কাটোয়া পুর এলাকায় বাড়ির মধ্যে নর্দমার জল, ছড়াচ্ছে দূষণ ও দুর্গন্ধ, নতুন পাম্প লাগানোর আশ্বাস প্রশাসকের

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রবল বর্ষণের ফলে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে কাটোয়া পুর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড। নর্দমার জল উপচে শুধু রাস্তায় নয় লোকের বাড়িতেও ঢুকে পড়েছে। ফলে সমস্যায় পড়ে গেছেন এলাকার বাসিন্দারা।

টানা বৃষ্টির ফলে রাস্তার কোথাও এক হাঁটু জল। কোথাও আবার এক কোমর সমান জল। অনেক বাড়ির একতলার আসবাব জলে ডুবে গেছে। গত ৪৮ ঘণ্টার বৃষ্টিতে কাটোয়া পুরসভা এলাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ৯ নম্বর ওয়ার্ড ও ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। করোনা রুখতে এখন যথাসম্ভব পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিতে বলা হচ্ছে। এই অবস্থায় ঘর জলমগ্ন হয়ে পড়ায় সমস্যার পাশাপাশি শঙ্কিত হয়ে পড়ছেন ভুক্তভোগীরা।

এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, “একদিকে করোনার আতঙ্কে দিন কাটছে। সেই সঙ্গে রাস্তা তো বটেই ঘরেও ঢুকছে নর্দমার জল। একে দূষণ ছড়াচ্ছে তার উপরে দুর্গন্ধে ঘরে বাস করাই দায় হয়ে পড়েছে। ঘরে বাচ্চারা রয়েছে। বয়স্করা রয়েছেন। তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।” তাঁদের অভিযোগ, গত দু’দিন ধরে এই দুর্দশার কথা স্থানীয় পুরসভাকে জানালেও কোনও সুরাহা হয়নি।

বাড়ির ভিতরে নর্দমার জল। ছড়াচ্ছে দূষণ।

বিজেপির পূর্ব বর্ধমান জেলার সহ-সভাপতি অনিল দত্ত বলেন, “পুরসভার সব কাজই অপরিকল্পিত। কাজের বদলে ঠিকাদারদের থেকে কাটমানি নিতেই তারা ব্যস্ত। এর ফল ভুগছেন শহরবাসী।”

কাটোয়া পুরসভার প্রশাসক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “কাটোয়া শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড জলমগ্ন হওয়ার খবর জানতে পেরে পাম্পের সাহায্যে জল নিকাশের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ জন্য নতুন পাম্প কেনা হচ্ছে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, এই ভাবে জল জমার অন্যতম কারণ হল পরিকল্পনা ছাড়া বাড়ি তৈরি করা।

তিনি বলেন, “আগামী কাল (শুক্রবার) পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দল গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখার পরে রিপোর্ট তৈরি করবে। সেই রিপোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে পাঠানো হবে যাতে জল নিকাশির স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।”

কাটোয়া পাঁচশো বছরের পুরনো শহর। নিকাশি ব্যবস্থা বেশ খারাপ। নতুন করে যেখানে বসতি তৈরি হচ্ছে সেখানে নর্দমা করা হচ্ছে। অনেক রাস্তাও উঁচু করা হয়েছে। তবে সমস্যা তাতে মিটছে না। শহরের এক দিকে গঙ্গা ও আর এক দিকে অজয় নদ। এখানেই শহরের সব জল গিয়ে পড়ে। নদীর জল বেড়ে গেলে স্লুইস গেট বন্ধ করে দিতে হয়। ফলে নর্দমার জল জমে যায়। দুদিন বিপুল বৃষ্টি হওয়ায় নীচু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। আগে বাড়তি জল পুকুরে গিয়ে পড়ত। এখন পুকুর বুজিয়ে অনেক জায়গায় বাড়ি করা হয়েছে। ফলে জল সেখানেও যেতে পারছে না।

এখন তিনটি পাম্প কাজ করছে। আরও চার থেকে পাঁচটি পাম্প লাগানোর কথা হচ্ছে। স্লুইস গেট খোলা না গেলে তার পরেও পাঁচ থেকে সাত দিন লেগে যেতে পারে জল নামতে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More