গায়ে ছ্যাঁকা-মারধর, কালনায় ভাইপোর অত্যাচারে হাসপাতালে বৃদ্ধ

পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ভাইপোকে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: জোর করে সম্পত্তি লিখিয়ে নেওয়ার পরেও জ্যাঠার উপরে নৃশংস অত্যাচার করার অভিযোগ উঠল এক স্কুল শিক্ষকের বিরুদ্ধে। পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনার ডাঙাপাড়ার ঘটনা। ভাইপোর অত্যাচারে এখন কালনা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন আটষট্টি বছরের বৃদ্ধ প্রমোদবিহারী সান্যাল।

    কেন্দ্রীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী কর্মী ছিলেন প্রমোদবিহারী। তিনি অকৃতদার। তাই ভাইপো বিথীন সান্যালই তাঁর সম্পত্তির উত্তরাধিকারী। বছর চৌত্রিশের বিথীনের বাবা প্রয়াত, তিনি তাঁর মায়ের সঙ্গে থাকেন কালনা শহরে। মাঝেমধ্যেই যান প্রমোদবিহারীর বাড়িতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। অভিযোগ, চাপ দিয়ে তিনি প্রমোদবিহারীর সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখিয়ে নিয়েছেন।

    এলাকার লোকজনের বক্তব্য, সম্পত্তি লিখিয়ে নেওয়ার পরেও প্রমোদবিহারীর ওপর নৃশংস অত্যাচার ও মারধর করতেন পেশায় স্কুল শিক্ষক বিথীন। গায়ে ছ্যাঁকাও দিতেন। এদিনও জ্যাঠার উপরে অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। প্রমোদবিহারী আর্তনাদ করে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে এলে বিথীনকে আটকে রেখে মারধর করেন এলাকার লোকজন। তাঁরা পুলিশে খবর দেন। কালনা থানার পুলিশ এসে আক্রান্ত বৃদ্ধকে কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করে। অভিযুক্ত বিথীনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

    বৃদ্ধ কথা বলার অবস্থায় নেই। তাঁর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধাতু গরম করে গায়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার চিহ্নও রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।

    এলাকার লোকজন জানিয়েছেন, চার দেওয়ালের ভিতর থেকে মাঝেমধ্যেই ভেসে আসত আর্তনাদ ও বাঁচার আকুতি। ঘরের ভিতরে কী ঘটছে তা জানা ছিল না বাইরের লোকজনের। আর্তনাদ শুনে তাঁদের মনে হত ঘরের ভিতরে অমানবিক অত্যাচার করা হচ্ছে। তাঁরা জানতে পারেন যে প্রমোদবিহারীর ভাইপো বিথীনই একাজ করছেন। বিষয়টিকে প্রথমে পারিবারিক বিবাদ বলে ধরে নিয়ে তাঁরা মাথা গলাতেন না।  ভাইপোর প্রতি অন্ধ ভালবাসার দরুণ বৃদ্ধ নিজেও অভিযোগ করতেন না। এদিন প্রতিবেশীরা অত্যাচারের দৃশ্য দেখার পরে আর স্থির থাকতে পারেননি।

    প্রাণ বাঁচাতে আক্রান্ত বৃদ্ধ এদিন ঘর থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে আসতেই লোকে দেখেন যে তাঁর পায়ে অজস্র পোড়া দাগ। তাঁদের অভিযোগ, বৃদ্ধকে দগ্ধ করা হয়েছে এবং নৃশংস ভাবে অত্যাচার করে প্রাণের মারা চেষ্টা করা হয়েছিল।

    জিজ্ঞাসাবাদের পরে এদিন বিথীনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More