শুক্রবার, নভেম্বর ১৫

নিমতা কাণ্ড: অবশেষে পুলিশের জালে দেবাঞ্জন খুনের মূল অভিযুক্ত প্রিন্স

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিমতায় যুবক খুনের ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার হয়েছে মূল অভিযুক্ত প্রিন্স সিং।

বজবজে মাসির বাড়িতে গা-ঢাকা দিয়েছিল প্রিন্স। বদলেছিল নিজের লুকসও। তবে তাতে বিশেষ লাভ হয়নি। শনিবারই তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রাতেই বেলঘড়িয়া থানায় নিয়ে আসা হয় প্রিন্সকে। দফায় দফায় চলে জেরা। পুলিশ জানিয়েছে, জেরায় নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন প্রিন্স। জেরায় প্রিন্স জানিয়েছে দেবাঞ্জনকে খুনের ষড়যন্ত্র করেছিল সেই। জোগাড় করেছিল পিস্তলও। দেবাঞ্জনের উপর গুলিও চালিয়েছিল প্রিন্স নিজেই। শনিবার রাতে বেলঘড়িয়া থানাতেই রাখা হয়েছিল দেবাঞ্জন খুনের দুই মূল অভিযুক্ত প্রিন্স সিং এবং বিশাল মারুকে। রবিবার তাদের ব্যারাকপুর আদালতে তোলা হবে।

নবমীর রাত শেষে নিমতার বঙ্কিম মোড়ে গাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছিল দমদমের বাসিন্দা ম্যানেজমেন্ট পড়ুয়া দেবাঞ্জন দাসের দেহ। চালকের আসনে মিলেছিল তাঁর দেহ। ওই তরুণের পরিবার প্রথম থেকেই দাবি করেছিল, দেবাঞ্জনকে খুন করা হয়েছে। এর পিছনে ত্রিকোণ প্রেমই অন্যতম কারণ বলেও দাবি করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু পুলিশ জানিয়েছিল, গাড়ি দুর্ঘটনাতেই মৃত্যু হয়েছে বছর কুড়ির ওই তরুণের। এমনকি পরিবারের অভিযোগ নিতে চাননি নিমতা থানার আইসি। তবে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট হাতে আসার পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, দেবাঞ্জনের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক যে রিপোর্ট হাতে পাওয়া গেছে, সেখানে ওই তরুণের শরীরে দু’টি বুলেটের ক্ষতর উল্লেখ রয়েছে। একটি তাঁর ঘাড়ের বাঁ দিকে। অন্যটি ডানহাতের কনুইয়ের কাছে। গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে শরীরে যে ধরণের আঘাত থাকার কথা, তেমন কিছু মেলেনি।

পুলিশ জানিয়েছে, নবমীর রাতে সাড়ে ন’টা নাগাদ বান্ধবীর সঙ্গে পার্টিতে গিয়েছিলেন দেবাঞ্জন। সেখানে উপস্থিত ছিল দেবাঞ্জনের বান্ধবী উচ্চমাধ্যমিক পড়ুয়া ওই তরুণীর আরেক বন্ধু বান্টি সিংও। বান্টি দেবাঞ্জনের পূর্ব পরিচিত। কিন্তু পরে দুজনের সম্পর্কের অবনতি হয়। পুলিশের দাবি, দুজনের সঙ্গেই পাশাপাশি সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন ওই তরুণী। বান্টি ওরফে প্রিন্সকে সেখানে উপস্থিত দেখে পার্টি থেকে বেরিয়ে আসতে গিয়েছিলেন দেবাঞ্জন। পরে ঘণ্টাদুয়েক সেখানে ছিলেন। বাড়ি ফেরার পথে বান্ধবীকে তার বাড়িতে নামান দেবাঞ্জন। এরপরেই খুন হন তিনি। তাঁর মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ঘেঁটে দেখা গেছে বাড়িতে নেমে যাওয়ার পরেও দেবাঞ্জনের সঙ্গে কথা হয়েছে ওই তরুণীর। কমিশনারেটের এক পুলিশ কর্তা জানান, দেবাঞ্জনের শেষ অবস্থান একমাত্র জানতেন তার বান্ধবী। কিন্তু জেরায় বারবার তিনি পুলিশকর্তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। দেবাঞ্জন খুন হয়েছেন এটা স্পষ্ট হওয়ার পর থেকেই গা ঢাকা দেয় বান্টি ওরফে প্রিন্স। অবশেষে শনিবার পুলিশের জালে পাকড়াও হয়েছে এই অভিযুক্ত।

পড়ুন দ্য ওয়াল-এর পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

আগে তো আমাদের বাঙালি হতে হবে, তারপরই না ফিউশন: সনজীদা খাতুন

Comments are closed.