনতে হবে।” তাঁর কথায়, “সমস্যার জট খুলতে খুলতে এগোতে হচ্ছে আমাদের। আগে বাংলার নাম শুনলে শিল্পপতিরা মুখ ফিরিয়ে নিতেন। আর এখন তাঁরাই নিজেদের মুখ সামনে আনছেন।”

বাম আমলে রাজ্যের শিল্প জলাঞ্জলি যাওয়ার পিছনে পর্যবেক্ষকদের অনেকেরই মত, ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের চলছে না চলবে না সংস্কৃতি আর ধর্মঘটই দায়ী। এ দিন মুখ্যমন্ত্রীও সে ব্যাপারে বলেন, “কথায় কথায় গেট বন্ধ করে ঝান্ডা নিয়ে বসে পরা, এটা হতে পারে না। আমি মালিক আর শ্রমিককে মিলিয়ে দিতে চাই। কারখানা বন্ধ হলে তো দু’পক্ষেরই ক্ষতি। এটা বুঝতে হবে।”

শিল্পমহলের অনেকেরই ক্ষোভ ছিল দমকলের ছাড়পত্র পাওয়ার জটিলতা নিয়ে। এ দিনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই শিল্পমন্ত্রী অমিত মিত্রকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অমিতদা, আপনি দেখুন সবকটা ক্লিয়ারেন্স যাতে সিঙ্গল উইন্ডো দিয়ে ক্লিয়ারেন্স পাওয়া যায়।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিল্প করতে গেলে যে যে বিষয়ে লাইসেন্স দরকার হয়, সেই দমকল, পরিবেশ, দূষণ—সব ছাড়পত্র যাতে একসঙ্গে পেতে পারেন শিল্পপতিরা সেটাও দেখবে সরকার।

এ দিনের সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেও নাম না করে বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারকে কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “গাড়ি শিল্পের কী অবস্থা! এই পরিস্থিতিতে আমাদের কাজ হবে অর্থনৈতিক ইস্যুর উপর জোর দেওয়া। যতই বড় বড় ভাষণ দিন, মিডিয়া কন্ট্রোল করুন, অর্থনীতির কথা আগে ভাবতে হবে।” সেই সঙ্গে তিনি আরও বলেন , “কাজের বদলে কাজের প্রতিযোগিতা করুন, ভাগাভাগি হিংসা করবেন না।”

জমির ছাড়পত্র নিয়েও অযথা জটিলতা যাতে না বাড়ে সে ব্যাপারেও সরকারের আমলা এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের সতর্ক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “সলিউশন মানে তো পলিউশন নয়। আমি জমি দিলাম, আরএক জন কোর্টে চলে গেল। তাহলে তো গোটা কাজটাই ধাক্কা খাবে। সেটা যাতে না হয় আমাদের দেখতে হবে। আইনি ব্যাপারটা ভাল করে দেখে নিতে হবে।”

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এ দিনের বক্তৃতায় মুখ্যমন্ত্রী বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে যা তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁদের মতে, আগে মুখ্যমন্ত্রী যে কোনও অনুষ্ঠান, সে সরকারি হোক বা দলীয়, সেই মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলতেন, বাংলায় প্রায় দু’কোটি বেকারের কর্মসংস্থান হয়ে গিয়েছে। বিরোধীরা তা নিয়ে সমালোচনার তিরে বিদ্ধ করত শাসকদলকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ত মিম। লোকসভা ভোটের পর যেন সে ব্যাপারে সতর্ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনেকের মতে, এটাও হয়তো পিকে-র পরামর্শেই করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

 

Comments are closed.