বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২১
TheWall
TheWall

সিবিআইকে বলেছি, কেন সুরজিৎকে গ্রেফতার করা হবে না: ফেসবুকে কুণাল ঘোষ

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি তথা বর্তমান নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুরজিৎ কর পুরকায়স্থকে চাঁছাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ কুণাল ঘোষ। দীর্ঘ একটি ফেসবুক পোস্টে কুণালবাবু লিখেছেন, “আমি পুলিশকে, কোর্টে, সিবিআইকে বলেছি, কেন সুরজিৎকে গ্রেফতার করা হবে না?” এখানেই থামেননি সারদা কাণ্ডে আপাতত জামিনে থাকা কুণাল। কার্যত হুঁশিয়ারির সুরে কলকাতার প্রাক্তন নগরপাল তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই অফিসারের বিরুদ্ধে কুণালবাবু লিখেছেন, “আমি দাবি করছি, আপনাকে গ্রেফতার করা উচিত। যান, যা পারেন করে নিন।”

হঠাৎ সুরজিতের বিরুদ্ধে জেহাদ কেন কুণালের? তিনি  সেকথাও স্পষ্ট করেছেন ওই পোস্টে। জানিয়েছেন, ক’দিন আগে ইকো পার্কে সরকার আয়োজিত শিল্পপতিদের বিজয়া সম্মিলনীর ফাঁকে কয়েকজন পুলিশকর্তা নিজেদের মধ্যে কথা বলছিলেন। সেখানেই প্রসঙ্গক্রমে কুণালবাবুর নাম ওঠে।  তা শুনেই নাকি সুরজিৎ কর পুরকায়স্থ বেশ কিছু বিশেষণ ব্যবহার করেন কুণাল সম্পর্কে। তা নাকি বেশ তির্যক। এ কথা কুণালবাবু জানলেন কী করে? ফেসবুক পোস্টে প্রাক্তন সাংসদ জানিয়েছেন, ওই অফিসারদের মধ্যে থাকা একজনই তাঁকে বলে দিয়েছেন। জানতে চেয়েছেন, “আচ্ছা, ঐ অফিসারটি আপনার উপর এত চটে কেন?”

এর আগে কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার, বিধাননগরের প্রাক্তন গোয়েন্দা প্রধান অর্ণব ঘোষের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে চিটফান্ড কেলেঙ্কারি নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন কুণালবাবু। কিন্তু সোমবারের ফেসবুক পোস্টে সুরজিতের বিরুদ্ধে যে এমন বিস্ফোরণ হবে তা কে জানত! যেন বারুদ জমেছিল কুণালের ভিতর। জনৈক পুলিশ কর্তার ফোন যেন তাতে দেশলাই কাঠির ভূমিকা নিয়েছে।

এ ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানতে রাজ্যের নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুরজিৎবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল দ্য ওয়াল-এর তরফে। কুণালবাবুর এই ফেসবুক পোস্টের কথা শুনে প্রথমে অবাকই হয়ে যান তিনি। তারপর বলেন, “ইকো পার্কে এই ধরনের কোনও কথা হয়নি। উনি কেন লিখছেন, কোনও কল্পনা থেকে লিখছেন কিনা সে ব্যাপারেও আমি কিছু বলতে পারব না। হতে পারে ওঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে কেউ কিছু বলেছেন।” সারদার অনুষ্ঠানে যাওয়ার ব্যাপারে প্রাক্তন এডিজি আইনশৃঙ্খলার বক্তব্য, “এসব তো অনেক পুরনো ঘটনা। হঠাৎ কেন এসব নিয়ে উনি লিখছেন বা বলছেন আমি জানি না।” তাঁর কথায়, “কুণালবাবু যে অনুষ্ঠানের কথা বলছেন বা ছবি দেখাচ্ছেন, সেটি একটি পাবলিক ফাংশন ছিল। আর পাবলিক ফাংশনে সিনিয়র অফিসাররা যান, এটা কমন ব্যাপার। কিন্তু কুণালবাবু যে অভিযোগ তুলছেন, তার কোনও সারবত্তা নেই, পুরোটাই ভিত্তিহীন।”

কুণালবাবু তাঁর পোস্টে লিখেছেন, “ এই ব্যক্তি যখন রাজ্য পুলিশের আইজি (ল অ্যান্ড অর্ডার) ছিলেন, তখন তিনি সারদার এজেন্ট সম্মেলনে গিয়ে সারদা ও সুদীপ্ত সেনের ঢালাও প্রশংসা করে বক্তৃতা করেছিলেন। এটা কোনও সাধারণ অনুষ্ঠান ছিল না। এটা সারদার নিজস্ব এজেন্টদের সম্মেলন ছিল। এর থেকে সারদা ইমেজ বাড়িয়েছে, এজেন্টরা উৎসাহিত হয়েছেন। কেন গেছিলেন সুরজিৎ? কেন তারপরেও ব্যবস্থা নেননি?” তিনি আরও লিখেছেন, “আমি পুলিশকে, কোর্টে, সিবিআইকে বলেছি, কেন সুরজিৎকে গ্রেফতার করা হবে না? কেন তিনি সারদাকে প্রমোট করেছিলেন? তাঁরা এসব করেছিলেন বলেই তো পরে আমাদের মিডিয়াসূত্রে কাজের পরিস্থিতি হয়েছিল। কেন ব্যবস্থা নেননি সুরজিৎ? আমি  সুদীপ্ত সেনকে পাশে নিয়ে ওঁর ভাষণের ছবি, ভিডিও, সব জমা দিয়েছি। আইপিএসদের নিজস্ব লবির কারণে বহু ক্ষেত্রেই বিষয়গুলি এগোয় না। বুঝতে পারি সব। তবু বারবার চাপ রেখেছি। এসএফআইওর রিপোর্টে ওঁর বিরুদ্ধে তদন্তের সুপারিশ আছে। আমার আবেদনে কোর্টও ওঁর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। যতই তদন্তে নিষ্ক্রিয়তার খেলা চলুক, আমি বারবার পিটিশন চালিয়ে গেছি।”

ওই পোস্টে কুণালবাবু বলেছেন, তিনি সারদা সম্পর্কে কিছু জানতেনই না। সুরজিৎবাবুদের মতো পুলিশ আধিকারিকের প্রশংসা তাঁর মধ্যেও ইতিবাচক মনোভাব জুগিয়েছিল। বোঝাতে চেয়েছেন, এটা যদি তাঁর মনে হয় তাহলে গ্রামের সাধারণ মানুষের মনে হওয়াটা আরও বেশি স্বাভাবিক। তিনি লিখেছেন, “এদের জন্য আজ আমি বিপদে। বহু মানুষ বিপদে। এদের পাপ ঢাকতে আমাকে কলঙ্কিত করা হয়েছে। আবার এরাই সাধু সেজে আমার পিছনে নানা কথা বলবে, এতটা সহ্য করার মানসিকতা আমার নেই।” ফেসবুকে কুণাল ঘোষ এও বলেছেন, সুরজিৎ কর পুরকায়স্থর সাহস নেই তাঁর সামনাসামনি কিছু বলার। তাঁর কথায়, “এরা সব পিছনে কথা বলার ‘মাল’। ক্ষমতা থাকলে সামনে বলে দেখুক। তখন তো হাত কচলে বলবে, কুণালবাবু ভালো আছেন?”

Comments are closed.