পুলিশের বিরুদ্ধে ‘দেহ চুরির’ অভিযোগ নানুরে নিহত বিজেপি কর্মীর পরিবারের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: নানুরে গুলিতে নিহত বিজেপি নেতা স্বরূপ গড়াই-এর দেহ নিয়ে টানাপোড়েন বেড়েই চলেছে। নিহত নেতার পরিবার অভিযোগ করেছে, তাদের না জানিয়েই দেহ নিয়ে চলে যাওয়া হয়েছে বোলপুরে। থানায় পুলিশের বিরুদ্ধেই ‘দেহ চুরির’ অভিযোগ দায়ের করেছে তারা। এমনকী হাইকোর্টে যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকেও সরে আসছে না পরিবার। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, দেহ বোলপুর সিয়ান হাসপাতালের মর্গে আছে। সেখান থেকে পরিবারকে দেহ নিয়ে যেতে আবেদন করেছে তারা।

    সূত্রের খবর, সোমবার ময়নাতদন্তের পর পুলিশ জানায়, স্বরূপবাবুর মৃতদেহ নিয়ে সোজা নানুরে ফিরে যেতে হবে। এ দিকে পরিবার ও রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের দাবি ছিল, নিহত নেতার দেহ প্রথমে রাজ্য বিজেপি অফিসে নিয়ে যাওয়া হবে। তারপরে তা নিয়ে যাওয়া হবে নানুরে। এই নিয়েই পুলিশের সঙ্গে বচসা শুরু হয় তাঁদের।

    কিছুক্ষণের মধ্যেই বিশাল পুলিশবাহিনী এসে পৌঁছয় এনআরএস হাসপাতালে। মুড়ে ফেলা হয় মর্গ চত্বর। শেষ পর্যন্ত দেহ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। পরিবারের তরফে জানানো হয়, এই ব্যাপারে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন করবেন তাঁরা।

    পরিবারের অভিযোগ, সোমবার রাতে তাঁদের না জানিয়ে পুলিশ দেহ নিয়ে চলে যায় বোলপুরে। সেখানে বোলপুর সিয়ান হাসপাতালের মর্গে রাখা হয় স্বরূপ গড়াই-এর দেহ। মঙ্গলবার সকালে পরিবারকে সে খবর জানানো হয়। তারপরেই রাজ্য বিজেপি নেতাদের নেতৃত্বে স্বরূপবাবুর স্ত্রী এনআরএস হাসপাতালের সুপারের সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ করেন, কীভাবে তাঁদের না জানিয়ে দেহ নিয়ে চলে গেল পুলিশ।

    জানা গিয়েছে, এই ব্যাপারে এন্টালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে অভিযোগ নিতে রাজি হয়নি পুলিশ। পরে চাপে পড়ে অভিযোগ নিতে বাধ্য হয় তারা। সেই অভিযোগ নিয়েই এ বার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবে পরিবার।

    পরিবারের দাবি, তাঁরা বোলপুর থেকে দেহ নেবেন না। ফের কলকাতায় এনে তাঁদের হাতে দেহ তুলে দিতে হবে। তারপরে নিজেদের আগের কর্মসূচি অনুযায়ী প্রথমে রাজ্য বিজেপি দফতরে ও তারপরে নানুর নিয়ে গিয়ে শেষকৃত্য করা হবে।

    এ দিকে আবার বোলপুরের সার্কেল ইন্সপেক্টর স্বরূপ গড়াই-এর আত্মীয়দের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন, বোলপুর সিয়ান হাসপাতালের মর্গে দেহ রাখা আছে নিহত বিজেপি নেতার। পরিবারের লোকেরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেখানে এসে দেহ নিয়ে যান।

    শুক্রবার নানুরের রামকৃষ্ণপুর গ্রামে পতাকা লাগাচ্ছিলেন বিজেপি কর্মীরা। তাই নিয়েই অশান্তির সূত্রপাত। সন্ধের সময় দু দলের মধ্যে বচসাও হয়। রাত থেকে শুরু হয় বোমাবাজি। চলে বাড়ি ভাঙচুর ও মারধর।

    বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, পতাকা লাগানোর সময় বচসা হয়েছিল। তারই জেরে রাত থেকে বোমা-মাস্কেট নিয়ে গ্রাম জুড়ে হামলা শুরু করে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। গুলি লাগে তাঁদের কর্মী স্বরূপ গড়াইয়ের বুকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাঁকে বোলপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার নীলরতন সরকার হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More