শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০

বিস্ফোরক কল্যাণ: হুগলি জেলাটাকে কেউ কেউ বিজেপি-র হাতে তুলে দিতে চেয়েছিল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাদা কাগজে আলতা দিয়ে লেখা কটা পোস্টার হুগলি জেলা তৃণমূলের সার্বিক অবস্থাটাই বেআব্রু করে দিল। শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দলের নেতাদের নাম না করে বললেন, “ গোটা হুগলি জেলাটাকে কেউ কেউ বিজেপি-র হাতে তুলে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু পারেনি।”

কয়েকদিন আগেই তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অশ্লীল পোস্টারে ছয়লাপ হয়ে গিয়েছিল গোটা শ্রীরামপুর শহর। সেই ঘটনায় পুলিশ আটক করেছে রাজ্যের মন্ত্রী তথা সদ্যপ্রাক্তন তৃণমূল জেলা সভাপতি তপন দাশগুপ্ত-ঘনিষ্ঠ অফিসার সমীর সরকারকে। এরপরই কল্যাণবাবু জানিয়ে দিলেন, “এর পিছনে বিরাট ষড়যন্ত্র রয়েছে। এতে যেমন রয়েছে বিরধী দলের নেতারা। তেমন আমাদের দলের কেউ কেউও রয়েছে।” তাঁর কথায়, “নির্বাচনের আগে হুগলি জেলাটাকে তৃণমূল শূন্য করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু শ্রীরামপুরের ক্ষেত্রে সেটা পারেনি। অপরূপা অল্প ভোটে হলেও আরামবাগে জিতেছে। তদন্ত হোক। সব বলব।” কল্যাণবাবুর অভিযোগ, একজন প্রবীণ সাংবাদিকও এর পিছনে রয়েছেন। তাঁর কথায়, “এটা নিছক পোস্টার নয়। এর পিছনে অনেক কিছু রয়েছে। ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে। আরও আসবে।”

যে পুলিশ অফিসারকে আটক করেছে পুলিশ, তিনি নাকি মন্ত্রীর কাছের। এ কথা বলছেন তৃণমূলের নেতারাই। তপনবাবুর বাড়িতে তাঁর নিয়মিত যাতায়াত। কিন্তু বৃহত্তর আয়নায় চোখ রাখলে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূলের ভিতরকার অবস্থাটা আসলে কী। দলকে সঙ্ঘবদ্ধ করতে প্রশান্ত কিশোরকে নিয়োগ করা হয়েছে। চোদ্দর ভোটে নরেন্দ্র মোদীর পালে হাওয়া টানা ভোট কৌশলী এখন তৃণমূলের মেন্টর। একাধিক দাওয়াই দিচ্ছেন তিনি। এবং তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে নির্দেশ দিয়েছেন নেত্রীও। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই যদি তৃণমূলের ভিতরকার অবস্থা হয়, তা হলে গোটা ছবিটা আন্দাজ করাই যাচ্ছে।

এমনিতেই হুগলিতে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে কোনও লুকোছাপা নেই। অনেকে বলেন, জেলায় যতজন বিধায়ক, ততগুলি গোষ্ঠী। তার উপর আবার এ বার হুগলি লোকসভা আসন হারতে হয়েছে বিজেপি-র কাছে। ফলে পর্যবেক্ষকদের মতেও, এই পোস্টার কাণ্ড ছোট ঘটনা নয়। তৃণমূলের সার্বিক ছবির ছোট সংস্করণ বলাই ভাল।

Comments are closed.