বুধবার, জুলাই ১৭

হাত ধরবে সাধারণ মানুষের, দুর্গাপুরে প্রথম প্রধানমন্ত্রী জনৌষধি কেন্দ্র খুলল ডঃ বিসি রায় ফার্মাসি কলেজ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেধাভিত্তিক পড়াশোনা শুধু নয়, প্রযুক্তি থেকে স্বাস্থ্য, নানা দিকেই সফলতার ছাপ রেখেছে দুর্গাপুর বিসি রায় গ্রুপ অব ইনস্টিটিউশনস। কর্মসংস্থানের দৌড়েও বাংলার কলেজগুলির মধ্যে দুর্গাপুরের ডঃ বিসি রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এক অনন্য নাম। ২০ বছর আগে যে পথ চলা শুরু হয়েছিল তা এখন অনেক পরিণত, অনেক বেশি পরিচিত। ডঃ বিসি রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ তো বটেই, বাংলার সেরা ফার্মাসি কলেজগুলির মধ্যেও প্রথম সারিতেই রয়েছে ডঃ বিসি রায়ের ফার্মাসি বিভাগ। এগিয়ে চলার এই সিঁড়িতেই এ বার যোগ হলো আরও এক ধাপ। প্রধানমন্ত্রীর জনৌষধি যোজনার অধীনে বিধাননগরের কলেজ ক্যাম্পাসে কম মূল্যের মেডিসিন স্টোর খুলল ডঃ বিসি রায় কলেজ অব ফার্মাসি।

বাংলার ফার্মাসি কলেজগুলোর মধ্যে এই প্রথম ডঃ বিসি রায় ফার্মাসি বিভাগের উদ্যোগে কলেজের ভিতরেই ভারতীয় জনৌষধি কেন্দ্র খোলা হলো। শুধু কলেজ নয়, গোটা দুর্গাপুরেই এমন মেডিসিন স্টোর এই প্রথম। গত ৪ জুলাই জেনারেল সেক্রেটারি তরুণ ভট্টাচার্য ও ট্রেসারার জেরনাল সিংয়ের তত্ত্বাবধানে জন ঔষধি কেন্দ্রে উদ্বোধন হলো কলেজ ক্যাম্পাসে। উদ্বোধন করেন দুর্গাপুর মিশন হাসপাতালের ডেপুটি সুপার। উপস্থিত ছিলেন কলেজ পড়ুয়া, শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মচারী, ডাক্তার থেকে এলাকার লোকজনও। ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি শুধু নয়, সরকারি প্রকল্পের আওতায় কম দামে উন্নতমানের জেনেরিক ওষুধ মানুষজনের হাতে তুলে দেওয়ার নতুন অঙ্গীকার নিল ডঃ বিসি রায় ফার্মাসি কলেজ।

প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় জনৌষধি পরিযোজনার অধীনে ৩৩ টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ৩ মার্চ, ২০১৮ পর্যন্ত ৩২১৪ টি কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এই সব কেন্দ্রগুলিতে কম দামে উন্নতমানের জেনেরিক ওষুধ রাখার বন্দোবস্ত হয়েছে। ৭০০-রও বেশি ওষুধ, সার্জিক্যাল সরঞ্জাম-সহ চিকিৎসা সংক্রান্ত আরও নানা জিনিস রয়েছে এই প্রকল্পের অধীনে। সাধারণ, দুঃস্থ মানুষদের চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় সুযোগ সুবিধা দিতেই এই প্রকল্প চালু করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বাংলার নানা প্রান্তেই রয়েছে এই ভারতীয় জনৌষধি কেন্দ্র। এ বার দুর্গাপুরেও চালু হলো ডঃ বিসি রায় ফার্মাসি কলেজের হাত ধরে।

প্রতিবারই কিছু না কিছু নতুুন পরিকল্পনার দিকে হাঁটে ডঃ বিসি রায় গ্রুপ। প্রযুক্তিতে ডঃ বিসি রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ যেমন কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে, তেমনি গবেষণামূলক কাজে পড়ুয়াদের নতুন দিশা দেখিয়েছে ডঃ বিসি রায়ের ফার্মাসি বিভাগ। এর আগে ডঃ বিসি রায় গ্রুপের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ-সহ মোট চারটি বিভাগের জন্য মউ স্বাক্ষর করেছে মিশন হাসপাতাল। কলেজ পড়ুয়াদের পাশাপাশি, কলেজ কর্তৃপক্ষও হাসপাতালের তরফে চিকিৎসা সংক্রান্ত সবরকম সুযোগ সুবিধা পাবেন, এটাই এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য।

সম্প্রতি কলেজে পড়ুয়াদের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের কনফারেন্সের আয়োজন করেছিল ডঃ বিসি রায় ফার্মাসি কলেজ। BCRCPiCON-2019 আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে ডঃ বিসি রায় গ্রুপ তো বটেই, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, মুম্বই, মালয়েশিয়া-সহ দেশ-বিদেশের প্রায় ২৩টি কলেজ অংশগ্রহণ করেছিল।

দুর্গাপুরের ডঃ বিসি রায় গ্রুপের ফার্মাসি বিভাগের নাম ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। ফার্মাসি কলেজেই মোট ৩৯টি ল্যাবোরেটরি রয়েছে। গবেষণামূলক কাজে পড়ুয়াদের উৎসাহ দিতেই এই প্রচেষ্টা। তা ছাড়া চলতি বছরে GPAT ও GATE পরীক্ষাতেও তুখোড় ফলাফল করেছে ছাত্রছাত্রীরা। গবেষণায় ফার্মাসি কলেজকে সেরার দৌড়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে বেশ কিছু অর্গানাইজেশনের মৌ স্বাক্ষর করে ফেলেছে ডঃ বিসি রায় গ্রুপ। যাদের মধ্যে রয়েছে মিশন হাসপাতাল, বুর্নেট ফার্মাসিউটিক্যালস, টেকনো রেমেডিজ, ক্যাপলেট ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গেও মৌ নিয়ে কথাবার্তা চলছে।

কারিগরি বিদ্যা তো বটেই, ফার্মাসি থেকে ম্যানেজমেন্ট, প্রতিটি শাখায় কৃতিত্বের ছাপ রাখার জন্য ডঃ বিসি রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের হাতে ইতিমধ্যেই ‘Education Excellence Award 2019’ তুলে দিয়েছে জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল জি ২৪ ঘণ্টা।

আরও পড়ুন:

কারিগরি-ম্যানেজমেন্ট থেকে ফার্মাসি, ২০ বছরের অবিশ্বাস্য সাফল্যের জন্য দুর্গাপুর বিসি রায় ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে পুরস্কৃত করল জি ২৪ ঘণ্টা

Comments are closed.