বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২২

মমতা বলেছিলেন সিবিআই ডাকলে যেও না, আমি শুনিনি: মুকুল

শুভদীপ পাল 

একদা তিনি ছিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ম্যান। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরে দলের নাম্বার টু। সেই মুকুল রায়, এখন বিজেপি-র কেন্দ্রীয় স্তরের নেতা, বুধবার সিউড়িতে প্রকাশ্যে দলের জনসভার মঞ্চ থেকে প্রথমবারের জন্য বললেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর বনিবনা না হওয়ার অন্যতম কারণ কী।

এ দিন প্রাক্তন রেলমন্ত্রী বলেন, “আমার সঙ্গে তো মমতাদেবীর গণ্ডগোলের অনেক কারণ। তার মধ্যে একটা সিবিআই। আমাকে বলেছিলেন তুমি সিবিআই ডাকলে যাবে না। এই রাজ্যটা আমাদের। এই রাজ্যে থাকবে, জেলে থাকবে, আনন্দে থাকবে, কিচ্ছু অসুবিধে হবে না।” মুকুলবাবু আরও বলেন, “আমি বলেছিলাম এটা হতে পারে না। আমি চুরি করিনি। যতবার সিবিআই ডাকবে ততবারই আমি সিবিআইকে সহযোগিতা করতে যাব।”

সন্দেহ নেই, এমন মন্তব্য লোকসভার কয়েকমাস আগে রাজনৈতিক ভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের অনেকের বিরুদ্ধে সিবিআই এবং ইডি তদন্ত করছে। সারদা এবং নারদ মূলত যে দুটি কাণ্ডে এই তদন্ত চলছে, সেই সময় দলের দু’নম্বর ব্যক্তি ছিলেন মুকুলবাবুই। ফলে মুকুলবাবুকে ডেকেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। হাজিরাও দিয়েছিলেন মুকুল।

সিউড়ির জনসভায় মুকুল এখানেই থামেননি। বলেন, “অনেক মন্ত্রী আছেন যাঁরা রাতে ভাল করে ঘুমোতে পারেন না। মাঝ রাতে লাফিয়ে উঠে পড়েন। এই বুঝি দরজায় কড়া নাড়ল।” মুকুলবাবু বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পরে পরেই ২০১৭-র ডিসেম্বরে রানি রাসমণি রোডে প্রথম জনসভায় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন। কাগজ দেখিয়ে বিশ্ববাংলার লোগোর মালিকানা নিয়ে ধর্মতলা থেকে আঙুল তুলেছিলেন কালীঘাটের দিকে। সেই শুরু। তারপর থেকে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন।

সিউড়ির সমাবেশে মুকুল রায়ের এই বক্তব্য শোনার পরও তৃণমূলের তরফে দলগতভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। প্রতিক্রিয়া দিলে তা এই প্রতিবেদনে আপডেট করে দেওয়া হবে। দ্য ওয়াল-এর তরফে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছিল দলের অন্যতম মুখপাত্র তথা রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের সঙ্গে। কিন্তু তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

সংগঠন থেকে প্রশাসনিক রদবদল, একটা সময় তিনিই করতেন সবটা। সারা রাজ্যে তৃণমূলের ভোট মেশিনারি তাঁর হাতেই তৈরি বলে শাসক দলের বহু নেতাই ঘরোয়া আলোচনায় স্বীকার করে নেন। জেলা, ব্লক ধরে সংগঠন চেনেন হাতের তেলোর মতো। তেমন নেতা যদি প্রাক্তন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সম্পর্কে এমন মন্তব্য করেন, তা অবশ্যই রাজনৈতিক ভাবে ওজনদার।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে মালদহের সভা করেই দিল্লি ফিরে যেতে হয়েছে বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহকে। মঙ্গলবারই বঙ্গ বিজেপি-র নেতারা ঠিক করেছিলেন ভাগাভাগি করে বাকি চারটি সভা করবেন। কর্মীদের মনোবলে একটু চিড় ধরেছিল ঠিকই। কিন্তু সিউড়ির সভায় গরম গরম কথা উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে গেরুয়া শিবিরের।

Comments are closed.