‘কাটমানি’ দিতে হয়েছিল ২০১৩ সালে, ছ’বছর পরে ফেরতের দাবিতে ঘেরাও-বিক্ষোভ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের কাটমানি ফেরত দেওয়ার দাবিতে বাড়ি ঘেরাও হলো তৃণমূলের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্যের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হস্তক্ষেপ করতে হয় পুলিশকে। অবশেষে আলোচনায় বসার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেই ঘেরাও ওঠে।

    ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগনার জ্যাংরা হাতিয়ারা গ্রাম পঞ্চায়েতের। পঞ্চায়েতের প্রাক্তন সদস্য বাপি রায় ও তাঁর ভাই অমিত রায়ের উপর কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁদের বাড়ি ঘেরাও করেন সাধারণ মানুষ। তাঁদের অভিযোগ, জমি কেনা, বাড়ি করার জন্য কাটমানি দিতে হয়েছে দু’ভাইকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছয় নিউটাউন থানার পুলিশ। তারাই বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। অবশ্য রবিবার আলোচনায় বসার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরেই ঘেরাও ওঠে।

    জ্যাংরা হাতিয়ারা গ্রাম পঞ্চায়েতে গৌরাঙ্গনগর অটো স্ট্যান্ডের পাশে বাড়ি বাপি রায়ের। সেখানেই দু’ভাইয়ের ইঁট, বালি, পাথরের ব্যবসা। বর্তমানে তাঁরা পঞ্চায়েত সদস্যও নন। তাহলে কেন তাঁদের বিরুদ্ধে কাটমানির অভিযোগ।

    বাপি রায় বলেন, “২০১৩ সালের ঘটনা এটা। তখন আমি পঞ্চায়েত সদস্য ছিলাম। আমাদের বাড়ির পাশে একটা জমি ছিল, যার মালিক দমদমে থাকতেন। তিনি একজনকে জমি বিক্রি করেন। কিন্তু যাঁকে জমি বিক্রি করেন, তিনি জমির মালিকানা নিতে পারছিলেন না। কারণ, ওই জমি দেখাশোনা করার দায়িত্বে থাকা এক স্থানীয় যুবক তার উপর কব্জা করে বসেছিল। তখনই জমির মালিক ও ক্রেতা পঞ্চায়েত প্রধান শিবু গায়েনের কাছে আসেন।”

    অমিত রায়ের বক্তব্য, “সেই জমির রফা হয়ে যাওয়ার পর জমির ক্রেতা খুশি হয়ে প্রধানকে চার লক্ষ টাকা দেন। প্রধান আমাদের দুই ভাইকে ডেকে বলেন, আমি ১.৫ লাখ রাখছি, তোরা ২.৫ লাখ ভাগ করে নিস। তখন আমরা বলি, দাদা আপনি ১ লাখ নিন। আমাদের তো অনেক জন আছি। সবাইকে ভাগ দিতে হবে। ভাগে কম পড়ে যাবে। তাহলে এটা কাটমানি কীভাবে হয়? খুশি হয়ে কিছু দেওয়াকে কি কাটমানি বলে?”

    এই বিষয়ে অবশ্য সিপিএম ও বিজেপির উপর দোষ চাপিয়েছেন দু’ভাই। তাঁদের দাবি, সিপিএমের ছেলেরা এখন বিজেপি হয়ে এই চাপ দিচ্ছে। তাঁদের বিরুদ্ধে যে আরও অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলি অস্বীকার করেছেন তাঁরা। অবশ্য এই চার লক্ষ টাকার ক্ষেত্রে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছেন তাঁরা।

    বাপি রায় বলেন, “কাল আমরা আলোচনায় বসছি। জমির মালিক বললে টাকা ফেরত দিয়ে দেব। তবে এটা কিন্তু কাটমানি নয়, দালালি। সবাই তো এই করেই খায়। আমরাও তাই করি। এতে কিছু দোষের নেই।” তবে তাঁরা যাই বলুন না কেন, এলাকার মানুষ কিন্তু রেগে রয়েছেন দুজনের উপর। সকালের ঘেরাওই সে কথা বলছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More