ভোটের ‘বিধান’! কংগ্রেস অফিসে ছুটলেন বাম নেতারা, কিন্তু ৮ জুলাই কী হবে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট কী জিনিস!

    এই কয়েক বছর আগেও ৫৯-এর খাদ্য আন্দোলনের শহিদ দিবস উদযাপন করতে গিয়ে ৩১ অগস্ট সকাল বেলা পাড়ায় পাড়ায় মাইক লাগিয়ে বিধান রায়ের তীব্র সমালোচনা করতেন বামেরা। আর একুশের ভোটের আগে বদলে গেল ভোল। বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত বিধান রায়ের স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রদেশ কংগ্রেস দফতরে ছুটে গেলেন রাজ্য বামফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। আগামী কাল, বিষ্যুদবার প্রয়াত ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা অশোক ঘোষের জন্মদিন। সেই অনুষ্ঠানে নাকি আবার হেমন্ত বসু ভবনে আসবেন সোমেন মিত্র, প্রদীপ ভট্টাচার্যরা। সব মিলিয়ে একুশের ভোটের আগে ফের যেন তেলে-জলে মিলে যাওয়ার ওয়ার্মআপ শুরু করে দিল আলিমুদ্দিন স্ট্রিট এবং বিধান ভবন।

    এদিনের অনুষ্ঠান বিধান রায় মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে হলেও বকলমে যে তা কংগ্রেসের সেটা কারও বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু ছুৎমার্গ রাখলেন বাম নেতারা। সেই অনুষ্ঠানে শুধু গেলেন না, মেনেও নিলেন বাংলার রূপকার বিধানচন্দ্র রায়। সিপিএমের সুজন চক্রবর্তী, ফরওয়ার্ড ব্লকের নরেন চট্টোপাধ্যায়, আরএসপির মনোজ ভট্টাচার্য, সিপিআইয়ের স্বপন বন্দ্যোপাধ্যায়রা হাজির ছিলেন সেই অনুষ্ঠানে। আর বাম নেতাদের উপস্থিতিতে আপ্লুত সোমেন মিত্র, প্রদীপ ভট্টাচার্য, শুভঙ্কর সরকার, অমিতাভ চক্রবর্তীরা।

    রাজনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করেন, ২০১৬ সালের পর যদি বাম-কংগ্রেস জোট না ভাঙত তাহলে তৃণমূল বিরোধিতার পরিসরে বিজেপি এতটা ফাঁকা মাঠ পেত না। কিন্তু তা হয়নি। উনিশের ভোটের আগে আসন রফা নিয়ে একাধিক বৈঠক হলেও জোট হয়নি বাম-কংগ্রেসের। ১৬ পরবর্তী সময়ে পার্টি কংগ্রেসের দলিলকে শিখণ্ডি করে কংগ্রেসের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধাকে অসঙ্গতিপূর্ণ বলে তকমা সেঁটে দিয়েছিল সিপিএম। সীতারাম ইয়েচুরি আলিমুদ্দিনের পাশে দাঁড়ালেও প্রকাশ কারাট শিবিরের চাপে বঙ্গ সিপিএমের নেতারা আর মুখে রা কাটতে পারেননি।

    এর আগে মহাত্মা গান্ধীর সার্ধ শতবর্ষ উদযাপনের সূচনা অনুষ্ঠানে পিসিসি অফিসে গিয়েছিলেন সূর্য মিশ্র, বিমান বসুরা। যদিও আজ বিমানবাবু যাননি। ঘটনাচক্রে আজ বামফ্রন্ট চেয়ারম্যানেরও ৮০ তম জন্মদিন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অনুষ্ঠান ছিল আসলে দুই শিবিরের নিচু তলায় বার্তা দেওয়ার জন্য। বুঝিয়ে দেওয়া, এবার আর ঘোমটার তলায় খ্যামটা নাচা যাবে না। তারপরই কৌতুহল তৈরি হয়েছে, তাহলে ৮ জুলাই কী হবে। ওই দিন প্রয়াত আরএক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর জন্মদিন। দলগত ভাবে সিপিএম কোনও অনুষ্ঠান না করলেও জ্যোতি বসু ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কর্মসূচি হয় প্রতিবার। যার মূল উদ্যোক্তা প্রয়াত সুভাষ চক্রবর্তীর স্ত্রী রমলা চক্রবর্তী। সূত্রের খবর, ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হবে কংগ্রেস নেতাদের।

    এমনিতে কংগ্রেস সম্পর্কে এতদিন বাম নেতারা যা বলতেন সে ব্যাপারে বেশ কয়েক মাস ধরেই নীরব। এমনকি ২৫ জুন জরুরি অবস্থা জারির দিনেও সূর্য, সীতারামদের টুইটার হ্যান্ডল থেকে একটি শব্দও লেখা হয়নি। কংগ্রেস নেতারাও টেলিভিশন চ্যানেলের বিতর্কে ৩৪ বছর নিয়ে একটি শব্দও বলছেন না ইদানিং। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের অনেকেরই প্রশ্ন, এখন বাংলার যা রাজনৈতিক পরিস্থিতি, মানুষ যে ভাবে হয় তৃণমূল নয় বিজেপিতে মানসিক ভাবে ঢুকে গিয়েছেন, সেখানে দাঁড়িয়ে সত্যিই কি এই গাঁটবন্ধনের কোনও প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে?

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More