রবিবার, এপ্রিল ২১

সিঙ্গুরের উলটপুরাণ ভাঙড়ে, জমি আন্দোলনের নেতারা সিপিএমের বিকাশের জিপে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের কথা মনে আছে?

কৃষকদের জমি আন্দোলন টলিয়ে দিয়েছিল ৩৪ বছরের ইস্পাত কঠিন বাম সরকারের ভিতকে। এতদিনে বৃত্ত যেন সম্পূর্ণ! ভাঙড়ে জমি আন্দোলনের নেতারা পুনরায় উঠে পড়লেন সিপিএমের জিপে। প্রতিবাদ এখন তাদের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে।

ষোল সালের বিধানসভা ভোটে বাংলায় একাই দু’শ পেরিয়েছিলেন দিদি। কিন্তু তার পর পরই, নবান্ন থেকে মাত্র ত্রিশ কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার ভাঙড় দেখিয়ে দিয়েছিল, বাংলায় সবাই ভাল নেই। যে জমি আন্দোলনের কাঁধে ভর দিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছেন দিদি, সেই জমিতে এখন জট! খোদ কলকাতার উপকন্ঠে কৃষকরা অখুশি। কারণ, সেই জমি অধিগ্রহণ। এবং সেই এক রোগ। অভিযোগ, নন্দীগ্রামে লক্ষণ শেঠদের মতো, ভাঙড়ে মাথা তুলেছে তৃণমূল আশ্রিতদের দাদাগিরি।

ভাঙড়ের সেই অসন্তোষ ও বিক্ষোভ বন্ধ করতে কী না করেছে সরকার। পুলিশ পাঠিয়েছে। প্রশাসনের মাধ্যমে চেষ্টা করছে। এমনকী সব্যসাচী দত্তর নেতৃত্বে পরিস্থিতি ‘ঠাণ্ডা করতে’ ভাঙড়ে বাইরে থেকে ছেলে ঢুকিয়েও দিয়েছিল তৃণমূল। তাতেও কিন্তু অসন্তোষ দমানো যায়নি।

বরং এখন দেখা যাচ্ছে, যাদবপুর কেন্দ্র থেকে সিপিএম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যকে জেতানোর জন্য প্রাণপাত পরিশ্রম করছেন ভাঙড়ের জমি আন্দোলনের নেতারা। সিপিআইএমএল (রেড স্টার)-এর শীর্ষ নেতা অলীক চক্রবর্তী থেকে শর্মিষ্ঠা চৌধুরী—সকলেই প্রায় দু’বেলা করে প্রচার করছেন বিকাশবাবুর হয়ে। সোমবার দেখা যায়, হুড খোলা জিপে বিকাশবাবুর পাশেই দাঁড়িয়ে রয়েছেন অলীক চক্রবর্তী।

রাজনৈতিক মহলের অনেকেই বলেন, ৭৭ সালে জ্যোতি বসু, হরেকৃষ্ণ কোঙারদের মসনদে বসাতে মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিল জমি আন্দোলন। আবার সেই জমি আন্দোলনের ধাক্কাতেই ক্ষমতা থেকে সরতে হয়েছিল বামেদের। নন্দীগ্রাম, সিঙ্গুর আন্দোলনের সময় অতিবাম শক্তিও দাঁড়িয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে। নকশালাইড ফ্র্যাকশনের বহু সংগঠন সে সময় সরাসরি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সরকারের বিরোধিতায় রাস্তায় নেমেছিল। কিন্তু কী এমন হল, যে সেই সিপিএম-কেই সমর্থন করল ভাঙড়ের জমি কমিটি?

রেড স্টার নেত্রী শর্মিষ্ঠা চৌধুরী স্পষ্ট বলেন, “আমরা সিপিএমের হয়ে প্রচার করছি না। আমরা বিকাশরঞ্জন ভটাচার্যের হয়ে প্রচার করছি।” কিন্তু বিকাশবাবু মানে কি সিপিএম নয়? শর্মিষ্ঠার কথায়, “বিকাশবাবুর জায়গায় যদি অন্য কেউ প্রার্থী হতেন, আমরা সমর্থন করতাম না। শুধু বিকাশবাবু বলেই করছি।”

স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসে কেন? সেই উত্তরে জমি আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী বলেন, “বিকাশবাবু প্রথম দিন থেকে জমি আন্দোলনের পাশে ছিলেন। উনি ভাঙড়ের মানুষের বন্ধু।” ভাঙড়ের দেওয়াল জুড়ে কোথাও বিকাশবাবু বামফ্রন্টের প্রার্থী নন। সেখানে তিনি জমি কমিটির মনোনীত প্রার্থী।

পর্যবেক্ষকদের মতে, যাদবপুর লোকসভায় এ বার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। আর সিপিএম প্রার্থীকে জমি কমিটির সমর্থন সেই লড়াইকে আরও জমিয়ে দিয়েছে। চোদ্দর ভোটেও ভাঙড়ে প্রচার করতে গিয়ে কালঘাম ছুটে গিয়েছিল সিপিএমের। কিন্তু এ বার একেবারে উলটো ছবি। পরপর ভাঙড়ে প্রচারে যাচ্ছেন দুঁদে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। সেখানে পোলেরহাটের মতো জমি কমিটির শক্ত ঘাঁটিতে তৃণমূলের প্রায় দেখাই নেই।

রাজনৈতিক মহলের অনেকের মতে, যাদবপুর লোকসভা ভোটে তৃণমূলের পক্ষে সব সময়েই সহায় হয়েছে ভাঙড়ের সংখ্যালঘু ভোট। সেই ভোট এ বার যদি সিপিএমের দিকে যায় বা বামেরা তাতে ভাগ বসায়, তা শাসক দলের জন্য উদ্বেগের কারণ বইকি। তাঁদের কথায়, সিঙ্গুরের কৃষিজমি রক্ষা কমিটি এবং জঙ্গলমহলের জনসাধারণের কমিটি, এই দুটি মঞ্চই বাম সরকারের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছিল। ফলাফল কী হবে তা তো জানা যাবে ২৩ মে। তবে এখনও পর্যন্ত যা ছবি, তাতে ভাঙড়ের লড়াইয়ে মোটেই ফাঁকা মাঠ পাচ্ছে না শাসক দল।

আরও পড়ুন

Breaking: মোদী ক্ষমতায় ফিরলে ভারত-পাক শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা বাড়বে: ইমরান খান

Shares

Comments are closed.