উমফানের টাকায় যেন তৃণমূলের পকেট না ভরে, কেন্দ্রীয় টিমকে বলল বাম-কংগ্রেস-বিজেপি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দল আলাদা। নেতা আলাদা। কিন্তু অভিযোগ এক। দাবির মধ্যেও বিশেষ ফারাক নেই।

    সুপার সাইক্লোন উমফান বিধ্বস্ত এলাকার পুনর্গঠনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সাহায্য রাজ্যের দরকার, কিন্তু সেই টাকা যাতে তৃণমূল কংগ্রেস দল লুঠ করতে না পারে তা নিশ্চিত করার দাবি জানাতে কেন্দ্রীয় টিমের সঙ্গে দেখা করল বাম, কংগ্রেস এবং বিজেপির প্রতিনিধি দল। গতকাল, শুক্রবার উমফান বিধ্বস্ত দুই চব্বিশ পরগনা ঘুরে দেখে কেন্দ্রীয় টিম। শনিবার আলিপুরের যে হোটেলে কেন্দ্রীয় টিমের সদস্যরা রয়েছেন সেখানে দেখা করতে যান দিলীপ ঘোষ, সুজন চক্রবর্তী, আবদুল মান্নানরা।

    বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘষে বলেন, “একটা মোবাইল অ্যাপস বা ওয়েবসাইট করা হোক যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ তাঁদের অভিযোগটা করতে পারেন। বিডিও , পঞ্চায়েত অফিস– কোথাও অভিযোগ নেওয়া হচ্ছে না। মানুষগুলো যাবেন কোথায়?” বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তীও ক্ষতিগ্রস্তদের অনলাইনে ক্ষতিপূরণের আবেদন আবেদন করার সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

    বাম, কংগ্রেস, বিজেপির বক্তব্য, কেন্দ্র টাকা দিক। কিন্তু তা যাতে লুঠ না হয় তার ব্যবস্থা করতে হবে। সুজনবাবু এদিন বলেন, “এখানে টাকা আসা মানেই তৃণমূলের ছুটকো নেতাদের পকেট ভরবে। কাটমানি যাতে শাসকদল না খেতে পারে তার বন্দোবস্ত করতে হবে।” দিলীপবাবুর বক্তব্য, “যে এক হাজার কোটি টাকা ইতিমধ্যেই এসেছে তা নিয়েও দুর্নীতি হয়েছে। তৃণমূলের যে নেতাদের পাকা বাড়ি রয়েছে, তারাও ২০ হাজার টাকা করে পেয়েছেন। অথচ যাঁরা সত্যিকারের ভিটেমাটি হারিয়েছেন তাঁরা এখনও একটা ত্রিপলও পাননি।”

    কেন্দ্রের দেওয়া টাকা ঠিক মতো বিলি হচ্ছে কিনা, বাঁধ মেরামতের কাজ কী ভাবে হচ্ছে তা দেখতে একবছরের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার একজন নোডাল অফিসার নিয়োগ করুক বলে দাবি তুলল বিজেপি। কংগ্রেসের তরফে সোমেন মিত্র, আবদুল মান্নানরাও কেন্দ্রীয় টিমকে বলেন, এ রাজ্যে কাটমানি নেওয়াটাকে বর্তমান শাসকদল সংস্কৃতি করে ফেলেছে। তা যাতে আটকানো যায় কেন্দ্রীয় সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

    দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, “গতকাল মুখ্যমন্ত্রী তাঁর দলকে নির্দেশ দিয়েছেন ভোটের প্রস্তুতি শুরু করতে। তার মানে কী? উনি গন্ধ পেয়ে গিয়েছেন টাকা আসবে। এবার দলকে বলে দিলেন লুঠ করতে নামো।”

    সাগরদ্বীপ, নামখানা-সহ বাদাবনের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও সরকার ত্রাণ পৌঁছয়নি বলে অভিযোগ করেন যাদবপুরের বিধায়ক সুজনবাবু। তিনি বলেন, এই বিপর্যয় রাজ্যের একার পক্ষে সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। কেন্দ্রের সাহায্য দরকার। সেই দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারকে পালন করতে হবে। কিন্তু দিল্লিকে এও নিশ্চিত করতে হবে আসল ক্ষতিগ্রস্তদের কাছেই যেন টাকা যায়। তার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। তৃণমূলের নেতারা যেন গরিবের টাকায় থাবা বসাতে না পারে।

    যদিও তৃণমূলের তরফে পাল্টা আক্রমণ শানিয়ে বলা হয়েছে, এই তিনটে দলই বাংলার মানুষের শত্রু। এরা মানুষের বিপর্যয় নিয়েও রাজনীতি করতে নেমে পড়েছে। এর থেকে লজ্জার আর কিছু হয় না।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More