বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৮

সব্যসাচীকে পাশে বসিয়ে মেয়র পদের দাবি জানিয়ে রাখলেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধাননগর পুরসভার কপালে বিধির কী বিধান লেখা রয়েছে, তা সময়েই বলবে। আপাতত নাটকের পর নাটক চলছে। সোমবারের ক্লাইম্যাক্স ছিল দেখার মতো! যে সব্যসাচী দত্তকে তৃণমূল ছেড়ে দেওয়ার কথা বলছেন দিদি, তাঁকে পাশে বসিয়েই বিধাননগরের চেয়ারপার্সন কৃষ্ণা চক্রবর্তী বুঝিয়ে দিলেন তিনিই মেয়র পদের অন্যতম দাবিদার।

সব্যসাচীকে যে মেয়র পদ থেকে সরানো জরুরি সে ব্যাপারে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের উপস্থিতিতে রবিবার সর্বসম্মত প্রস্তাব গ্রহণ করেন বিধাননগরের ৩৬ জন কাউন্সিলর। তাতেও হেলদোল নেই সব্যসাচীর। তিনি বলে যাচ্ছিলেন, “কে কোথায় কী করেছেন জানি না। আমাকে দল কিছু বলেনি”। সূত্রের খবর, এই অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শ মেনে সোমবার সব্যসাচীকে মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিতে বলেন ববি হাকিম। তার পর কৃষ্ণা চক্রবর্তীকে তিনি ফোন করে বলেন, যেন দুপুরের মধ্যে পুর ভবনে পৌঁছে যান। কারণ, সব্যসাচী ইস্তফা দিলে তা চেয়ারপার্সনের কাছেই পেশ করবেন।

কৃষ্ণা যেমন পুর ভবনে পৌঁছন। তেমনই মেয়রের অফিসে পৌঁছে যান সব্যসাচীও। তার পর চেয়ারপার্সনের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর ঘরে চলে যান। সেখানে হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়ে সংবাদমাধ্যম। তার পর ক্যামেরার সামনেই চলতে থাকে নাটক। সব্যসাচী যেমন বলেন, তাঁকে কেউ ইস্তফা দিতে বলেননি। তাই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তেমনই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এক সময় কৃষ্ণা চক্রবর্তীও বলেন, বিধাননগরের মেয়র পদে বসার আগ্রহ ছিল তাঁর। এখনও রয়েছে। তবে সবার উপরে দিদি সত্য। তিনি যখন যা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাই মেনে নিয়েছেন তিনি। এর পরই তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে স্মরণ করিয়ে দিতে চান, ৮০ সাল থেকে দিদি-র সঙ্গে রয়েছেন তিনি। ঝড়, জল, ঝঞ্ঝা দেখেছেন। রাজনীতিতে লড়াই করে এগিয়েছেন।

কৃষ্ণা চক্রবর্তীর এই মন্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কারণ, সব্যসাচীকে মেয়র পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মেয়র পদের উপর অনেকের নজর পড়েছে। এই অবস্থায় কৃষ্ণা চক্রবর্তী কার্যত স্মরণ করিয়ে দিতে চেয়েছেন, তিনি মেয়র পদের দাবিদার শুধু নন, দলের পুরনো সৈনিক। তাপস চক্রবর্তী, সুজিত বসু বা সব্যসাচী দত্তরা তাঁর অনেক পরে দলে এসেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যুব কংগ্রেসের নেত্রী থাকার সময় থেকেই কৃষ্ণা চক্রবর্তী তাঁর অনুগামী। বলতে গেলে, দিদি-বোনের সম্পর্ক তাঁদের। বিধাননগরের কোনও কাউন্সিলরেরই তৃণমূল-জীবন তাঁর মতো দীর্ঘ নয়। তা ছাড়া বিধাননগর ও রাজারহাট-গোপালপুর পুরসভা মিশে গিয়ে পুরনিগম হওয়ার আগে কৃষ্ণা চক্রবর্তীই বিধাননগর পুরসভার চেয়ারপার্সন ছিলেন।

প্রশ্ন হল, সমীকরণ যদি এমনই হয়, তা হলে কৃষ্ণা চক্রবর্তীকে কেন দাবি জানিয়ে রাখতে হচ্ছে?

তৃণমূলের একাধিক শীর্ষ নেতার কথায়, দলের পুরনো নেতা নেত্রীরা যে ইদানীং দাম পাচ্ছেন না তা বহু ঘটনায় দেখা গিয়েছে। বিধাননগরের ডেপুটি মেয়র তাপস চট্টোপাধ্যায় সিপিএমের নেতা ছিলেন। কিন্তু তাঁকে মেয়র পদে বসাতে তৃণমূলের মধ্যেই একাংশ সক্রিয়। তাঁরা দিদির উপর এ ব্যাপারে চাপও রেখেছেন। তা আন্দাজ করেই হয়তো হাতের তাস খেলেছেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। দিদি-র স্নেহধন্য হয়েও ঝুঁকি নিতে চাননি।

বিধাননগর পুরসভার বোর্ডের মিটিং ১০ তারিখ হবে তা আগেই ঠিক ছিল। সব্যসাচী তার আগে ইস্তফা না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার জন্য ওই বৈঠকেই সই সাবুদ সংগ্রহ শুরু হয়ে যাবে। তবে শেষমেশ কৃষ্ণা চক্রবর্তীর কপালে শিঁকে ছেঁড়ে কিনা এখন সেটাই দেখার।

Comments are closed.