নতুন শেষের কবিতা? শিলং-এর পথে গাড়ি থেকে কুণাল বললেন, ‘লাবণ্য শুনতে পাচ্ছ?’

১৭

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কুণাল ঘোষ কি নতুন শেষের কবিতা লিখতে চলেছেন?

শিলং। মেঘালয়ের পাহাড় ঘেরা ছবির মতো এই শহরই ছিল রবীন্দ্রনাথের ‘শেষের কবিতা’র প্রেক্ষাপট। আপাতত সেই শিলং এখন বঙ্গ রাজনীতির অন্যতম চর্চার জায়গা। চিটফান্ড কাণ্ডে সেখানে সিবিআই জেরা করছে কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে। সারদা কাণ্ডে অন্যতম অভিযুক্ত তৃণমূলের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ কুণাল ঘোষকেও সেখানে ডেকেছেন গোয়েন্দারা। জামিনের শর্ত মেনে সাংবাদিক থেকে সাংসদ হওয়া কুণালও পৌঁছে গিয়েছেন শৈল শহরে। শনিবার দুপুরেই মেঘালয়ে নেমে গাড়িতে শিলং-এর উদ্দেশে রওনা দেন ‘এক ফোনে এক লাখ’-এর হোস্ট। আর যেতে যেতেই গাড়িতে বসে মেঘালয়ের মেঘলা আকাশ এবং পাহাড়ি রাস্তার ছবি তুলে পোস্ট করেন ফেসবুকে। ক্যাপশনের প্রথম লাইনে লেখেন, ‘শিলং পাহাড়। আসছি।’ কিন্তু জেরার আগেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা বাড়িয়েছে তাঁর দ্বিতীয় লাইন। যেখানে তিনি লিখেছেন, ‘লাবণ্য, শুনতে পাচ্ছ?’

প্রসঙ্গত, শেষের কবিতার অন্যতম চরিত্রের নাম লাবণ্য। কিন্তু এখানে কাকে লাবণ্য বলতে চাইলেন কুণাল? প্রাক্তন সাংসদ তাঁর ফেসবুক পোস্টে সেই ব্যাখ্যা না দিলেও, অনেকেই নিজেদের মতো ব্যাখ্যা করতে শুরু করে দিয়েছেন।

সারদা কেলেঙ্কারিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে কুণালকে গ্রেফতার করেছিল রাজ্য সরকারের গঠন করা স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট)। যার মাথায় ছিলেন বিধাননগরের তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার। কুণাল জেলে থাকার সময় যখন আদালতে হাজিরা দিতে আসতেন, তখন বারবার সুর চড়াতেন রাজ্য পুলিশ এবং শাসক দলের নেতানেত্রীদের বিরুদ্ধে। ব্যাঙ্কশাল আদালতের বাইরে এমনও বহুবার দেখা গিয়েছে, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কুণাল যখন প্রিজন ভ্যানে ওঠা বা নামার সময় কথা বলতেন, তখন অভিনব স্টাইলে তা রুখে দিত পুলিশ। গাড়ির টিন বাজিয়ে আর মুখে হা রে রে রে শব্দ করে এমন পরিবেশ তৈরি করা হতো, যাতে কুণালের কণ্ঠস্বর কেউ শুনতে না পায়। সেই কুণাল এখন জামিনে। তাঁর জামিনের অন্যতম শর্তই তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে। তাই সিবিআই নোটিস দেওয়ার পর মেঘালয় যাওয়া নিয়ে দু’বার ভাবেননি একদা দিদি-ঘনিষ্ঠ সাংবাদিক। পুলিশের বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষোভ আগেও জানিয়েছেন তিনি। বিধাননগরের তৎকালীন গোয়েন্দাপ্রধান অর্ণব ঘোষের বিরুদ্ধে কুণালের ক্রোধ তো সীমাহীন।

জামিন পাওয়ার পর যতবার সিবিআই কুণালকে ডেকেছিলেন, নির্দিষ্ট সময়ে সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। গোয়েন্দাদের তিনি নাকি পষ্টাপষ্টি বলে দিয়েছিলেন, রাজ্য পুলিশের নেতৃত্বে থাকা সিট, সারদার অনেক নথি লোপাট করে দিয়েছে। বারবার তিনি নাকি সিবিআই-এর কাছে দাবি জানিয়েছিলেন পুলিশ কর্তাদের মুখোমুখি বসানোর। রাজীবের পর কুণালকে ডাকায় অনেকেই ধরে নিয়েছেন, এ বার হয়তো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।

কিন্তু কোন লাবণ্যকে তাঁর শিলং যাওয়ার কথা শোনাতে চাইলেন কুণাল? জল্পনা কিন্তু রয়েই গেল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More