বাম-কংগ্রেস জোট সরকার গঠনের লক্ষ্যে এগোবে, অপপ্রচারে কান দেবেন না: অধীর চৌধুরী

অধীর চৌধুরীর নাম যেদিন কংগ্রেস হাই কমান্ড প্রদেশ সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেছিল, সেদিনই তাঁকে টুইটে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিম। পাল্টা টুইটে লোকসভায় কংগ্রেস দলনেতা বলেছিলেন, "সেলিম ভাই, একসঙ্গে লড়ব!"

৩৮

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একুশের ভোটে বাম-কংগ্রেস জোট সরকার গঠনের লক্ষ্যে এগোবে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী। সেই সঙ্গে বাম ও কংগ্রেস কর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে অধীরবাবু বলেন, জোট নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে। কেউ অপপ্রচারে কান দেবেন না। বহরমপুরের সাংসদ এও বলেছেন, ভবিষ্যতেও জোট নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা হবে।

অধীর চৌধুরীর নাম যেদিন কংগ্রেস হাই কমান্ড প্রদেশ সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করেছিল, সেদিনই তাঁকে টুইটে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য মহম্মদ সেলিম। পাল্টা টুইটে লোকসভায় কংগ্রেস দলনেতা বলেছিলেন, “সেলিম ভাই, একসঙ্গে লড়ব!”

দুই দলের দুই শীর্ষ নেতা বুঝিয়ে দিতে চেয়েছিলেন, এবার জোট হবে খোলাখুলি। ঘোমটার আড়ালে খ্যামটা নাচার দিন শেষ। কিন্তু সম্প্রতি একুশের ভোটে জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশ কিছু খবর রটেছে। বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমও লিখতে শুরু করেছিল, আসন বন্টন নিয়ে বনিবনা না হওয়ার কারণে ভেস্তে যেতে পারে জোট।

কিন্তু সিপিএম ও কংগ্রেস সূত্রে জানা যাচ্ছে, আসন ভাগাভাগি কী প্রক্রিয়ায় হবে, কারা কটা আসনে লড়বেন এসব নিয়ে কথাবার্তা হবে পুজো মিটলে। যদিও সিপিএম তথা বামফ্রন্ট চায় নতুন বছর পরার আগেই প্রার্থী পদ ঠিক করে ফেলতে। যাতে বাকি কয়েক মাস নির্দিষ্ট বিধানসভায় প্রার্থীকে সামনে রেখে আন্দোলন-সংগ্রাম জারি রাখা যায়।

আগামী নির্বাচনে কংগ্রেস ও কমিউনিস্ট যাকে বলা হয় – বাম ও কংগ্রেস জোট এই বাংলার তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করে সরকার…

Adhir Ranjan Chowdhury এতে পোস্ট করেছেন মঙ্গলবার, 13 অক্টোবর, 2020

২০১৬ সালে ঐতিহাসিক জোট হয়েছিল বাংলায়। যদিও সরকার গঠনের ধারে কাছে যেতে পারেনি তারা। কিন্তু নির্বাচনী ফল বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছিল, বাংলায় এমন অন্তত ৪০-৪৫টি আসন ছিল যেগুলিতে একেবারেই অল্প ভোটে হেরেছিল জোট প্রার্থীরা। সেই সময়ে অনেকে বলেছিলেন, এই জোট আরও আগে পথ চলা শুরু করলে তৃণমূলের দ্বিতীয় বার সরকার গঠন করা সংশয়ের মধ্যে পড়ে যেতে পারত।

যদিও তারপর জোট ভেঙে দেয় সিপিএম। পলিটব্যুরোর ধমক খেয়ে পিছু হঠতে হয় আলিমুদ্দিনকে। উনিশের লোকসভার আগেও অনেক বৈঠক করেও সমঝোতা হয়নি বাম-কংগ্রেসের। একুশের আগে সেই রাজনৈতিক ‘ধ্যাষ্টামো’ আর হোক চাইছেন না বাম-কংগ্রেস নেতারা।

তাই এবার আগে থেকেই রাস্তায় কর্মসূচি শুরু করেছে বাম-কংগ্রেস। একক কর্মসূচির পাশপাশি কেন্দ্রীয় ভাবে তথা জেলায় জেলায় যৌথ কর্মসূচিও দেখা যাচ্ছে।

যদিও তৃণমূল ও বিজেপি দু’পক্ষই এই জোটকে কটাক্ষ করেছে। তৃণমূলের বক্তব্য, বাংলায় বিজেপি বিরোধী সমস্ত মানুষের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই লড়াইয়ের মাঝে আর কেউ নেই। তা ছাড়া তাঁদের আরও বক্তব্য, যতই নেতারা চাপিয়ে দিক, নিচু তলার কংগ্রেস কর্মীরা কেউ সিপিএমকে ভোট দেবেন না। কারণ তাঁরা ৩৪ বছর ধরে লাল সন্ত্রাস দেখেছেন। বিজেপির বক্তব্য, দু’টো অপ্রাসঙ্গিক দল কী করল তার কোনও মূল্য নেই। তৃণমূলের.সরকারকে হঠাতে বিজেপিই পারবে, এটা রাজ্যের মানুষ বুঝে গিয়েছেন। সিপিএম-কংগ্রেস জোট করলেও সেই প্রার্থীরা নোটার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More