শুক্রবার, নভেম্বর ২২
TheWall
TheWall

বাম-কংগ্রেসের একুশের খেলা কী, করিমপুরের প্রার্থী দিয়েই বুঝিয়ে দিলেন বিমান-সোমেনরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোনও ঢাকঢাক গুড়গুড় নেই। একেবারে খোলামেলা। পাশাপাশি বসে সাংবাদিক বৈঠক করে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র বুধবারই জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিন কেন্দ্রের উপনির্বাচনে একসঙ্গে লড়বেন তাঁরা। আর বৃহস্পতিবার দুপুরে সিপিএমের প্রার্থীর নাম ঘোষণার পর অনেকেই বলছেন, শুধু করিমপুরের প্রার্থী দেখেই আন্দাজ করা যাচ্ছে, একুশের ভোটে বাম-কংগ্রেসের আসল খেলাটা কী!

নদিয়ার করিমপুর কেন্দ্রে গোলাম রাব্বিকে প্রার্থী করেছে সিপিএম। দলের যুব ফ্রণ্ট ডিওয়াইএফআইয়ের জেলা সম্পাদক ছিলেন রাব্বি। ৪১ বছর বয়সী এই নেতা তেহট্ট কোর্টের বেশ নাম করা উকিল। কিন্তু এসব তো তাঁর রাজনৈতিক জবীনপঞ্জি। গোটা করিমপুর কেন্দ্রে ৪২ শতাংশ ভোটার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। করিমপুর-২ ব্লকে আবার তাঁরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ, কম-বেশি ৮০ শতাংশ। পর্যবেক্ষকদের মতে, এটাই বাম-কংগ্রেসের কৌশল। সংখ্যালঘু ভোটে বাংলার শাসক দলের যে আধিপত্য, তাতে ভাগ বসানো। উদ্দেশ্য, যাতে তৃণমূলের যাত্রা ভঙ্গ হয়।

তৃণমূল এই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছে বিমলেন্দু সিংহরায়কে। অনেকের মতে, ইচ্ছে করেই তৃণমূল এই কেন্দ্রে সংখ্যালঘু প্রার্থী দেয়নি। কারণ, বিগত নির্বাচনগুলির ফলাফলই বলছে, রাজ্যের মুসলমান ভোটের সিংহভাগ গিয়েছে তৃণমূলের বাক্সে। কিন্তু এখানে যদি সংখ্যালঘু প্রার্থী তৃণমূলের তরফে দেওয়া হত, তাহলে বিজেপি তা নিয়ে মেরুকরণ আরও তীব্র করত বলে শাসকদলের আশঙ্কা। বিমলেন্দুবাবুকে প্রার্থী করায় বিজেপির হিন্দু ভোটেও আধিপত্য থাকবে না বলেই তৃণমূলের ধারণা। সেই সমীকরণের কথা মাথায় রেখেই প্রার্থী বাছাই করেছে শাসকদল।

রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, বিধানভবন আর আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের নেতাদের হিসেব একেবারে স্পষ্ট। তাঁরা যেনতেন প্রকারেণ তৃণমূলের ভিতে ধাক্কা দিতে চাইছেন। কারণ তাঁরা মনে করছেন, এটা সম্ভব হলে তবেই বাংলার রাজনীতিতে তাঁদের একটা পরিসর তৈরি হবে। প্রাসঙ্গিকতা ফিরে আসবে।

মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে পড়ে এই করিমপুর বিধানসভা কেন্দ্র। বাম ও কংগ্রেস নেতাদের বক্তব্য, লোকসভার ফলকে যদি বিধানসভাওয়াড়ি হিসেব করা যায়, দু’পক্ষের মিলিত ভোট প্রায় ২৯ শতাংশ। লোকসভাতে এই কেন্দ্রে বিজেপি খুব একটা ভাল ফল করতে পারেনি। তুলনায় নোটায় ভোট পড়েছিল প্রায় ১৪ হাজার। বিজেপির স্থানীয় নেতাদের মতে, মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে যেহেতু হুমায়ুন কবীর প্রার্থী ছিলেন, সে কারণে নিজেদের ভোট ধরে রাখতে পারেনি গেরুয়া শিবির। বিজেপির আশা, উপনির্বাচনে নোটার ভোট অনেকটাই ফিরবে।

আবদুল মান্নানের মতো কংগ্রেস নেতারা যদিও বিজেপিকে ঠেকাতে উপনির্বাচনে একের বিরুদ্ধে এক প্রার্থী দেওয়ার কথা বলেছিলেন, কিন্তু সোমেন মিত্রদের অঙ্ক অন্য। তা হল তৃণমূলের নিশ্চিত ভোটে ধাক্কা দেওয়া। তাহলে শাসকদলকে একটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেওয়া যাবে। পর্যবেক্ষকদের আরও বক্তব্য, এই করিমপুর আসন শুধু উদাহরণ মাত্র। তাঁদের কথায়, আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পেতে বাম-কংগ্রেসের এটাই ন্যূনতম অভিন্ন কর্মসূচি হতে চলেছে।

পড়ুন ‘দ্য ওয়াল’ পুজো ম্যাগাজিন ২০১৯ – এ প্রকাশিত গল্প

Comments are closed.