শনিবার, মে ২৫

উনিশের ভোটেও টলিউড তাস মমতার, পুরনো তিন, নতুন দুই

দ্য ওয়াল ব্যুরো: টলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সঙ্গে বরাবরই ভালো সম্পর্ক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। নিজে টলিউডের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন। আবার ২১ জুলাই থেকে শুরু করে তৃণমূলের বিভিন্ন মিছিল ও অনুষ্ঠানে দেখা যায় টলিউডের প্রথম সারির অনেক তারকাকেই। লোকসভা ভোটই হোক, কি বিধানসভা, আগেও দেখা গিয়েছে টালিগঞ্জের অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীকেই টিকিট দিয়েছেন দিদি। সেই আস্থা এ বারেও দেখালেন তৃণমূল সুপ্রিমো। ঘাটাল লোকসভা আসনে দীপক অধিকারী ( দেব ) ও বীরভূম লোকসভা আসনে শতাব্দী রায় তো ছিলেনই, কেন্দ্র বদল করে এ বারেও টিকিট দিলেন মুনমুন সেনকে। এ বারের নতুন দুই মুখ বসিরহাট লোকসভা আসনে নুসরত জাহান ও যাদবপুর আসনে মিমি চক্রবর্তী।

মঙ্গলবার নিজের কালীঘাটের বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন মমতা। প্রথমেই তিনি বলেন, গতবার মেদিনীপুর লোকসভা আসন থেকে জেতা সন্ধ্যা রায়কে এ বার আর প্রার্থী করা হচ্ছে না। সন্ধ্যা রায়ের পক্ষে বয়সের কারণে দৌড়-ঝাঁপ করা সম্ভব হচ্ছে না বলেই তাঁকে এ বার আর দাঁড় করানো হচ্ছে না বলে জানান তিনি। অভিনেতা দেব ও শতাব্দী রায় তাঁদের আগের লোকসভা আসনেই দাঁড়াচ্ছেন। মুনমুন সেনকে বাঁকুড়ার বদলে এ বার দাঁড় করানো হচ্ছে আসানসোলে। তারপরেই এ বারের দুই নতুন মুখের নাম বলেন মমতা। যাদবপুরে মিমি ও বসিরহাটে নুসরত। নাট্যব্যক্তিত্ব অর্পিতা ঘোষকে ফের বালুরঘাট আসনে প্রার্থী করা হয়েছে।

তৃণমূল সূত্রে খবর, বীরভূম থেকে শতাব্দী রায়কে প্রার্থী না করার ব্যাপারে সওয়াল করেছিলেন বীরভূমের জেলা সভাপতি অনুব্রত মন্ডল। কিন্তু তারপরেও শতাব্দীর উপর ভরসা রেখেছেন তিনি। বসিরহাটে ইদ্রিস আলির জায়গায় এ বার আনা হয়েছে নুসরতকে। নায়িকা হিসেবে নুসরত বেশ পরিচিত। তাই তাঁর এই স্টারডমকে ব্যবহার করে জিততে চাইছেন মমতা। যাদবপুরে বরাবরই রাজনীতির বাইরের লোকদেরই টিকিট দেয় তৃণমূল। ২০০৯-এর ভোটে দাঁড় করিয়েছিলেন কবীর সুমনকে। তারপর চোদ্দর ভোটে নেতাজি পরিবারের সদস্য তথা প্রফেসর সুগত বসুকে টিকিট দিয়েছিলেন দিদি। আর এ বার মিমি চক্রবর্তী। তাই এ ক্ষেত্রে রাজনীতির বাইরের লোকের ধারাই বজায় রেখেছেন মমতা।

মমতার নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুর আন্দোলন তখন বামেদের সংগঠনে চিড় ধরিয়ে দিয়েছে। সেই সময়ে ২০০৯ সালের লোকসভায় কৃষ্ণনগর থেকে দিদি প্রার্থী করেছিলেন গুরুদক্ষিণার নায়ক তাপস পালকে। জিতে সাংসদও হয়েছিলেন তিনি। চোদ্দতেও তিনি জেতেন। কিন্তু তারপর রোজভ্যালি মামলায় নাম জড়িয়ে ভুবনেশ্বরে সিবিআই জেলে বেশ কয়েকমাস কাটিয়ে আসার পর থেকে রাজনীতিতে আর দেখা যায়নি তাঁকে। তাই এ বার যে তিনি টিকিট পাবেন না, সেটা একপ্রকার নিশ্চিত ছিল। শুধু সাংসদই নয়, বিধানসভা ভোটেও তৃণমূলের হয়ে লড়তে দেখা গিয়েছে অভিনেতা চিরঞ্জিৎ, সোহম এবং অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়কে। এমনকী গায়ক থেকে শুরু করে ক্রীড়াব্যক্তিত্বরাও টিকিট পেয়েছেন তৃণমূলের। হাওড়ার সাংসদ প্রসুন বন্দ্যোপাধ্যায় ও বসিরহাটের বিধায়ক দীপেন্দু বিশ্বাসও নামকরা ফুটবলার হিসেবেই জায়গা পেয়েছেন দলে। গায়ক সৌমিত্র রায়ও চোদ্দর লোকসভা ভোটে মালদহ উত্তরের প্রার্থী হয়েছিলেন। ২০১৪ সালে বহরমপুরে দিদি প্রার্থী করেছিলেন গায়ক ইন্দ্রনীল সেনকে। সে বার হেরে গেলেও ষোলোর বিধানসভায় তাঁকে চন্দননগর থেকে জিতিয়ে আনেন মমতা। নিয়ে নেন ক্যাবিনেটেও। সেই ধারাই বজায় থাকল উনিশে।

আরও পড়ুন

দুই সুব্রতর কিসসা: একজন গেলেন, একজন এলেন

 

Shares

Comments are closed.