ডিপিতে বিদ্যাসাগর, কভারে মা দুর্গার চক্ষুদান! রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি বদলে কোন বার্তা দিলেন মমতা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটি রাজনৈতিক দলের রোড শো, তার পরবর্তী অশান্তি, কলেজ চত্বরে ভাঙচুর, বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা– এবং তার পরে অবশ্যম্ভাবী দোষারোপের টানাপড়েন। দিনভর চূড়ান্ত অনাকাঙ্ক্ষিত একটি রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখল শহরবাসী। দিনের শেষে ফেটে পড়ল বিক্ষোভে, ধিক্কারে, রাগে। সোশ্যাল মিডিয়ায় উপচে উঠল প্রতিবাদ। এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় আর এক পরিবর্তন দেখল নোটিজেনরা। বদলে গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসিয়াল টুইটার ও ফেসবুক পেজের প্রোফাইল পিকচার। তাঁর নিজের ছবির বদলে সেখানে এখন রয়েছে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ছবি। এবং টুইটার পেজের কভারে রয়েছে, মা দুর্গার কপালে তাঁর চোখ আঁকার ছবি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি এ শহরের বুকে ভেঙে যাওয়ার ঘটনা নিঃসন্দেহে নিন্দাজনক। লজ্জাজনক তো বটেই। রাতের দিকে ভাইরাল হওয়া একটি সিসিটিভির ফুটেজে দেখাও যায়, যারা মূর্তি ভাঙছে তাদের মধ্যে গেরুয়াবাহিনীর মিছিল থেকে ঢোকা লোকও রয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, পুলিশের ভূমিকা ঠিক কী ছিল সেই সময়টায়। প্রশ্ন উঠেছে, কেন আটকানো গেল না এই ভয়ঙ্কর ঘটনা! কলেজ চত্বরে ঢুকে ‘বহিরাগত’রা আগুন দিতে পারল কী করে এত সহজে। নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকলেও, চোখের সামনে ভাঙচুর, আগুন জ্বালানোর মতো ঘটনা দেখেও কেন সক্রিয় হল না পুলিশ।

এবং যথারীতি ঘটনাটি কেন্দ্র করে বিজেপি-তৃণমূল দোষারোপের পালা শুরু হয়ে গিয়েছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন বলেছে, মনীষীদের অপমান বাংলা মেনে নেবে না, তেমনই বিজেপির তরফেও মুকুল রায় বাবুল সুপ্রিয়রা মন্তব্য করেছেন, পুরো ঘটনাটাই সাজানো, কারণ কলেজের গেট বন্ধ থাকায় তাদের মিছিলের কোনও সমর্থকের পক্ষে নাকি ভেতরে ঢোকাই সম্ভব ছিল না।

এ রাজনৈতিক টানাপড়েন চলবে। কিন্তু এরই মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রোফাইলের ছবি বদল নেটিজেনদের একাংশের মনে প্রশ্ন তুলেছেন, বিষয়টি কি তা হলে শুধু বাংলার ক্ষত নয়, রাজনীতির অস্ত্রও হয়ে উঠল? বাঙালির সংবেদনশীল জায়গায় স্পর্শ করে, সহমর্মী হিসেবে ফেসবুক ডিপি পাল্টে, মমতা কি ভোটব্যাঙ্কের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছেন না?

কোনও ঘটনার সমব্যথী হিসেবে ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপে প্রোফাইল পিকচার বদল করা নতুন কিছু নয়। বহু দিন ধরেই অনেকেই এমনটা করছেন। কিন্তু আজকের ঘটনার অভিঘাতে এই বদল সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে সে ভাবে চোখে না পড়লেও, প্রকট ভাবে চোখে পড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রোফাইলের ছবি বদল।

এবং একই সঙ্গে নজর কেড়েছে টুইটার প্রোফাইলের কভারে মা কালীর ছবি পোস্ট করা। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, বিজেপির হিন্দুত্ববাদকে অস্ত্র করে এ রাজ্যে প্রচার করা যে রাজনীতিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদে পদে বিঁধেছেন, সমালোচনা করেছেন ধর্মীয় মেরুকরণের, বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন এই বাংলা কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের আওতায় পড়ে না, সেই মমতাই তাঁর টুইটারের কভারে মা দুর্গার মূর্তির ছবি রেখে সেই তো ধর্মীয় আবহই তৈরি করলেন।

ইতিমধ্যেই শহরবাসী দেখেছে, মাথায় সাদা ওড়না বেঁধে রমজান মাসের প্রার্থনা করছেন তৃণমূল প্রার্থী মিমি চক্রবর্তী। দেখেছেন, বসিরহাট এলাকার প্রার্থী নুসরত জাহান বিভিন্ন মন্দিরে পুজো করছেন ধর্ম নিরপেক্ষতা প্রমাণ করতে। প্রশ্ন উঠেছে ধর্ম নিরপেক্ষতাই যদি মমতার দলের বৈশিষ্ট্য হবে, সেই নিরপেক্ষতার জোরেই যদি তিনি বিজেপির হিন্দুত্ববাদের রাজনীতিকে রুখে দেওয়ার কথা বলবেন, তা হলে নিজের টুইটারের কভারে হিন্দু দেবী মা দুর্গার ছবি কেন রাখলেন তিনি? এখানেও কি রয়েছে সুক্ষ্ম কোনও রাজনীতির খেলা?

তবে নেটিজেনদের একটা বড় অংশ মনে করছেন, হিন্দুত্ববাদের নাম করে দেশের সর্বধর্মসমন্বয়ের ঐক্যে আঘাত করার যে রাজনীতি এ দেশের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারার আশঙ্কার তৈরি হচ্ছে, আজকের ঘটনার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোশ্যাল মিডিয়ার ছবি-বদলও সেই আশঙ্কার দিকেই খানিক ঝুঁকে যাচ্ছে। ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতিকে রুখতে গিয়ে, মানুষের ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করার কথাই বলছে তাঁর টুইটার প্রোফাইলের দুর্গা ঠাকুরের ছবি।

যদিও মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, মমতা বরবারই মা কালীর ভক্ত। এমনকী বিভিন্ন পুজোয় উপোসও করেন তিনি। কালীঘাট ও দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরে নিয়মিত যাতায়াত আছে তাঁর। এমনকী ভোট প্রচারের মঞ্চেও বিভিন্ন মন্ত্রে ও দেবদেবীর নামে একাধিক বার তাঁর ধার্মিক মনোভাবের পরিচয় পেয়েছে মানুষ। কিন্তু এর কোনওটাই নতুন নয়।

নতুন হল, মঙ্গলবার রাতেই আচমকা মুখ্যমন্ত্রীর ছবি বদল করার ঘটনাটি। এটিকে মানুষের কাছে পৌঁছনোর পথ চওড়া করার রাজনীতি হিসেবেই দেখছেন অনেকে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More