শুক্রবার, জানুয়ারি ১৮

পাঁচ টাকা ফেললেই স্যানিটারি ন্যাপকিন, বঙ্গে এই প্রথম সুলভ শৌচালয়ে বসলো ভেন্ডিং মেশিন

সোহিনী চক্রবর্তী

রাস্তায় বেরিয়ে খানিকক্ষণ ঘোরাঘুরির পরেই বুঝলেন অস্বস্তিটা কেন হচ্ছিল। ডেটের আগেই পিরিয়ডস হয়েছে। অসাবধানতায় ব্যাগে নেই স্যানিটারি ন্যাপকিন। আশেপাশে চোখে পড়ছে না ওষুধের দোকানও। আর পেলেই বা কী লাভ হতো। চেঞ্জের জন্য একটা জায়গা তো দরকার।

এই অবস্থায় যদি নজরে আসে কোনও ‘পে অ্যান্ড ইউজ টয়লেট’ থুড়ি সুলভ শৌচালয়, তাহলে নির্দ্বিধায় ঢুকে পড়ুন। আপনার সমস্যার সমাধান ওখানেই পাবেন।

কলকাতা শহরের বেশিরভাগ সুলভ শৌচালয়েই এখন স্যানিটারি ন্যাপকিন রাখার ব্যবস্থা চালু হয়েছে। সৌজন্যে ‘কলকাতার প্যাডম্যান’ শোভন মুখোপাধ্যায়। এই খবর জানেনও শহরবাসীর একটা বড় অংশ। তবে এতদিন প্যাড রাখা হতো পিচবোর্ড বা কাঠের তৈরি বাক্সে। কিন্তু এ বার থেকে রাখা থাকবে ভেন্ডিং মেশিনে। প্রয়োজনে পাঁচ টাকার কয়েন ঢোকালেই আপনি পেয়ে যাবেন স্যানিটারি ন্যাপকিন। কয়েন না থাকলেও অসুবিধে নেই। শৌচালয়ের গার্ডরাই সাহায্য করবেন আপনাকে।

গোলপার্কের কাছের ‘পে অ্যান্ড ইউজ’ টয়লেট দিয়েই শুরু হয়েছে এই কাজ। পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম কোনও সুলভ শৌচালয়ে বসানো হলো ভেন্ডিং মেশিন। শোভনের কথায়, “স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে এক ধাপ এগোলাম। ব্যাপারটা খরচ সাপেক্ষ। তাই একবারেই সব জায়গায় বসানো সম্ভব হলো না। তবে ধীরে ধীরে কলকাতার সব পে অ্যান্ড ইউজ টয়লেটেই ভেন্ডিং মেশিন বসে যাবে।”

তবে এ বার শোভন একা নন। তাঁর এই কাজে সাহায্য করেছেন, রোটারি ইন্টারন্যাশনাল (সল্টলেক শাখা) এবং প্রথমা ফাউন্ডেশন। বিবেক জয়ন্তীর আগের দিন, ১১ জানুয়ারি গোলপার্কের ‘পে অ্যান্ড ইউজ টয়লেট’-এ বসানো হয়েছে এই ভেন্ডিং মেশিন। হাজির ছিলেন ৯০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং রোটারি ইন্টারন্যাশনালের আধিকারিকরা।

কিন্তু মেশিন বসালেই তো খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একবার যদি খারাপ হয়ে যায় তখন দেখবে কে? শোভনের জবাব, “আমি তো আছি। ঠিক ব্যবস্থা করে সারিয়ে দেবো।”

বছর বাইশের এই তরুণ জানিয়েছেন, ভেন্ডিং মেশিনে থাকা স্যানিটারি ন্যাপকিন, বাজারে বিক্রি হওয়া আর পাঁচটা প্যাডের তুলনায় খানিকটা আলাদা। কারণ এইসব ন্যাপকিনে ‘স্যাপ জেল’ ব্যবহার করা হয় না।

কী এই ‘স্যাপ জেল’?

এক ধরণের কেমিক্যাল, যা সাধারণত স্যানিটারি ন্যাপিক ব্যবহারে আর পাঁচটা কোম্পানি ইউজ করে থাকে। বাকি প্যাডের তুলনায় এই ন্যাপকিন আরও এক দিক থেকে আলাদা।

শোভন আরও জানিয়েছেন, অন্যান্য প্যাডের থেকে অ্যাবসর্পশন ক্ষমতা (শুষে নেওয়ার ক্ষমতা) এই প্যাডের অনেকাংশেই বেশি। পিরিয়ডসের সময়ে হেভি ফ্লো-এর সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। অনেকের আবার রাস্তাঘাটে চলাফেরাতেও ব্লাড ফ্লো বেড়ে যায়। তাঁদের কথা মাথায় রেখেই উন্নত উপায়ে এই ন্যাপকিন বানানো হয়েছে।

শোভন বলেন, “অনেকের চোখে ৫ টাকা দামটা বেশি লাগতে পারে। তাঁদের বলবো বাকি জিনিসে খরচ কমিয়ে প্লিজ এই খরচটা করুন। কারণ হাইজিনের ক্ষেত্রে রিস্ক নেওয়া একেবারেই উচিত নয়।”

Shares

Comments are closed.