রবিবার, নভেম্বর ১৭

বাংলা নাটককে পেশাদার হতে হবে: সব্যসাচী চক্রবর্তী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯৯১ সালে মঞ্চস্থ হওয়া একটি নাটককে সামান্য পরিবর্তন ঘটিয়ে আবার মঞ্চে ফিরিয়ে আনছে ‘গেমপ্ল্যান স্পোর্টস’। খেয়ালি দস্তিদার পরিচালিত ও অভিনীত পুনর্নিমিত নাটক ‘প্রত্যাশা’র অন্যান্য ভূমিকায় অভিনয় করছেন সবস্যাচী চক্রবর্তী, ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায়, রামাদিত্য রায়, কৌশিকী গুহ, রাহুল দেব বসু, অনুষা বিশ্বনাথন। সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন লোপামুদ্রা মিত্র।

মঙ্গলবার ক্যালকাটা ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে গেমপ্ল্যান স্পোর্টস–এর কর্ণধার মালবিকা ব্যানার্জির উপস্থিতিতে পরিচালক ও অভিনেতারা নাটকের বিষয় ও নাটকটিকে ঘিরে তাঁদের প্রত্যাশার কথা জানালেন।

তিরিশ বছর আগে চন্দ্রা দস্তিদার লিখিত নাটকটি হয়তো সময়ের আগে রচিত হয়েছিল কিন্তু আজ তা প্রবল ভাবে সমসাময়িক বলে জানালেন পরিচালক খেয়ালি দস্তিদার। তিনি বলেন, নাটকটির অবয়বে অন্তরঙ্গ আঙ্গিক বা ইন্টিমেট ফর্ম বজায় রাখতে হয়েছে এবং সেটাই ছিল এই নাটকটি নির্মাণের সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। ফর্ম নরম্যাল বা অ–নাটক ‘প্রত্যাশা’কে করে তুলেছে অনেক তীব্র (intense)। নাট্যদল ‘চার্বাক’–এর প্রাণপুরুষ প্রয়াত জোছন দস্তিদার পরিচালিত নাটকটির পুনর্নির্মাণ তাঁর বাবা–মা’র প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য জানিয়ে পরিচালক উল্লেখ করেন, নাটকটিতে কোনও চমক না থাকলেও চমক রয়েছে অন্যত্র। বাংলা নাটককে পেশাদারী ভাবে উপস্থাপনা করতে এগিয়ে এসেছে ‘গেমপ্ল্যান স্পোর্টস’, যা অদূর ভবিষ্যতে সামগ্রিক ভাবে বাংলা নাট্যজগতকে সমৃদ্ধ করবে।

বিখ্যাত বাচিক শিল্পী ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রথম বাংলা নাটকে অভিনয় করতে চলেছেন। কবি শামসুর রহমানের একটি কবিতার উল্লেখ করে শিল্পী বলেন, ‘শিল্পের কাছে নতজানু’ হতে শিখেছেন বলেই এই নাটকটির প্রস্তুতিতে তিনি কোনও ফাঁক রাখেননি। একটি কবিতার জন্য যেমন সারা জীবন অপেক্ষা করা যায়, তেমনই ‘প্রত্যাশা’র মতো একটি নাটকের জন্যও অপেক্ষা করা যায় আজীবন।

নাটকের অন্যতম অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী বলেন, আটাশ বছর আগে এই নাটকটি যখন মঞ্চস্থ হয় তখন তিনি অভিনয় করতেন ছেলের ভূমিকায়। সেই একই নাটকে তিনি এবার মঞ্চে উপস্থিত হতে চলেছেন পিতার চরিত্রে। কাজটি তাঁর পক্ষে আরও কঠিন এই কারণে যে তাঁর অভিনীত চরিত্রটি সেই সময়ে করতেন তাঁরই অভিনয় শিক্ষক জোছন দস্তিদার।

ক্রমাগত কমে যেতে থাকা বাংলা নাটকের দর্শক আবার কীভাবে ফিরে আসবেন প্রেক্ষাগৃহে জানতে চাইলে ‘দ্য ওয়াল’কে চলচ্চিত্র ও মঞ্চের জনপ্রিয় এই অভিনেতা বলেন, বাংলা নাটককে আদ্যন্ত পেশাদার হতে হবে সমস্ত দিক থেকে। সেটা যেমন প্রয়োজন উপস্থাপনায় তেমনই নজর দিতে হবে দর্শকদের স্বাচ্ছন্দ্যের দিকটিতেও। থিয়েটার হলগুলির যদি আধুনিকীকরণ না করা হয় তাহলে নতুন দর্শকরা নাটক দেখতে আসবেন না। কমার্শিয়াল থিয়েটার, চলতি কথায় যাকে বোর্ড থিয়েটার বলা হয়, তার একটা ঐতিহ্য এই শহরে ছিল। গ্রুপ থিয়েটার– ‘অভাব’ যার একটি চরিত্রচিহ্ন, বদলে যাওয়া সময়ে দর্শককে আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাই ‘প্রত্যাশা’র একজন অভিনেতা হিসেবে তিনি মনে করেন, মূলত একটি গ্রুপ থিয়েটারের প্রযোজনার শরীর থেকে দারিদ্রের চিহ্নগুলি মুছে পেশাদারী দক্ষতার সঙ্গে উপস্থিত করতে পারলে দর্শক আবার ফিরে আসবেন নাটকের অঙ্গনে।

‘প্রত্যাশা’র প্রথম অভিনয় ২৩ নভেম্বর জি.ডি. বিড়লা সভাঘরে। টিকিট পাওয়া যাচ্ছে বুক মাই শো (অনলাইন) এবং বাইলুম–এ (৫৮বি হিন্দুস্তান পার্ক)।

Comments are closed.